Monday, May 30, 2016

আই এম জিপিএফাইভঃ একটি স্যাটায়ার

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সকলেরই জেনে রাখা প্রয়োজন। 

GPA5এর নতুন ফুলফর্ম ইনভেন্ট করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে "গেটিং পয়েন্ট"। এটা আমাদের দেশের সদ্যজিপিএফাইভপ্রাপ্ত
কৃতিসন্তানদের উদ্ভাবিত ফুলফর্ম। পুরাতন ব্যাখ্যা তারা কেন গ্রহণ করবে? তারা নতুন প্রজন্ম না? তাছাড়া শিক্ষাদীক্ষার দিক থেকেও তারা পূর্ববর্তীদের তুলনায় অগ্রগামী। বিশ্বাস না হলে তাদের রেজাল্ট দেখেন!!! 
এরপরও যদি এতটুকু ক্রিয়েটিভিটি মেনে নিতে না পারেন তাইলে তো মিয়া আপনে ব্যাকডেটেড। এই প্রজন্ম তখন আপনাকে সংকীর্ণমনা বলতে বাধ্য হবে।

আচ্ছা, মাছরাঙ্গার সেই ক্লিপ থেকে আরো কিছু ক্রিয়েটিভ তথ্য পাওয়া গেছে। একটু সদিচ্ছা থাকলেই কিন্তু এসব তথ্যের যুগোপযোগী ব্যাখ্যা দেয়া যায়। দরকার কিন্তু.. 

SSCএর ফুলফর্ম হচ্ছে "জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট"। কাহিনীটা হল, এখনকার 
SSCএর সার্টিফিকেট দিয়ে যে এর চেয়ে উপরের লেভেলের কিছু আশা করাটা বোকামী এই বিষয়টা বাংলার কৃতিসন্তান-সন্ততিরা হয়তো বুঝতে পেরেছেন। 
তাই এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে নিজ দায়িত্বে একটা নতুন সংজ্ঞা দাড় করিয়ে নিয়ছেন। আবার কারো কারো মতে ফুলফর্মটা আসলে হবে 
"স্কুল সেকেন্ডারী সার্টিফিকেট।" অবশ্য এই গভীর সংকটাপন্ন অবস্থায় এতটুকু আগপিছ তো মেনে নেয়াই যায়।

"আমি জিপিএ৫ পেয়েছি" এটার ইংরেজি অনুবাদ নিয়েও জিপিএ ফাইভপ্রাপ্ত "মুজতাহিদদের" মাঝে কিঞ্চিত ইখতেলাফ রয়েছে।
কারো মতে "I am GPA5"। এই বাক্যটা যে কতটা বিশুদ্ধ ও সাহিত্যপূর্ণ সেটা বূঝতে হলে অবশ্যই বালাগতের "যায়েদুন আদলুন" এর কায়েদাটা জানা থাকতে হবে।
করণ অর্থটা তখন এমন হবে যে, সে এতটাই যোগ্য যে তার সত্ত্বাটাই আস্ত একখানা 'জিপিএফাইভ" এ রূপ নিয়েছে।
আর কারো মতে ইংরেজি অনুবাদটা হবে 'I give GPA5" এটাও কিন্তু ভুল বলা যায় না। তখন ব্যাখ্যাটা হবে,
এত্তো এত্তো জিপিএফাইভ তিনি পেয়েছেন যে এখন লোকজনকে দিয়ে বেড়াচ্ছেন। 

একজন ম্যাডামের মতে অপারেশন সারচলাইটের অর্থ হচ্ছে "অপারেশনের সময় যেই লাইট দিয়ে সার্চ করা হয়"। যেহেতু তিনি এই প্রজন্মের তাই
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তিনি অবশ্যই ধারণ করেন। অতএব এটারও ব্যাখ্যা আছে। 
ম্যাডাম এখানে শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য নিয়েছেন। শব্দের সাথে পারিভাষার একটা যোগসূত্র থাকেই। পাকিস্তানী বাহিনীরা তো আর রাতের আঁধারে লাইট না জ্বালিয়ে হামলা করতে আসে নাই তাই না? গ্রো আপ ম্য্যান...

