Saturday, February 20, 2016

বইমেলা ২০১৬ ও সিলেট সফর

সাক্ষী ছিল শিরস্ত্রাণ -সুহান রিজওয়ান
হিব্রু থেকে ইহুদী -খন্দকার মাহমুদুল হাসান
ইসলাম -ফজলুর রহমান
The red Moulana- Nurul kabir
হুমায়ুন কবির শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ
হৃদয়ে আমার মির্জা গালিব -বুলবুল সরওয়ার

এইগুলা হল দ্বিতীয় দিনের সংগ্রহ। প্রথম দিনের সংগ্রহ ছিল চারখানা। বই কিনতে পারার ব্যাপারটা আনন্দের। আর আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য নাকি বলে বেড়াতে হয়। এতে নাকি আনন্দ বাড়ে। 
আনন্দ আরো বাড়ে যখন Mahmôôd ভাই মেলা থেকে বের হয়ে আমাদের ফাস্টফুডে বসিয়ে শর্মা অর্ডার করেন। কিন্তু শেষে যখন বলেন "এটা সেই অর্থে ট্রীট ছিল না" তখন মনটা চায়...... বইগুলা তারে হাদিয়া দিয়া দেই।
মিয়া! জানতাম আপনে এমন করবেন। এল্লেগাই আমারে বড় স্ট্যাটাস লিখতে মানা করছেন তাই না!! যাতে আপ্নের জারিজুরি ফাস না হয়া যায়!! বুঝছি তো। যান কমু না কাউরে আপনে যে এমন করছেন। তাও আপ্নে ভালা থাকেন






অতঃপর সেদিন রাতেই সিলেট সফর...


দারাসাল বাত ইয়ে হে কে, হাম যাহা যা রাহে হে লোগ উস জাগা কো কিসি ওয়াজা সে লান্ডান বুলাতে হে। ইস কে পিছে এক হিস্টোরিকাল রিজান ভি হে। তো রুলস তো ইয়েহি হোনা চাহিয়ে থা কে, উহা হাওয়াই জাহাজ সে যায়ে। হাম বাস উসি রুলস কো ফালো কার রাহে হে..

আগার চে লোগ উসে বাংলা কা লান্ডান কেহতে হে.. লেকিন হে তো দেশ কে আন্দার হি না? ওয়াতান ভি হামারা,, যুবান ভি হামারা,, ইসি লিয়ে সেলিব্রেট কারনে যা রাহা হু,, হামারে ওয়াতান মে হামারা মাতৃভাষা দিওয়াস কি সেলিব্রেশান...   — traveling to Sylhet Division with Abdullah Farhad from Shahjalal International Airport.






