Friday, August 12, 2016

আসহাবে কাহাফের ইভেন্টে বন্যার্তদের পাশে

ট্রেন যখন থামলো। মনে পড়লো যে আমাদের তো একটা সেলফিও তোলা হল না। শেষ মুহূর্তে তোলা হয়েছিল এই একখনাআ ছবি।





এক ট্রলারে ত্রাণ পাঠিয়ে আরেক ট্রলারে আমরা যমুনার কড়া রোদের সাথে একটু প্রেম চর্চা করে নিচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই জামালপুরের বন্যার্তদের মাঝে ভালবাসা বিতরণ শুরু করতে হবে যে!








স্থানটা কালিরচর, ইসলামপুর। ট্রলারে দুইঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়েছে বন্যার্ত অসহায় মানুষগুলোকে খুজতে। এটা আজকের প্রথম স্পট ছিল। সেখানে তিনশো পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এরপর দুটি স্পটে আরো দুইশো পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে আসহাবে কাহফ টিম এখন ঢাকার পথে।

যাইহোক, এই ছবিতে আমার সুরতে যেই ছেলেটাকে দেখতে পারছেন তাকে আমি ভেবে ভুল করবেন না। আমি কিন্তু আমার পকেটে। ছবিতে গলায় ঝুলানো কার্ডটি ভাল করে দেখুন। এই ছেলেটি নেসার উদ্দিন রুম্মান। এই মহৎ ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা


Monday, August 8, 2016

ইফতেখারের গ্রেফতার ও সুযোগসন্ধানী মন্তব্যের জবাব

এই সময়টার অপেক্ষায় ছিলাম। যখন প্রশাসন নিজ মুখে স্বীকার করবে যে ইফতেখার নির্দোষ।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সকালেই কাউসার ভাইয়ের সাথে যখন মোহাম্মাদপুর থানায় ইফতেখারের খোজ নিতে গিয়েছিলাম পুলিশ তখন সরাসরি অস্বীকার করে বসেছিলো। ভেতর থেকে এক বন্দির ইশারায় ইফতি ভেতরে আছে বুঝতে পেরে যখন দ্বিতীয়বার ডিউটি অফিসারকে একটু খোজ নেয়ার অনুরোধ করতে গেলাম তখন আমাকেই ভেতরে ভরে দেয়ার ভয় দেখালো। পরিচয় দেয়ার পর খাতা খুলে দেখালো। আগেররাতে আটক করা বারোজনের মধ্যে ইফতেখারের নাম নেই। তাহলে কি ইফতেখারকে তারা গুম করর ফেলতে চেয়েছিল? করতে চাইলেও এটা এখন বলা যাবেনা। এই ছিল ঘটনার শুরু। এরপর থেকে এমন আরো বহু ঘটনা ঘটে চলছে যেগুলো শুধু চুপচাপ দেখেই যেতে হচ্ছে। চাইলেই বলা যাবেনা, লিখাও যাবেনা।

কিন্তু খুবই খারাপ লাগে, যখন আপনি ইফতেখারের সাথে দুএকদিনের পরিচয়ে অতিদরদ নিয়ে তারপক্ষে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কিছু না জেনেই সরকার বিরোধী স্ট্যাটাস লিখতে বসে যান। এটা তো আজকাল একটা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। অনেক অনেক লাইক কমেন্ট পেয়ে সহজে আপনার এই সেলেব্রিটি হওয়ার লোভ যে ইফতেখারের জন্য বিপদ ডেকে আনবে এটা আপনাকে কে বুঝাবে? আর কেউ তো ফরহাদ মাজহারকে এখানে টেনে এনে গালি দিয়ে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন ইফতেখার তার দ্বারা প্রভাবিত। 