স্বাধীনতা দিবস এক বর্ণনামতে ১৭ই আগস্ট (ক্লোজ এনাফ  ) আরেক বর্ণনামতে ৬ই ডিসেম্বর। আর বিজয় দিবস- ২৬এ ডিসেম্বর। ভাই থামেন! ভুল ধরার আগে লজিকটা শুনেন।
আগে স্বাধীনতা দিবস হয়, এরপরই বিজয় দিবস হয়। ইটজ সো লজিক্যাল। মানতে না পারলে কিচ্ছু করার নাই।

"জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন কাজী নজরুল।" হয়তোবা লিখছিলেন। পরে রবীন্দ্রনাথ সেইখানেও পদকের মতই কোন ঘটনা ঘটাইছে। সম্ভব কিন্তু!

"নেপালের রাজধানী নেপচুন।" এটা অবাক হওয়ার মত কোন ঘটনা না।
হতে পারে নতুন নামকরন হয়েছে। অথবা রাজধানী পরিবর্তনের নতুন আপডেট এখনো
জনসাধারণের কাছে এসে পৌঁছেনি।
অথবা এটাও সম্ভব যে, সে শিক্ষার্থী পৃথিবীর বাইরের কোন নেপালের কথা বলছিলো।
যেটা জগতের সাধারণ বিজ্ঞানীদের পক্ষে অবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। থিঙ্ক পজিটিভ। একটু পজিটিজ চিন্তা করতে পারলেই কিন্তু আমরা 
তাদের ক্রিয়েটিভিটা ধরতে পারবো।

সাংবাদিক সাহেব এইসব অমুল্য ক্রিয়েটিভ তথ্যগুলো উদ্ধার করে জাফ্রিকবাল স্যারকে অবহিত করার পর স্যার অনেকগুলো
"তারমানে" থেকে যেই ফাইনাল "তারমানে"টা বের করে আনলেন সেটা হল 
"এই জিপিএ ফাইভটা সত্যইকারের জিপিএ ফাইভ না 
যেটা তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।" 

স্যারের এহেন উক্তি শুনে আমি শুধু নির্বাক তাকিয়েই রইলাম। একি করলেন স্য্যার! এমন ব্যাপক পঁচানি খাওয়ার পরও প্রজন্মকে বাচানোর মত কোন ব্যাখ্যাই তিনি দিলেন না!!!
এই প্রজন্ম এখন "আই হেইট পলিটিক্স" এর কি ব্যাখ্যা করবে? অবশ্য মুজতাহিদ যেহেতু.. করে নেবে একটা ইজতেহাদ।
কিন্তু স্যারই এখন আর মাদরাসার ব্যাকডেটেড পোলাপানগুলারে কিভাবে প্রগতী শিখাবে... শুধুই করুণা... 

Sunday, May 22, 2016

যেবার আমি দুইমাস পর বাসায় গেলাম

আব্বু এটা বার্থডে গিফট হিসেবে না দিলেও আমি কিন্তু গিফট হিসেবেই নিলাম। বেশী পছন্দ হয়ে গেছে জিনিষটা। ডার্ক ব্রাউন কালারটা এত্তো সুন্দরী কেন!!! একদম মাক্ষন পুরা। খায়া ফালাইতে ইচ্ছা করতাসে।

দীর্ঘ দুই মাস পর বাসায় আসলে একটু অধিক আদর যত্ন তো আমি ডিজার্ভ করতেই পারি। তো গতরাতে যখন সেটা চলছিলো, তখনই মাথায় আসলো যে এটা একটা সুবর্ণ সুযোগ বড়সড় কিছু আবদার করে বসার। জিনিষটা এমনিতেও দরকার ছিল। আম্মুকে মনে করিয়ে দিলাম যে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই উনার ছেলের তেইশ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। আব্বু যদি বারণ করে বসেন তাহলে উনার ছেলের আগামীকালকের বয়সটা স্মরণ করিয়ে দিবেন। ছেলে এখন কিন্তু আর ছোট নাই।