Tuesday, January 12, 2016

বি-বাড়িয়া সংঘর্ষ, মৌলোভীরা প্রতিপক্ষ

বি-বাড়িয়া সংঘর্ষ, মৌলোভীরা প্রতিপক্ষ 

গত সন্ধার কথা,
তখন নিউজে দেখাচ্ছিলো, বি. বাড়িয়ায় পুলিশ ছাত্রলীগ ও মাদরাসা ছাত্রদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। প্রথমে বুঝতে পারছিলামনা, এই ত্রিমুখীর তৃতীয় মুখটা কাদের।
পরে একজন বুঝালো, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যে আইন আর শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এসেছিল, তাদেরকে মিডিয়া তৃতীয়পক্ষ আকারে হাজির করেছে।
আচ্ছা! তাও তো দুইটা পক্ষই হয়, পুলিশ তো আইন শৃংখলা রক্ষার্থে লীগের"সুশৃংখল" ক্যাডারদের পক্ষ নিয়েই  মাদরাসার "উশৃংখল" ছাত্রদের উপর বুলেট ছুড়ছিলো। পক্ষ তো নিয়েই ফেললো পুলিশ। তাই না?
ত্রিমুখীর হিসেব তো মিলছেনা।
এক্ষেত্রে অনেক হিসেব অবশ্য ফেসবুক অনেকসময় মিলিয়ে দেয়। আর সেই অপরাধে ফেসবুককে একাধিকবার আমাদের অধিকারসচেতন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যর্থচেষ্টাও করা হয়েছে। এই ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকতেই হয়তো সেরকম কোন পদক্ষেপ এবার এখনো নেয়া হয়নি।
তাই ফেসবুকের মাধ্যমে সঠিক খবরটা অনেকেই পেয়ে যাচ্ছেন। প্রতি মুহুর্তে আপডেট দিয়ে সেখানকার খবর সারা দেশবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে বি.বাড়িয়ার ভাইয়েরা। সারাদেশ জুড়ে এর প্রতিবাদ হচ্ছে। ইসলামিক দলগুলো বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। ফলাফল হিসেবে ওসি ও এসপির অপসারণও ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।
কিন্তু কথা হচ্ছে,
সবার নিউজফিডে এই আপডেট যাবে না। কারন সবার ফ্রেন্ডলিস্টে এ ঘটনা নিয়ে স্ট্যাটাসদাতা হুজুর বা ঘটনার ভুক্তভোগী থাকবেননা।
তাছাড়া হুজুরদের ঘটনায় এত সিম্প্যাথি দেখানোর টাইমও অনেকের নাই। কারন হুজুররা তো আর ব্যাংক কর্মকর্তা না, যে তারা পুলিশী নির্যাতনে ভুক্তভুগী হয়ে নোট লিখবেন আর সেই নোট বিভিন্ন পোর্টালে পাবলিশ হবে, আর মজা লসের এডমিনের মত এলিট শ্রেণীর ফলোয়ারও হুজুরদের নেই।
তবুও হুজুররা মানুষ, আর একটা নিরপরাধ মানুষ মেরে ফেলাটাকে সাধারণ ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়াটা বেশ কঠিন। এবং যদি সেখানে প্রশাসন জড়িয়ে যায় তাহলে তো বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তখন প্রায় সবাই ঘটনা একটু আধটু জানতে চায়।
সবাই সত্য জেনে গেলে সমস্যা। তাই
মিডিয়া তখন বাকি সবার জন্য উপরের নির্দেশ মোতাবেক খবর সাজায়।  সাজাতে গিয়ে ধরাও খায়, কেউ বলে ব্যবসায়ী আর ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ আর কেউ বলে সিএনজির ভাড়া নিয়ে সিএনজিওয়ালার সাথে সংঘর্ষ। একটার সাথে আরেকটার মিল নাই। হয়তো এসবের মধ্যে কোন একটার সত্যতা রয়েছে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য তো হচ্ছে এই পুরো ব্যাপারটাকে প্রশাসনের দোষমুক্ত করে একটি তুচ্ছ ঘটনা বানিয়ে উপস্থাপন করা। যে ঘটনায় বিশেষভাবে আগ্রহ দেখানোর মত কোন কারণ নেই।
এসব কিছুর আড়ালে থেকে যায় সরকারী এক মন্ত্রীর নির্দেশে দুটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার মত ন্যক্কারজনক ঘটনা। এর প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে নেমে মাদরাসার ছাত্রদের অকারণে গুলি খেয়ে অর্ধশত নিরপরাধ তালিবে এলেমের আহত হবার ঘটনা। গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার পরও তাকে আহত অবস্থায় সেখান থেকে বের করে নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে শহিদ করার মত নির্মম ঘটনা।
আর সেই শহিদ মাসউদ ভাই, হাফেযে কুরআন, কেবল মাত্র হেদায়াতুন্নাহু পড়ছিলেন। জানাযার সময় দুপুর তিনটায় ঘোষনা হবার পরও পুলিশ তার লাশ দীর্ঘসময় আটকে রেখেছিল। এত্তো কিছু ঘটে যাবার পরও যখন মিডিয়া নিহতের ঘটনাকে দিনভর শুধু "কর্তৃপক্ষের দাবী" বলে এড়িয়ে যায়, এবং এত বড় একটা সত্য স্বীকার করতে পুরো একটাদিন সময় নিয়ে ফেলে, তখন আর বুঝার কি বাকি থাকে?
কত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। কতটা ভয় পেলে সরকার এভাবে নিয়ন্ত্রণ চালায় মিডিয়ার উপর। এসব শুনে যদি মানুশের ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত হয়ে ওঠে? আবার যদি ছয় শহিদের রক্তের জবাবের পুনরাবৃত্তি ঘটে?
সত্যিই খুব ভয়ের ব্যাপার।