একটা সত্যি ঘটনা বলি। হেফাজতের সময় যখন ফরহাদ মাজহার হেফাজতের পক্ষে লিখতো এবং হেফাজত নেতা কর্মী সমর্থক নির্বিশেষে সবাই মযহার সাহেবের প্রশংসা পারলে পাচমুখ দিয়ে করতো তখন আমি ইফতেখারকেই একমাত্র দেখেছি ফরহাদ মযহারের ভুলের দিকগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে। 

ভাই, দশ বছ ধইরা একসাথে পড়ি। ক্লাসে পাশাপাশি বসি। এইসব নিয়া আমার থেকা তর্ক কেউ বেশী করেনাই। তর্কে বিরোধিতা করতে গিয়া আমি তারে অনেক ট্যাগ দিতে পারলেও কখনো জামাত ট্যাগ দিয়ে পারিনাই। তার চিন্তায় জামাতের সমস্যাগুলা খুব স্পষ্ট ছিল।
অতএব সে কি দ্বারা প্রভাবিত আর কি চিন্তা লালন করে এটা দুইদিনের পরিচয়ে আপনে খুব বেশি বুইঝা ফেলার ভাব যখন নেন তখন বিষয়টা খুব বেশী ফালতু টাইপ কিছু হয়া দাঁড়ায়।

এইসব কিন্তু আসলে কোন কাহিনী না। এই যে তাকে জামাতী বলে মামলা দেয়া এটার পিছনে আসল কাহিনীটা কি জানার চেষ্টা করেছেন? দোষটা কি আসলেই সরকারের বা কোন বিপ্লবীর যে তারে প্রভাবিত করতে চাইছিল? সেটা জানতে হলে তো কাওসার ভাই (ওর বড় ভাই)এর সাথে কথা বলতে হবে। আর যারা এই কেসটা নিয়ে দিনরাত দৌড়াচ্ছে তাদের কাছ থেকে শুনতে হবে। আর যদি আপনার অত সময় না থাকে তাহলে এই ***মার্কা স্ট্যাটাস দিয়া আলগা দরদ আপনে দেখাইতে আইসেন না।

কিছু দুষ্টচক্র চাচ্ছেই তাকে সরকার বিরোধী প্রমাণ করে নিজেদের দল ভারী করতে। এইটা একটা গেম। আপনি নিজের অজান্তে এতে অংশ নিচ্ছেন। 
যদি ইফতেখারের জন্য আসলেই কিছু করতে চান তাহলে তার ভাল যেই দিকগুলা জানেন সেগুলো নিয়ে স্ট্যাটাস দিন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন ইফয়েখারের প্রতিভা, মেধা, চিন্তার শুদ্ধতা নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। উপর মহল থেকে বহু তদবীরের পর আজকে যেই সুসংবাদ আসলো, এতে এই ইতিবাচক স্ট্যাটাসগুলোরও বেশ ভাল একটা ভূমিকা ছিল বলে আমি মনে করি। অনেক কৃতজ্ঞতা তাদের সবার প্রতি।

Friday, August 5, 2016

বন্যাদুর্গতদের পাশে লালবাগ জামেয়ার সাথে


২রা আগস্ট,২০১৬

এইতো তিনদিন আগের কথা। বন্যার্ত মানুষগুলোর দুঃখ কষ্ট দেখে কেবল হাহাকার ছাড়া করার মত তেমন কিছুই পাচ্ছিলাম না। ওদিকে রুম্মান ভাই একলাই বন্যা ইস্যুতে সবাইকে সক্রিয় করার অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর আওয়াজ তুললেন মুসা ভাই। জানতে পারলাম অপু ভাই আর জুবায়ের ভাইও ভিক্টিমদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এতগুলো মানুষ পাশে পেয়ে মনে হলো কিছু একটা করার সুযোগ এসেছে। যোগ দিলাম কাহাফ ব্যাটেলিয়নে। সাকিব ভাই, সাইফ ভাই, ফায়সাল ভাই, মাহমুদ ভাই, এবিসি ভাই ও এমদাদ মামা সহ আরো অনেকে এগিয়ে এলেন। রোকন ভাই তার মিডিয়া আওয়ার ইসলামকে আমাদের পার্টনার বানিয়ে দিলেন। প্রচুর সাপোর্ট আসতে লাগলো সবদিক থেকে। 