তবে আব্বু তো আব্বুই। রীতিমত তারাবীহর অজুহাত দেখিয়ে বললেন "সারাবছর তো তেলাওয়াত করোনা, এই কয়টাদিন ভালমত ইয়াদ করো। যা লাগবে রমজানের পর"।
কথাটা আব্বু খারাপ বলেন নাই। কিন্তু ল্যাপটপটাও যে লাগবে আমার। এইসব ক্ষেত্রে আম্মুই শেষ ভরসা। তাই শেষমেশ আম্মুর মাধ্যমে বিলটা পাশ করানো হলো।
সো হাফ ক্রেডিট গোজ টু আম্মু আর বাকি হাফ... আচ্ছা সেটা আব্বুকেই দেই..

Friday, May 20, 2016

ফারাগাত ও বিদায়ী স্মৃতি

১০ই এপ্রিল ২০১৬।
সবক শেষে মিষ্টি খাওয়ানোর দিন ...



আচ্ছা, যাদের পর্যন্ত বক্স পৌঁছাইতে পারিনাই তারা আপাতত দেইখাই চোখের ক্ষুধাটা মিটায় রাখেন। 
তবে আজকে বিশেষ আফসোস করার মত কোন ঘটনা ঘটে নাই। টাঙ্গাইলের সামান্য চমচম, এই আর কি।
আগামী ২৯ তারিখ স্পেশাল দাওয়াত আছে। সেদিন আমাদের বিদায় দেয়া হবে। সেইদিন আসবেন। কিছু আনন্দ আর বিরহ ভাগাভাগি করবোনে। 

তবে টেনশনের বিষয় হইলো আরও একটা দিন এইভাবে যাবে।
একটা দিন যে এখন কত মূল্যবান সেটা বুঝি যখন সারাদিনে একটাবারও নিউজফিড চেক করার কথা মনে পড়ে না। আসলে এইসব বিদায়ের ফরমালিটির জন্য আলাদা একটা বছর দরকার। আর সেইটা অবশ্যই আফটার অর বিফোর বেফাক। মিষ্টি খাওয়াইতে গিয়া আজকে আধাদিন ওয়েস্ট, একমাসও নাই পরিক্ষার। 
দোয়ার দরখাস্ত


এরপর ২২শে এপ্রিল। খতমে বুখারীর দাওয়াতের কার্ড হাতে আসলো...


এইগুলা খতমে বুখারীর দাওয়াতের কার্ড। মাত্র দশটা আছে এখানে। সবাইকে দিতে গেলে আরো অনেকগুলা লাগবে। কার্ডগুলা সুন্দর হইছে। নিজের কাছেই রাইখা দেওয়ার মত। ছোটবেলায় এমন সুন্দর কার্ড পাইলে জমাইতাম।
আচ্ছা গল্প বাদ। এখন পড়ালেখায় ব্যস্ত আছি, দাওয়াতের কার্ড পৌছানোর সময়টাও নাই। 

যদি আমি ফোন দিয়ে দাওয়াত দেয়ার সময় না পাই তাহলে কার্ড দেখে নিজ দায়িত্বে দাওয়াতটা গ্রহণ কইরা নিবেন কিন্তু...