Thursday, December 10, 2015

বড় চাচ্চু চাচীর বাংলাদেশ সফর- ২০১৫

বড় চাচ্চু বহুদিন পর আসলেন ইউকে থেকে। তিনি একজন শান্তিপ্রিয় ও শান্তিকামী মানুষ। রাজনৈতিক কোন দল সমর্থন করেন না। আর কোন্দলও করেন না। যেটা করেন সেটা হচ্ছে বড় দায়িত্বের সাথে সব দলের সমালোচনা। হয়তো সেটা অত্যাধিক দেশপ্রেম থেকেই করেন। কারন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাই বাংলাদেশ নিয়ে নাকি স্বপ্ন তাকে দেখতেই হয়। 

চাচ্চু ফেসবুক প্রজন্ম না, তবে ভাবসাবে মনেহচ্ছে, অনেকদিন পর আজকে শুরুটা ফেসবুক বন্ধ ও বাকস্বাধিনতা হরনের নিন্দা দিয়েই করবেন। কারণ চাচী এয়ারপোর্টে নেমেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন "হাউ এম আই গনা লিভ উইদাউট ফেইসবুক!!!" তাছাড়া চাচ্চুও এয়ারপোর্টের অব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তাদের দায়ত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে এরইমধ্যে বেশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন সরকারের উপর। 

কিন্তু একি!!! বাংলাদেশের এতসুন্দর পিচঢালা রাস্তা নাকি তাকে মুগ্ধ করে ফেলেছে। ফ্লাইওভার গুলো করাটা এ সরকারের বড় সফলতা। কোন ট্রাফিক নেই। হাউ অরগ্যানাইজড!!! এত্তো সুন্দর করে সাজানো ক্রিস্টমাস ট্রি নাকি লন্ডনের রাস্তায়ও দেখা যায়না।

চাচীর এসবে কিছু আসছে যাচ্ছেনা। ফেসবুক বন্ধের নিন্দা তার শুনতেই হবে। আমি তখনো জানি না যে, সব খুলে দেয়ার যেই প্রতিশ্রুতি তারানারা দিয়েছিলেন, সব কিছু খুলে দিয়ে সে প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই তারা রক্ষা করে ফেলেছেন। তাই আমি চাচীকে খুশি করার জন্য কিছুক্ষন ফেসবুক বন্ধের অপকারীতা বয়ানসহ সরকারের ফ্যাসিবাদি আচরনের তীব্র নিন্দাজ্ঞাপন করলাম। কারন চকলেটস তো সব চাচীর কাছেই। তাই তাকে খুশি করাটা জরুরী। 

এরপর বাসায় এসে আরেকটা খুশির খবর দিলাম "চাচীইইই! ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু ডাই, ফেইসবুক খুইল্লা দিসে, এখন আপনি লাগেজ খুলতেই পারেন, আর চকলেটস বের করতেই পারেন 



পরদিন...


-এত্তো চকলেট!!! সব আমার জন্য!!! 
- এই দুই বক্স স্পেশালি ফর ইউ এন্ড ইউর ফ্রেন্ডস.. বাকি সবারটা পরে দিবো.. ইউ ওয়ানা শেয়ার ইউথ ইউর ফ্রেন্ডস সো আমি আগেই তোমারটা রেডি করে রাখসি...
- থ্যাঙ্কুউউউ চাচী..   

চকলেট বক্স হাতে পাওয়ার পর থেকাই স্মৃতিশক্তি কেমন জানি দুর্বল হয়া যাইতেসে.. আমার ফ্রেন্ডস জানি কারা ছিল??
সবাইরেই এখন অনেক আপন মনে হইতেসে.. একদম ভাই বোনের মতন আপন.. বন্ধু ছাড়া লাইফ তো পসিবল.. কিন্তু চকলেট ছাড়া লাইফ ..... কেমনে পসিবল???

Friday, November 20, 2015

একদা বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ হয়েছিল

আমি সেবার ফ্রান্সে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফ্রান্সের অলিগলি থেকে শুরু করে মহাসড়ক কোনটাই আমার দেখার ভাগ্য হয়নি। কারণ ভিপিএন বলেছিল শুধুমাত্র সে আমাকে সেইখানে বসবাসকারী হিসেবে তাঁর ঠিকানা ধারণ করতে দেবে। তাও শুধু সেই সুবিধাটুকুই গ্রহণ করতে পেরেছিলাম।

তখনকার দেয়া একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস... 