বন্যার্তদের নিয়ে কিভাবে কাজ করা যায় এ নিয়ে কাহফিয়ানদের চ্যাটগ্রুপে পরামর্শ শুরু হলো। সিদ্ধান্ত হলো সবাই প্রাথমিকভাবে নিজ নিজ মাদরাসায় ক্যাম্পেইন করবে। সে মোতাবেক গতকাল আমি মাদরাসার ভেতর কাজ করার জন্য অনুমতি নিতে গেলাম দায়িত্বশীল হুজুরদের কাছে। কথা বলতে বসে বন্যার প্রসঙ্গ তুলতেই হুজুররা জানালেন লালবাগ মাদরাসা ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই সপ্তাহে ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর আমাকে লিফলেট বানাতে পাঠানো হলো আমাকে। আসহাবে কাহাফের রুম্মান ভাইয়ের লেখা এত সুন্দর ডেসক্রিপশন থাকতে আবার কষ্ট করে কেন লিখতে যাবো? শুধু নামটা চেঞ্জ করে দিলাম কপি মেরে। 

এইভাবেই মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে একই সাথে দুইটা গ্রুপের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়ে গেলো। ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করছি। আসলে ভেতরের মানবতাবোধটাকে জাগিয়ে তুলতে পারলে একটা মানুষ যে কতটা অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে এটা দেখতে পাচ্ছি। সত্যিই অভিভূত হচ্ছি। এখনো এমন কিছু ভাল মানুষ বেচে আছে যারা সুযোগ পেলে মানুষের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে জানে। কালেকশন করতে নেমে মনে হচ্ছে সবাই টাকা হাতেই বসে ছিল। শুধু দেওয়ার জায়গাটাই পাচ্ছিলোনা।

আপাতত এই শুক্রবার পর্যন্ত মাদরাসার কাজ নিয়ে অফলাইনে একটু ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে আসহাবে কাহাফের কাজটাও চলতে থাকবে পাশাপাশি। কাহাফের জন্য আমার যেই বিকাশ নাম্বারটা আছে এখন পর্যন্ত সেই একাউন্টের সংগ্রহ দশ হাজার টাকা। সাকিব ভাইয়ের একাউন্টেও আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভাল অংকের টাকা জমা হয়েছে।



সবকাজ বেশ তাড়াহুড়োর বধ্যেই করেছিলাম। তখনকার লিফলেট দিয়ে পোষ্ট যেটা দিয়েছিলাম ফেসবুকেঃ
লালবাগ জামেয়ায় ছাত্র শিক্ষক ও এলাকাবাসীর ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাড়ানোর। আগামী শুক্রবার বাদ আসর ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্যোগ কবলিত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা করা হবে।
যারা শরিক হতে চান সহায়তা পাঠাতে পারেন লিফলেটে উল্লেখিত বিকাশ নাম্বারে।





৬ই আগস্ট ২০১৬ এর স্ট্যাটাসঃ
রওনা হয়ে গেলাম বন্যার্তদের ত্রাণ নিয়ে। গন্তব্য গাইবান্ধা। এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি। খোজ খবর নিয়ে বিতরণকেন্দ্র চূড়ান্ত করতে ও ত্রাণ তহবিলে আরো কিছু যোগ করতে বড়দের পরামর্শে নির্ধারিত দিবসের একদিন পরই রওনা হতে হলো। কেবলমাত্র চারদিনের কালেকশন। প্রথম দুইদিনে তো আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না যে আসলেই নিয়ে যাওয়ার মত ত্রাণ হবে কিনা। কারণ লাখ দেড়েক যা উঠেছিলো তার অর্ধেক তো যাওয়া আসাতেই খরচ হয়ে যাবে। কিন্তু ফয়সালাটা যে উপর থেকেই করা হয়েছিল সেটা গতকাল জুমার পর বেশ ভালভাবে উপলব্ধি করলাম। কারণ জুমার পরের সংগ্রহে বেশ বড় একটা অংক ত্রাণ তহবিলে জমা পড়ে গেল। এবং তখন এলাকার অনেকেই আরো একটা দিন সময় চাইলো। আলহামদুলিল্লাহ, সবার সহযোগিতায় লালবাগ টিম আগামীকাল প্রায় চারশত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে যাচ্ছে।