এরপর খতমে বুখারী, পরিক্ষা।
এরপর...
বিদায়...
২০শে মে



শাহী মসজিদের বড় গেটের সামনে দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় পথচারীরা হয়তো আজকে বেশ অবাকই হয়েছে। হয়তো ভাবছিলো, হুজুররা এভাবে কাঁদছে কেন? কেউ মারা গেছে নাকি?
এখন আর মাত্র কয়েকজন আছে, বাকিরা সবাই একে একে বিদায় নিয়ে গেছে সকাল থেকে। একটু আগে যখন দুজনকে এগিয়ে দিতে গিয়ে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে রিকশা ঠিক করছিলাম, তখন মনে হচ্ছিলো আকাশ বুঝি আমাদের দেখেই কাঁদছে। তখন যারা বিদায় দিচ্ছিলো কিছুক্ষণ পর তারা নিজেরাই বিদায় নিয়ে ফেলেছে। একজন  বলছিলো, "যাওয়ার সময় এত খারাপ লাগবে জানলে  জীবনে কারো সাথে হয়তো এতটা বন্ধুত্বই করতাম না।" তাহলে কি শুধু ঝগড়াই করতাম? কিন্তু আজকের এই সময়টায় এসে তো সেই ঝগড়াঝাঁটি আর খুনসুটিগুলোই বেশি মনে পড়ছে।
গতরাতে কেউ ঘুমায়নি। সারারাত বসে শেষবারের মত একটু গল্প করেছিলাম। কত স্মৃতি, কত হাসিকান্না, দৃশ্যপটে পুরো সময়টা ভেসে বেড়াচ্ছিল। এই স্মৃতিচারণের ব্যাপারটা বোধহয় কিছুটা আত্মঘাতী ছিল। যার ফলে সবার এভাবে চলে যাওয়াটা কিছুতেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না। সম্পর্কের গভিরতাগুলো আগে কখনো এতটা উপলব্ধি করার সুযোগ পাইনি। আপন কোন ভাই নেই আমার। তাই জানিনা যে নিজের আপন ভাইয়ের বিচ্ছেদেও মানুষ এভাবে কাঁদে কিনা।
এতগুলো বছর একসাথে পড়ালেখা, ক্লাসের ফাঁকে মাসআলার ইখতেলাফ নিয়ে হুজুরের তাকরীরের উপর ঝগড়া বাধিয়ে দেয়া, আবার কখনো আড্ডাবাজি, ক্লাস না থাকলে সেই সুদূর সোহরাওয়ার্দীর  "আবুধাবী"তে গিয়ে ক্রিকেট খেলা, কুরবানীর বন্ধে দলবেধে দূরের সফরে যাওয়া, আর অল্পতেই খুনসুটি, মারামারি, এসব কিছুর সেই সোনালী মুহুর্তগুলো নিয়ে এখন চাইলেও আর কারো সাথে গল্প করা যাবে না। চাইলেও এই দীর্ঘ সময়ের বন্ধুত্বগুলোকে এখন আর প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবোনা। স্বার্থপর দুনিয়াটা কিছুদিনের মধ্যে সবাইকে ব্যস্ত করে ফেলবে। দীর্ঘ সময়ের এ স্মৃতিগুলোকে মলিন করে ফেলবে। এটাই সত্য কথা। এটাই বাস্তবতা। যাওয়ার সময় সান্তনা দিতে গিয়ে অনেকেই বলছিলো "আরেহ! কিসের বিদায়! আবার তো দেখা হবেই"। কিন্তু এই মিথ্যা কথাটা তো মানুষ শেষ দেখার সময়ও বলে।


এরপর সিলেট... শেষ সফর... বিদায়ী সফর

কয়েকটা দিন বৃষ্টির ছোয়া পাওয়ার পর বিছানাকান্দি আর রাতারগুল যে ভয়ংকর সুন্দর রূপটা ধারণ করে সেটা দেখার সুযোগ আসার পরও মিস করার মত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আমার জীবনে ঘটতে দিতে চাইনা বলেই কেবল মাত্র ৩০০ দিনেরও কম ব্যবধানে একই জায়গায় তিন তিনটা সফর.... কান্ট হেইট ইউ সিলট.....

ট্যুরের সিদ্ধান্তটা হুট করেই হয়েছে। কথা হচ্ছে, পরিক্ষার পর এই হালকা রিফ্রেশমেন্টটা দরকার ছিল খুব। এসে মনে হচ্ছে না খুব বেশী লস করে ফেলেছি। সিলেটের আকাশটা সত্যিই অসম্ভবরকম সুন্দর লাগছ আজকে। ঢাকার ঝড় বৃষ্টির তেমন প্রভাব নেই এখানে। তবে হালকা মেঘ জমবে মনে হচ্ছে। যেটা খুব করে চাচ্ছি। 

ক্লাসমেট ফ্রেন্ডগুলোর সাথে এটাই হয়তো শেষ সফর। থাক.. দুঃখটা ফেরার সময় করবোনে। আই বেটার ট্রাই টু লিভ ইন দা মোমেন্ট। দিনটা ভাল যাবে মনে হচ্ছে...