দুইদিন কত্তো আরামসে চালাইলাম, ভিপিএন টিপিএন কিচ্ছুই লাগলো না, আজকে সকালে তাহারা টের পাইলো যে আমি দেশে বইসা দেশদ্রোহী কার্যকলাপ সম্পাদন করিয়া যাইতেছি। বাধা এলো, বিপত্তি এল, বাধ্য হয়ে আশ্রয় চাইলাম ভিপিএনের কাছে। কিন্তু হায় হায়, উনি দেখি আমারে একই সাথে ফ্রান্স আর প্যারিসে পাঠায় দিছেন। 
যাক সমস্যা নাই, আমি কিন্তু পুরাই নিউট্রাল, প্যারিস হামলার পক্ষে বিপক্ষে আমি কোন স্ট্যাটাস দেই নাই, বাইচ্চা গেছি ..

Monday, November 16, 2015

যার যা খুশি লিখতেই পারে, তবে যদি নোংরা হয় অন্যের নিউজফিড...

কোন এক কবি একটু আগে বলছিলেন, হৃদয় নাকি এখন বুক থেকে ফেসবুকে এসে গেছে। তাই বেগ আর আবেগ দুইটাই এখন ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণে। বুক বলতে তো কিছুই নাই, যাহা আছে সবই ফেস। এবং এই ফেস যখন যেই এক্সপ্রেশান দিবে, কোন রকম চিন্তা ভাবনা ছাড়া সেটাই আপনি উগ্রে দিবেন অন্যের নিউজফিডে। কখনো কমেন্টবক্সে আর কখনো ইনবক্সে। কারণ আপনি ফ্রীডম অফ স্পিচে বিশ্বাস করেন। এতে কার কতটুকু মান গেল বা জাত গেল তা দেখে আপনার কাজ নেই। 

পরিক্ষা শেষে এক কাজে এলিফ্যান্ট রোড যাচ্ছি, রিকসায় ফেসবুকিং চলছে। হঠাৎ একটা পোস্টে চোখ আটকে গেল : "মাওলানা হাসান জামিল সাহেব বিদায় নিচ্ছেন ফেসবুক থেকে"...
হাসান জামিল সাহেবকে আমি প্রথম চিনেছি ইউটিউব থেকে। উনার আলোচনাগুলা ভাল লাগে, প্রায়ই শোনা হয়। তাই এই বিদায়ী পোস্টটা ভাল লাগলো না। উনার মত একজন ব্যক্তির বিদায়টা মোটেও কোন সুসংবাদ না। এদিক দিয়েই যখন যাচ্ছি, ভাবলাম একবার দেখাটা করেই যাই।

বিদায়ের কারণটা উনি স্ট্যাটাসে কিছুটা উল্লেখ করেছেন, তবে সরাসরি শুনে বুঝতে পারলাম কস্টটা একটু বেশীই পেয়েছেন। আমি উনাকে একটু এলিটিজমে বিশ্বাস করার পরামর্শ দিলাম। ফ্রেন্ডলিস্টে প্রবেশ ও পোস্টে কমেন্টাধিকার সংরক্ষিত বাকি সবাইকে ফলোয়ারের কাতারে রাখা যেতে পারে। তবে এতে উনার আপত্তি ছিল কারণ উনি কখনোই এভাবে অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধিনতায় হস্তক্ষেপের পক্ষে ছিলেন না। হয়তো তার খেসারতই এখন দিতে হচ্ছে।