গত কয়েকদিনে খোজখবর নিয়ে যা মনে হলো, দেশের বন্যাপ্লাবিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি যতটা ভয়াবহ তার সিকিভাগও মিডিয়া তুলে ধরছেনা। দেশের জনগণকে হতাশ করতে চায়না বলেই হয়তো এসব বন্যার্তদের অসহায়ত্বের প্রদর্শন একটু কম করে প্রদর্শন করছে তারা। তাছাড়া মিডিয়ার কাছে তো রামপাল ও জঙ্গি ইস্যুসহ আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি পড়ে আছে খেয়াল করার মত। যেসব মানুষদের রান্না করার ব্যবস্থাটা পর্যন্ত নেই, কলা বা বাশের ভেলায় বিকল্প পদ্ধতিতে রান্না করে কোনও রকম জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে তারা আর যাই হোক মিডিয়ার লাখ টাকার ক্যামেরার লেন্সগুলোর দৃষ্টি নিজেদের দিকে ফেরানোর ক্ষমতা রাখেনা। কারণ আজকাল অসহায়ের আর্তনাদ শোনাতে যতটুকু ক্ষমতার প্রয়োজন ততটুকু ক্ষমতা তাদের নেই।

গাইবান্ধার একটা উপজেলার কিছু তথ্য দেই। শুধু ফুলছড়ি উপজেলায় ভেঙ্গে গেছে প্রায় ছয়টি ব্রীজ। সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় ৪০টি কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আরো তলিয়ে গেছে তিন হাজার চার শত ৪০ হেক্টর জমির আউস, রোপা আমন, আমন বীজতলা ও শাকসবজি। ফলে বাজারে শাকসবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও বন্ধ হয়ে গেছে ২৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

আসলে এতকিছুর মাঝে আমাদের এতটুকু প্রচেষ্টা সত্যিই খুব সামান্য। কিন্তু এতটুকু করার সামর্থ্য থাকার পরও যদি একেবারেই কিছু না করতাম তাহলে যিনি এই সামর্থ্যটুকু দিয়েছিলেন তার কাছে অবশ্যই এর জবাবদিহিতা করতে হতো।





চলছে বিতরণ
ঠিক যেখানটায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তিনদিন আগেও তার অনেকটাই পানিতে ডুবে ছিল। দেয়ালগুলোতে কোমর পর্যন্ত পানির দাগ এখনো খুব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আর মানুষগুলোর চেহারায় যে ছাপ পরিস্ফুটিত হচ্ছিলো সেটাকে অসহায়ত্ব বললে যথেষ্ট হবে কিনা জানিনা। কারণ এই মলিন চেহারাগুলোকে বোঝাতে কোন শব্দ যদি ব্যবহার করতে চাই তাহলে সে শব্দের প্রকাশ ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। খুব কঠিন হয়ে গেল মনে হয়। 
আমার কাছে তাদের জীবনটা এর চেয়ে বহুগুণ বেশী কঠিন মনে হয়েছে। তাও তো তারা বেচে আছে। একটু সাহায্যের আশায়। একটু ভালবাসার আশায়। 

ফুলছড়ির একশত ত্রিশ পরিবার ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এক মাদরাসায় ত্রাণ বিতরণ শেষে এখন লালবাগ টিম যাচ্ছে মুন্সিপাড়া স্পটে।