Thursday, April 14, 2016

স্মৃতিতে ড. শহিদুল্লাহ ফযলুল বারী রহ.

"গরমটা বেশী। হাফ লিটারে তো গলাই ভিজলো না। "
দৌড়ে গিয়ে আরেকটা পানির বোতল নিয়ে আসলাম। বোতলটা হাতে নিয়ে জোর করেই হুজুর পনেরো টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললেন "যেহেতু ছাত্ররা পয়সা উপার্জন করে না তাই নিজের টাকা খরচ করে তাদের খেদমত করা নিষেধ। হ্যা, যখন উপার্জন করবে তখন নিষেধ করবো না" মনে মনে ভাবছিলাম প্রথম উপার্জন থেকে হুজুরকে কি হাদিয়া দেয়া যেতে পারে।
এই ঘটনা মাত্র কয়েকটাদিন আগের। তখন জানতামনা যে ফজলুল বারি সাহেব হুজুরের সাথে এটাই শেষ স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে।
গত বছরের কথা। প্রতিসপ্তাহে কিছু কিছু লিখে দেখাতাম। প্রথম প্রথম তো পুরা লেখাটাই লাল করে ফেলতেন। আমার লেখার কোন অস্তিত্বই রাখতেন না। নিজের উন্নতিটা যতটুকুই চোখে পড়েছিল এরচেয়ে বড় সবক ছিল "উপমহাদেশে আরবি চর্চায় উর্দূর প্রভাবে তৈরী সংকটটা ধরতে পারা"। তাকমীলের বছর এসে ব্যস্ততা ঘিরে ফেলে। হুজুর জিজ্ঞেসও করেছিলেন শেষ বছর এসে কেন নাগাহ দিচ্ছি। যখনই বললাম সারাদিনই হাদিসের দরসে ব্যস্ততার কথা, হুজুর সাথে সাথে বললেন "আগে হাদিসের দরস, তারপর বাকি সব"।
তখন কাফিয়া পড়ি। শুরুর দিকে হুজুর তরিকাটা ধরতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো। পত্রিকার ভাষা, জাদীদ আরবী আর নুকতা ছাড়া নস পড়তে গিয়ে যখন নাজেহাল অবস্থা, হুজুর তখন অভয় দিয়ে বলতেন "আরে, এসব এমন আহামরি কিছু না। আমিও তো তোমাদের মত এই জামেয়াতেই পড়েছি। সত্তরের ফারেগ আমি, আমাদের সময় এখনকার মত এতসব তাদরিবের কিতাবও পড়ানো হত না। আমি শিখেছি না?"
এমন হাজারো স্মৃতি জমে আছে গত চার বছরের এই উস্তাদ-শাগরেদ সম্পর্কে। প্রত্যেকটা স্মৃতি কিছু না কিছু শেখার কথা মনে করিয়ে দেয়। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, তিনি আমাদেরকে কিছু চিন্তা দিয়ে গেছেন। আরবীচর্চা  নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন। ভাষার জগতে এক নিরব বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। যার পুরোটাই বেশ ইতিবাচক। যার ফলে উনার প্রত্যেকটা ছাত্রই উনার প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখে।
তাছাড়া উনার ব্যক্তিত্ব, স্বকীয়তাবোধ আর
নৈতিকতার শেকলটা যে কত বেশী শক্তিশালী ছিল এটা আমরা বুঝে নিতাম যখন তার নীতিবিরোধী কোন চিন্তা নিয়ে ক্লাসে প্রশ্ন করা হত। Iftekhar তোর মনে আছে? কর্মশালা থেকে আসার পরের ক্লাসটার কথা?
২০১০ সালে লালবাগ জামেয়ায় উনাকে ডেকে এ দায়িত্ব দিয়েছিলেন মুফতি আমিনী রহ.। বলেছিলেন "আপনি এখানকার ফারেগ, অতএব এই জামেয়ার প্রতি আপনার দায়িত্ব আছে"। সেই থেকেই উনার খেদমত শুরু। উস্তাদদের রেজিস্টারে সেই থেকে তার নাম নিয়মিত। এই বয়সে এসেও এত কষ্ট করে কেন সারাদিন অফিস করে  দরসের আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন এর কারণ বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই মুফতি আমিনী রহ. এর সেই আবেদনের কথাটি বলতেন। তবে জামেয়ার উস্তাদ হিসেবে মুফতি আমিনী রহ.এর পর যে তিনিই প্রথম বিদায় নিবেন এ কথা কখনো বলে যাননি।