বৃদ্ধ বণিতার সংখ্যা সে হারে টের না পাওয়া গেলেও আবালরা কিন্তু নিয়মিতই ভার্চুয়ালি তাদের অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছে। এবং আশংকাজনক হারে এ সংখ্যা বেড়ে চলছে। ইদানিং বুদ্ধিজীবি হয়ে ওঠার যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এটা যে কোন দিকে মোড় নিবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। হ্যা, সচেতনতা অবশ্যই দরকার, বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান চর্চা, চিন্তার চর্চা সবই প্রয়োজন। কিন্তু সেটা অবশ্যই নিয়ম মেনে। একজন একটা অপিনিয়ান দিলো, এটা আপনার ভাল না লাগাটা অস্বাভাবিক না। কিন্তু তাকে আক্রমণ করে "আমারটাই সঠিক" বুঝানোটা খুবই অস্বাভাবিক। আর তাতেই বিপত্তিটা বাধে যখন কেউ ভাবে যে, আমি বুঝি আর না বুঝি এখানে একটা পন্ডিতি দেখিয়ে যে কোন মুল্যে নিজকে বুদ্ধিজীবি আকারে হাজির করতেই হবে। কার সাথে কথা বলছি বা কার স্ট্যাটাসে কমেন্ট করছি এ নিয়ে মাথা ঘামাতে গেলে তো আমার আর বুদ্ধিজীবি হয়ে ওঠা হবে না। 
তাই না!!!

Saturday, November 7, 2015

সাইকেল হারালো, দুঃখের অনুভূতি টের পেলাম একমাস পর

অনেকদিন পর টাইমলাইনের খুব পেছনে যাইতে মন চাইলো। আগের আমিটারে খুজতে। তখন আমার একটা সাইকেল ছিল। প্রথম তারে পায়া আমি সুইটহার্ট ডাকসিলাম। স্ট্যাটাস দিসিলাম। তার জন্য আমার মায়া ছিল।

একদিন সে বুঝলো মায়াগুলা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই সে না বইলা চইলা গেলো। তারে হারায়া আমার একটুও কষ্ট লাগলোনা সেদিন। নিজেরে হারানোর বয়েস তখনো একদিন হয়নাই। তাই হয়তো। আমার আর তার বিচ্ছেদের বয়স গতরাতে একমাস পূর্ণ হইলো। ভালো থাকিস ...

Thursday, October 15, 2015

অনুমতিবিহীন ঘুরাঘুরি এরপর ধরা খাওয়ার ভয়ে থাকার সেইসবদিন

ওয়েটিং ফর আব্বুর বকা। অন্নেক দিন পর আব্বু আজকে এমন সিরিয়াসভাবে রাগলেন। 
বিকেল থেকেই খোজ দ্যা সার্চ চলছিল। এমনটা হবার কথা ছিল না। অনাকাঙ্খিতভাবে রিপোর্টটা আব্বুর কানে পৌছেই যতসব বিপত্তি বেধেছে।

আজকের কাহিনী হয়তো কিছুটা ভিন্ন। তবে ছুটির সময়ও আব্বু আমাকে ঘুরতে যাওয়ার অনুমতিটা একদম দিতে পারেন না। একবার আব্বুর সাথে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আমি এর কারণটা কিছুটা বুঝেছিলাম। 
গত বছরের কথা, ডাক্তার আব্বুকে আমার বয়স জিজ্ঞেস করেছিল। আব্বু সতেরো বলেছিলেন। অথচ আমার বয়স তখন একুশ ছিল। তাই ভাবছি, বকা খেয়ে অভ্যস্ত হতে হবে। তা না হলে প্রতিবাদী হওয়া যাবে না। আর আব্বুর এই মনোভাবের প্রতিবাদ না করতে পারলে কপালে বিয়া নাই। 

সারাদিন নিখোজ থেকে রাতে বাসায় আসলাম। আম্মুর কথায় বুঝলাম আব্বুর রাগের মাত্রাটা অন্যদিনের চাইতে বেশী। রাতের খাবার দেয়া হয়েছে। বাধ্যগত সন্তানের মত একেবারে আব্বুর পাশে গিয়ে খেতে বসলাম। পরিস্থিতি হালকা করার জন্য কিছু বলার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু নিষ্ঠুর শব্দগুলা ভয়ে আমারে একা রাইখাই পালাইছে। খাওয়া শেষ। আব্বু এখনো কিছু বলেননাই। ভয় বাড়ছে। মনে হচ্ছে আজকের বকাটা আনুষ্ঠানিকভাবে হবে। খাওয়ার পর আব্বু ছোট বোনকে দিয়ে আমাকে ডাকাবেন। এবং আব্বু তার রুমে বিচারকের আসন গ্রহণ করে বসে থাকবেন। তখন আমি অপরাধীর মত মাথা নিচু করে ঢুকবো। ইশ!!! কি ভয়ঙ্কর!!!