আরেক স্পটের ছবি
লালবাগ টিমের আজকের দ্বিতীয় স্পট ছিল মুন্সিপাড়া মাদরাসা প্রাঙ্গণ। এই পর্বে গ্রামের দুইশত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

Wednesday, August 3, 2016

মুসলিম নারীদের রোল মডেল

অনেক দিন আগে আমেরিকার লাসভেগাস শহরে ইসলামি উগ্রবাদ বিষয়ে এক সেমিনারে কিছু ইসলামবিরোধী উদ্ধত প্রগলভ ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছিলাম। ওই সেমিনারে ইসলামকে উগ্র ও অসহিষ্ণু ধর্ম হিসেবে অভিহিতকারীদের মধ্যে সবার আগে ছিল রবার্ট স্পন্সর, যে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে বই লিখে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করেছিল। সেমিনার ছিল উগ্রবাদের বিরুদ্ধে, অথচ রবার্ট স্পন্সরের পুরো বক্তব্য ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে। সুতরাং আমাকে আমার বক্তৃতায় ইসলাম ধর্মের ওপর কৃত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত জবাব দিতে হয়। আমি স্বল্পজ্ঞানের অধিকারী হয়েও রবার্ট স্পন্সরকে মিথ্যা প্রমাণিত করলাম।

কিছু স্থানীয় টিভি চ্যানেল সেমিনার যথাযথ প্রচার করে। এ প্রচারের ফলে আমেরিকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও দফতর থেকে লেকচারের নিমন্ত্রণ আসে। আমি যেখানেই গেছি, সেখানেই বেশির ভাগ নারী ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন। আত্মসম্মানবোধের নামে হত্যা, জোরজবরদস্তিমূলক বিয়ে, নারীশিক্ষা ও রোজগার করার ওপর বিধিনিষেধ সম্পর্কে পাশ্চাত্য মিডিয়ায় প্রচার করা সংবাদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়।

ওইসব প্রশ্নের জবাবে এ অধম বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হজরত খাদিজা রা:-এর ঈমান ও বিশ্বস্ততা এবং হজরত আয়েশা রা:-এর জ্ঞানগরিমার দৃষ্টান্ত পেশ করে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছি।
যখন আমি এ কথা বললাম, আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রথম স্ত্রী হজরত খাদিজা রা: একজন মহিলা ব্যবসায়ী ছিলেন। তার দু’বার বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীর তিন সন্তানের জননী ছিলেন। বয়সেও বড় ছিলেন। তা সত্ত্বেও হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তার দাম্পত্য জীবন সফল ও সুখকর ছিল। তার জীবদ্দশায় নবী করিম সা: দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। তখন প্রশ্নকারীরা আরো জানার জন্য এ সংক্রান্ত গ্রন্থ সম্পর্কে জানতে চান।
এ অধম তখন মুহাম্মদ হুসাইন হায়কাল, মার্টিন লিংস ও ক্যারন আর্মস্ট্রংয়ের নবী করিম সা:-এর ওপর লিখিত গ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি পেশ করি। যখন মুহাম্মদ ডোগার সাহেবের রচনা আল আমিন আমার নজরে পড়ল, তখন আরো বেশি জানার আগ্রহ সৃষ্টি হলো।
আল্লামা শিবলী নোমানী ও আল্লামা সাইয়েদ সুলাইমান নদভীর সীরাতুন্নবী গ্রন্থে পড়েছি, হজরত খাদিজা রা:-এর পিতা আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। তবে তার চাচা আমর বিন আসাদ বেঁচেছিলেন। হজরত খাদিজা রা: চাচা থাকা সত্ত্বেও নবী করিম সা:-এর কাছে বিয়ের পয়গাম নিজেই প্রেরণ করেছিলেন।