Tuesday, March 22, 2016

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গ

একাত্তরের একটা টকশোতে সাখাওয়াত সাহেবকে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে সবাই মিলে আক্রমণ করা এবং কথা বলার সুযোগ না দেওয়া পাশাপাশি মিথ্যা সব তথ্যে সামনে এনে কুতর্কে লিপ্ত হওয়া।
এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে যেই পরিমাণ মানুষের লেখালেখি করা দরকার ছিল তাঁর সিকিভাগও হয়নি। সবাই শুধু ক্ষোভ ঝেড়েছে। তবে মানুষের এই বিশুদ্ধ আবেগ অবশ্যই সম্মানযোগ্য। তাতে যদিও তথ্যপূর্ণ  পোষ্টের প্রয়োজন পুরা হয়ে যায়নি। ইউসুফ সুলতান সাহেব ভাল একটা পোষ্ লিখেছিলেন। উনার পোষ্টের কপিঃ

প্রসঙ্গ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে একাত্তর জার্নালের গলাবাজি ও তথ্য বিকৃতি:
মাওলানা ইউসুফ সুলতান

গতকাল একাত্তর জার্নালে মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন সাহেবকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। [ভিডিও লিংক: https://goo.gl/Py0nTb - শেষের ৭-৮ মিনিট] তাঁর উত্তর শোনার আগেই বারবার থামিয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গ ও ভুল তথ্য ছুঁড়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানে যে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হয় তা হলো:
১. পৃথিবীর কয়টা মুসলিম দেশে সংবিধানে ইসলাম আছে? কোন দেশে?
২. রাষ্ট্রধর্মে ইসলাম না থাকলে কি দেশে ইসলাম থাকবে না?
৩. এরশাদ একটা মতলব নিয়ে এটা করেছিল, পরবর্তীতে বিএনপি ভয়ে তা বাদ দেয় নি।
প্রথম প্রশ্নের উত্তরে মুফতী সাহেব মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসহ বিশ্বের অনেকগুলো মুসলিম দেশে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকার কথা বললে উপস্থাপিকা জোর দিয়ে বলার চেষ্টা করেন যে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াতে তো নেই। আরো বলেন, ইরাক, ইরানেও নেই। মুফতী সাহেব মরক্কো, আলজেরিয়ার কথা বললে, সেগুলোও উপস্থাপিকা অস্বীকার করেন। অথচ আমরা দেখি:
১. মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ফেডেরাল কন্সটিটিউশনের প্রথম ভাগের ৩ এর ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: Islam is the religion of the Federation; but other religions may be practised in peace and harmony in any part of the Federation. [দেখুন: মালয়েশিয়ার সংবিধান: http://goo.gl/svUNdA]
২. ইরাকের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানের 2-2A তে আছে: Islam is the official religion of the State and is a foundation source of
legislation: A. No law may be enacted that contradicts the established provisions of Islam. [ইরাকের সংবিধান: http://goo.gl/EY5wvY]
৩. ইরানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম (শী'য়া মতবাদ)। সংবিধানের Article 12 -এ আছে: The official religion of Iran is Islam. [ইরানের মূল সংবিধান:http://goo.gl/Tp0T3Z; আন-অফিশিয়াল অনুবাদ: http://goo.gl/fzB1j6 ]
৪. মরক্কোর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানে Article 6 -এ আছে: Article 6: Islam shall be the state religion. The state shall guarantee freedom of worship for all. [মরক্কোর সংবিধান: http://goo.gl/3y08p7]