অনেকে যারা আব্বুর রাগ সম্পর্কে কিছুটা জানে তারা আমার এইসব দুঃসাহসী কর্মকান্ড দেখে মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে " ভাই! তোমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরাটাই কি কলিজা?একটুও ভয় পাওনা হুজুররে?"
প্রশ্নকারী ভাই ও বন্ধুগন, ঠিক এ মুহুর্তে আপনাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।



পরদিন...


আব্বু আজকে একাই বাজারে গিয়েছেন। আমাকে নেন নাই। এবার রাগের ধরনটা কেমন জানি। আব্বু হয়তো বুঝে গেছেন যে চুপ করে থাকাটাই বেশী কার্যকর। একবার বকা দিয়ে দিলে তো সব শেষই হয়ে গেল। 

বাজার নিয়ে বাসায় ঢুকবেন, এমন সময় গেটে একটা হুজুর এসে গার্ডকে জিজ্ঞেস করলো:
- মাহদি কি এই বাসায় থাকে?
গার্ড আব্বুকে দেখিয়ে দিয়ে দিলো। 
- আসসালামুয়ালাইকুম.. হুজুর, টাঙ্গাইলে আমার একটা মাদরাসা আছে। গতবছর আপনাদের গ্রামের মাহফিলে গিয়েছিলাম। সেখানে আপনার ছেলের বয়ানটা খুব ভাল লেগেছিলো। তখন থেকেই আমার ইচ্ছা যে এই বছর আমার মাদরাসার মাহফিলে ছেলেটাকে দাওয়াত দিবো। 
- আচ্ছা, কিন্তু ওর তো সামনের মাসে পরিক্ষা। সফরের প্রথম সপ্তাহে। পরিক্ষা হলে তো যেতে পারবেনা। 
- সমস্যা নাই হুজুর, আমাদের মাহফিল আগামী মাসের ২৭ তারিখে। পরিক্ষার হয়তো ততদিনে শেষ হয়ে যাবে। 
- আচ্ছা বাসায় চলেন। কথা বলেন দেখেন ওর সাথে।

আব্বু বাসায় ঢুকে আমাকে যেভাবে আদর করে ডাকটা দিলেন, সেই ডাকেই আমি অনুমান করে নিলাম যে বাসায় ঢুকার আগের কনভারসেশনটা এরকমই ছিল। বিষয় সেটা না। বিষয় হইলো এই ঘটনায় আব্বুর রাগটা পানির মত মাটি হয়ে গেছে। আজকে দুপুরে খেতে বসে আমার আর কথা খুজতে হয়নাই। আব্বুই কিভাবে বয়ান রেডি করতে হবে সেই বয়ান দিয়ে যাচ্ছিলেন। "বুঝছো! পরিক্ষার পড়া আগে। আর হাদিসের কিতাব ঠিক মত পড়লে বয়ান এমনেই রেডি হয়া যাবে।"
আমি আবারো সেই বাধ্যগত ছেলের মত:
"জি আব্বু"

ধন্যবাদ, কালকে যারা আমারে বিভিন্ন অজিফা শিখায় দিছিলেন। সেই অজিফার বরকতেই হয়তো আল্লাহ টাইম মতন হুজুরটারে পাঠায় দিছেন।



সেইদিন রাতে...

এক ঘটনায় এতকিছু হয়া যাবে ভাবিনাই। কালকে আম্মুর কাছে নাকি আব্বু বলছিলো, ও যেই পাগলামী শুরু করছে, দাওরা শেষ করার সাথে সাথে বিয়া করায় দিতে হবে। ভেবে পুলোকিত হলাম যে আব্বু আমার ব্যাপারে ভাবতে শুরু করেছেন।

সে থেকে একখানা খবর দুনিয়াতে প্রসিদ্ধ হইয়াছে, আমি নাকি শীঘ্রই বিবাহের কার্য সম্পাদন করতে যাচ্ছি। আমিও চাই, খবর খানা জলদি সত্য হয়ে উঠুক। আর এই রাতের বেলায় তো চাওয়াগুলা তীব্র আকার ধারন করতেই পারে।







 

The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...