পীর মুহাম্মদ করমশাহ আল আজহারি তার জিয়াউন্নবী গ্রন্থে লিখেছেন, বিশ্বনবী সা:-এর বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা হজরত খাদিজা রা:কে তার গুণগ্রাহী বানিয়ে দেয়। সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ সা:-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সা:-এর মতামত জানার জন্য অন্তরঙ্গ বান্ধবী নাফিসাকে তাঁর কাছে পাঠান। নাফিসা রাসূলুল্লাহ সা:-এর মতামত অবগত হন এবং ফিরে এসে হজরত খাদিজা রা:কে খোশখবর শোনান। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সা:কে দাওয়াত করেন।
রাসূলুল্লাহ সা: তাশরিফ আনলেন। কথাবার্তা হলো। উভয়ে রাজি হওয়ার পর হজরত খাদিজা রা: রাসূলুল্লাহ সা:-এর কাছে আবেদন করেন, তিনি যেন তাঁর চাচা আবু তালেবকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। চাচা আবু তালেব পরের দিন তার কাছে গেলে তিনি তার কাছে অনুরোধ করেন, আপনি আমার চাচার কাছে গিয়ে আমার সাথে আপনার ভাতিজার সম্বন্ধের আবেদন করুন। এভাবে পাত্রপাত্রীর মুরব্বিদের অনুমতিতে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অপর কিছু গ্রন্থেও এ বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে। হজরত খাদিজা রা:-এর জীবন ও কর্মের আলোকে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা ও ওপরে তুলে ধরা আরো বেশি সহজ হয়ে গেছে।

কিছু দিন আগে ইসলামি নজরিয়্যাতি কাউন্সিলরের সদস্য ও জামায়াতে ইসলামি পাকিস্তানের ওমেন অ্যান্ড ফ্যামিলি কমিশনের প্রেসিডেন্ট ড. সাবিহা রাহিল কাজী তার এক পত্রের সাথে আমাকে জুবায়ের মানসুরির হজরত খাদিজা রা. : ঈমান ওয়া ওয়াফা কি সাথী (হজরত খাদিজা রা. : ঈমান ও বিশ্বস্ততার সঙ্গী) গ্রন্থ প্রেরণ করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রা:-এর ভূমিকা সবার সামনে তুলে ধরা। ওই গ্রন্থেও এ কথা লেখা আছে, হজরত মুহাম্মদ সা:-এর সাথে হজরত খাদিজা রা:-এর বিয়ের কথাবার্তা নাফিসার মাধ্যমে শুরু হয়। অতঃপর বড়রা কথাবার্তাকে এগিয়ে নিয়ে যান।

এ ঘটনা এবং অপর কিছু হাদিস এ কথা প্রমাণ করে যে, ইসলামে পছন্দের বিয়ে নিষেধ নয়। এ জন্য ১৬ জুন, ২০১৬ (নয়া দিগন্তে প্রকাশ ২৮ জুলাই, ২০১৬) আমি আমার কলামে এ কথা লিখেছিলাম যে, হজরত খাদিজা রা: তার বান্ধবী নাফিসার মাধ্যমে নবী করিম সা:-এর মতামত জানেন। অতঃপর উভয় পরিবারের বড়রা বিয়ের বন্দোবস্ত করেন। এটাকে পছন্দের বিয়ে অভিহিত করেছি।
কিছু ব্যক্তি এ বিষয়ে তাদের অমনঃপুতের কথা প্রকাশ করেছেন এবং উল্লেখিত কলামকে ঘর থেকে পালানো মেয়েদের সহায়তাকারী বলে অভিহিত করেছেন। আপত্তিকারীদের প্রতি অনুরোধ কলামের শিরোনাম লক্ষ করুন। মূলত ‘মেকি আত্মসম্মানবোধ’ শিরোনামের এ কলাম ছিল বোন ও কন্যাদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে। ওই কলামে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে বলা হয়েছে, একজন বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক বালেগ মুসলমান নারী তার পছন্দমতো বিয়ের অধিকার রাখে।
সুপ্রিম কোর্টের এ রায় সায়েমা নামের এক নারী ও আরশাদ নামের এক যুবকের বিয়ে সম্পর্কে ছিল। সায়েমা ঘর থেকে পালিয়ে বিয়ে করেননি। তার পিতা কন্যাকে তার অমতে বিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন। জোরজবরদস্তিমূলক বিয়ে থেকে বাঁচার জন্য সায়েমা পাঁচজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে আরশাদকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি স্বীয় পিতার ঘরে ফিরে যান। মাকে বিয়ের কথা জানানোর পর সায়েমাকে নির্যাতন ভোগ করতে হয়।