৫. আলজেরিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানের Article 2 তে আছে: [State Religion] Islam is the religion of the State. [আলজেরিয়ার মূল সংবিধান:http://goo.gl/3CEtdC অনুবাদ: http://goo.gl/Htio6a]
৬. ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানের Article 29 এ বলা হয়েছে Religion: (1) The State shall be based upon the belief in the One and Only God. (2) The State guarantees all persons the freedom of worship, each according to his/her own religion or belief. এক ও একমাত্র গডে বিশ্বাস ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে নেই। [ইন্দোনেশিয়ার সংবিধান: http://goo.gl/QemKDm]
এ ছাড়া আরো যেসব দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম:
Afghanistan, Bahrain, Brunei, Egypt, Jordan, Kuwait, Libya, Maldives, Mauritania, Oman, Pakistan, Qatar, Saudi Arabia, Somalia, Somaliland, Tunisia, Turkey, United Arab Emirates, Yemen, Maldives. [দেখুন:https://goo.gl/GWzkfE]
অথচ কী সুন্দর গলাবাজি করে বারবার মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কথা বলা হচ্ছিল!
দ্বিতীয় প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, রাষ্ট্রধর্মে ইসলাম না থাকলে কি দেশে ইসলাম থাকবে না? আমাদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রধর্মে ইসলাম থাকা- না থাকা যদি সমান হয়, তাহলে থাকতে এত সমস্যা কেন?
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলি, রাজনীতিটা মতলবেরই, মতলব ছাড়া কে কবে কথা বলে! বাকী মতলবটা জনগণের উপকারী হলো কিনা, প্রশ্ন সেটা। আমাদের পাল্টা প্রশ্ন, ৭২ -এর সংবিধানে কেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম স্থান পায় নি? কেন সেখানে সেকুলারিজম জায়গা পেল? সেখানে কাদের মতলব ছিল? দেশের জনসংখ্যার কত পার্সেন্ট তখন সেকুলার ছিল? আমরা তো রোজা রেখে মুক্তিযুদ্ধ করার গল্প জেনেছি, নামাযে দোয়া করে যুদ্ধে বের হওয়ার দৃষ্টান্ত দেখেছি। তাহলে তাদের ত্যাগের এত অমর্যাদা কেন?
==
মাত্র ৫-৭ মিনিটের কথায় এত গলাবাজি আর মিথ্যার আশ্রয় নিলে কীভাবে হবে ভাই! সত্য দিয়ে মোকাবিলা করুন, যদি বুদ্ধিমান ও সাহসী হয়ে থাকেন

Monday, February 22, 2016

সিলেটে ভালবাসার রঙ হুবহু মিলে গিয়েছিল সেবার

বাংলা ভাষার আহত এবং নিহতের ঘটনার সাথে সিলেট এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষাবিদদের এ দাবীর যথেষ্ট সত্যতা রয়েছে। সে হিসেবে কিন্তু তাদের নামে ভাষাহত্যা মামলা হতেই পারে। এরপরও ভাষাদিবস উদযাপন করতে সিলেটের মত জায়গায় যাওয়াটা কতটুকু যৌক্তিক এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তবে আমার কাছে এ প্রশ্নের উত্তর না থাকার কারণ হচ্ছে এখানে ব্যাপারটা হৃদয়ঘটিত। আর যুক্তি দিয়ে ভালবাসাকে হারানোটা শুধু মুশকিলই না, না মুমকিন।

প্রকৃতির সাথে আমার প্রথম প্রেমটা হয়েছিল সিলেটে। তাই এর প্রতি ভালবাসাটাও অন্য সবার চাইতে বেশী। আর "পথম পেম" তো ভুলে যাওয়ার মত কোন ঘটনা না। কোন এক উসিলায় যদি জীবনের প্রথম প্রেমটার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়, এবং প্রেমিকা তার যৌবন হারিয়ে ফেলেছে বলে যদি সে সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে, তাহলে ধরেই নিতে হবে যে তাতে সত্যিকারের ভালবাসা ছিল না।