আমার কলাম নারী নির্যাতন ও তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার বিরুদ্ধে ছিল। হজরত খাদিজা রা:-এর উদাহরণ পেশ করার কারণ শুধু এটাই ছিল যে, আমি উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রা:কে মুসলিম নারীদের জন্য রোলমডেল মনে করি। তিনি ইসলামের প্রথম নারী। তিনি প্রতিটি কঠিন সময়ে স্বামী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর পাশে ছিলেন।

আমি স্পষ্টত লিখেছি যে, নবী করিম সা:কে পছন্দ করা এবং তার মতামত জানার পর উভয় পরিবারের বড়রা বিয়ের কার্যক্রম চূড়ান্ত করেন।

১৬ জুনের কলাম নিয়ে একটি পত্রিকা কিছু বিরোধিতামূলক বক্তব্য প্রকাশ করলে অনেক বিজ্ঞ আলেম আমার সাথে যোগাযোগ করেন এবং পরিপূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তবে ওইসব আলেমকে এক অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়া থেকে দূরে থাকতে বললাম।
আমার আবেদন, যদি কারো কোনো মতবিরোধ থাকে, তাহলে এ বিষয়ে যৌক্তিক আলোচনা ও তথ্যনির্ভর যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ রাখা উচিত। একজন আরেকজনের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়াতে কোনো ফায়দা নেই। ফায়দা সেই উঠাবে, যে ইসলামের বদনাম করতে চায়। আপনি আব্দুল মালেক মুজাহিদের বেশ সুন্দর গ্রন্থ হজরত খাদিজা রা: কি জিন্দেগি কে সুনাহরি ওয়াকিয়াত (হজরত খাদিজা রা:-এর জীবনের সোনালি ঘটনাবলি) পড়–ন অথবা ড. মুহাম্মদ আজম রেজা তাবাসসুমের গ্রন্থ খাদিজাতুল কুবরা অধ্যয়ন করুন। আপনি জানতে পারবেন, উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রা: তার সব কিছু আল্লাহর রাসূল সা:-এর কাছে কোরবান করে দিয়েছিলেন।
জীবনের শেষ তিনটি বছর মক্কার বাইরে গারে হেরার সন্নিকটে পাহাড়ি উপত্যকা শেয়াবে আবি তালিবে ক্ষুৎ-পিপাসায় দিন অতিবাহিত করেন। ৬৫ বছর বয়সে রমজানুল মোবারকে তার ইন্তেকাল হয়। হজরত আয়েশা রা: বর্ণনা করেন, নবী করিম সা: তার প্রথম বিবিকে বেশ সুন্দর শব্দ দিয়ে স্মরণ করতেন।

এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, নবী করিম সা:-এর সব সন্তান হজরত খাদিজা রা:-এর গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করেন। দুই পুত্র হায়াত লাভ করেননি। চার কন্যা ছিলেন পিতার চক্ষুশীতল নয়নমণি। রাসূলুল্লাহ সা: নিজের সন্তানদের পাশাপাশি হজরত খাদিজা রা:-এর প্রাক্তন স্বামীর সন্তানদেরকেও বুকে আগলে রেখেছিলেন।
স্বীয় কন্যাদের খুব ভালোবাসতেন। কন্যা সাইয়েদা জয়নব রা: মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সফরের প্রাক্কালে হাব্বার বিন আসওয়াদ তার ওপর আক্রমণ করে বসে। জয়নব রা: উট থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। (ওই সময় তিনি গর্ভবতী ছিলেন) তার দেবর তাকে উদ্ধার করেন। কন্যার ওপর আক্রমণের খবর শুনে নবী করিম সা: খুব কষ্ট পান। আবু হুরায়রা রা: বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা: আমাদেরকে (তাদের বিরুদ্ধে) অভিযানে প্রেরণ করে বললেন, যদি অমুক অমুককে পেয়ে যাও, তাহলে তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মারবে।