আমি তার ভরা যৌবন দেখেছিলাম। তখন তার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফেরানোটা বেশ কষ্টকর একটা ব্যাপার ছিল। তাই এখন আমি তার দুর্দশাটা আঁচ করতে পারছি। আমি খুজে ফিরছিলাম সেই দৃশ্যপটগুলো। সেই সুবিশাল ঝর্ণা, পাহাড়ের মাঝে নদী, তার ওপাড়ে বন। যেখানে হারিয়ে যাওয়ার মত বহুজায়গা পড়ে আছে। সেই মুহূর্ত, যেগুলো পুরো সময়টা জুড়ে আমার ভেতর ছিল।

আজ সে নেই। তবুও আমার একাকীত্বের অনুভব তাকে অস্তিত্বহীন হতে দেয়না। তার অপেক্ষায় থাকে। সে আমার মনের শব্দহীন ভাষাগুলো বোঝে। তাই সে আবারও ফিরে আসবে। তার সেই রূপ নিয়ে ফিরে আসবে, প্রথম দর্শনেই যে রূপের প্রেমে পড়েছিলাম।

(আমি কিন্তু কেবলই প্রকৃতিপ্রেমের কথা লিখলাম.. নাথিং এলস..)
 — with Abdullah Farhad at Madhobkundo Waterfall, Sylhet.



Saturday, February 20, 2016

বইমেলা ২০১৬ ও সিলেট সফর

সাক্ষী ছিল শিরস্ত্রাণ -সুহান রিজওয়ান
হিব্রু থেকে ইহুদী -খন্দকার মাহমুদুল হাসান
ইসলাম -ফজলুর রহমান
The red Moulana- Nurul kabir
হুমায়ুন কবির শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ
হৃদয়ে আমার মির্জা গালিব -বুলবুল সরওয়ার

এইগুলা হল দ্বিতীয় দিনের সংগ্রহ। প্রথম দিনের সংগ্রহ ছিল চারখানা। বই কিনতে পারার ব্যাপারটা আনন্দের। আর আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য নাকি বলে বেড়াতে হয়। এতে নাকি আনন্দ বাড়ে। 
আনন্দ আরো বাড়ে যখন Mahmôôd ভাই মেলা থেকে বের হয়ে আমাদের ফাস্টফুডে বসিয়ে শর্মা অর্ডার করেন। কিন্তু শেষে যখন বলেন "এটা সেই অর্থে ট্রীট ছিল না" তখন মনটা চায়...... বইগুলা তারে হাদিয়া দিয়া দেই।
মিয়া! জানতাম আপনে এমন করবেন। এল্লেগাই আমারে বড় স্ট্যাটাস লিখতে মানা করছেন তাই না!! যাতে আপ্নের জারিজুরি ফাস না হয়া যায়!! বুঝছি তো। যান কমু না কাউরে আপনে যে এমন করছেন। তাও আপ্নে ভালা থাকেন






অতঃপর সেদিন রাতেই সিলেট সফর...


দারাসাল বাত ইয়ে হে কে, হাম যাহা যা রাহে হে লোগ উস জাগা কো কিসি ওয়াজা সে লান্ডান বুলাতে হে। ইস কে পিছে এক হিস্টোরিকাল রিজান ভি হে। তো রুলস তো ইয়েহি হোনা চাহিয়ে থা কে, উহা হাওয়াই জাহাজ সে যায়ে। হাম বাস উসি রুলস কো ফালো কার রাহে হে..

আগার চে লোগ উসে বাংলা কা লান্ডান কেহতে হে.. লেকিন হে তো দেশ কে আন্দার হি না? ওয়াতান ভি হামারা,, যুবান ভি হামারা,, ইসি লিয়ে সেলিব্রেট কারনে যা রাহা হু,, হামারে ওয়াতান মে হামারা মাতৃভাষা দিওয়াস কি সেলিব্রেশান...   — traveling to Sylhet Division with Abdullah Farhad from Shahjalal International Airport.






The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...