যখন সাহাবায়ে কেরাম রা: রওনা হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সা:-এর কাছে বিদায় নিতে গেলেন, তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের অমুক অমুককে আগুনে পুড়িয়ে মারার আদেশ করেছিলাম, তবে আগুনের শাস্তি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেউ দিতে পারে না, এ জন্য যদি তোমরা তাদের পেয়ে যাও, তাহলে তাদের হত্যা করবে।
এ কথাগুলো লিখে এটাই নিবেদন করতে চাই যে, আল্লাহর পেয়ারা নবী সা: স্বীয় কন্যার ওপর আক্রমণকারীদের আগুনে পুড়িয়ে মারার আদেশ ফিরিয়ে নিয়েছেন, আর আমাদের সমাজে নিজের মেয়েকেই পুড়িয়ে মারার ঘটনা রীতিমতো অব্যাহত রয়েছে।
মেয়েদের পুড়িয়ে মারা ও আত্মসম্মানবোধের নামে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং বিশ্বকে জানান, আসল ইসলাম উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসীদের নয়, আসল ইসলাম হজরত মুহাম্মদ সা:-এর, যার ওপর সর্বপ্রথম একজন নারী ঈমান এনেছেন এবং ওই মহীয়সী নারীকেও খাতুনে জান্নাত আখ্যায়িত করা হয়েছে।
——————————————
মূললেখক : পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর
অনুবাদ : ইমতিয়াজ আহমেদ

Tuesday, July 12, 2016

ইটজ সিলট এগেইন

সকাল সাতটায় বের হলাম। রাত বারোটায় বাসায় ফিরলাম। এত ভাল একটা দিন কাটানোর পর আনন্দঘন মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিশেষ কিছু করার প্রয়োজন নেই। তাও কিছু ছবি টানিয়ে রাখলাম।

যদিও এদের সবার সাথেই পরিচয়টা অনেকদিনের এরপরও আজকের বিশেষ উপলব্ধি হল এই মানুষগুলোর সাথে পরিচিত হওয়াটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা ঘটনা ছিল।

ছুটি প্রায় শেষ হয়ে এলো। দুদিন পর আবারো ব্যস্ত হয়ে যেতে হবে। দিনটাকে মিস করতে হবে খুব। আরো যেটা মিস করতেই হবে সেটা বৃষ্টির পর মাধবপুর লেকের দৃশ্যপটটা। মনে হচ্ছিলো সেই ফয়েজ লেকে বসে আছি। নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম বারবার। কেউ খুজেও দিচ্ছিলো না।

Friday, July 1, 2016

গুলশান হামলা ও তখনকার স্ট্যাটাসগুচ্ছ


স্ট্যাটাস একঃ 
হলি আরটিজান থেকে কোন রকমে পালিয়ে বেচে আসা সুপারভাইজার সুমন সাংবাদিকদেরকে দুইটা কথা খুব জোর দিয়ে বলছিলো, 
"হামলাকারীদের কারো মুখে দাড়ি ছিল না
এবং তারা প্রত্যেকটা আক্রমণের সময় আল্লাহুআকবার বলছিলো"
তার এই বর্ণনা যদি সত্যি হয় তাহলে
এটা পরিষ্কার যে হামলাকারীরা নিজেদের জঙ্গি প্রমাণ করতেই এমনটি করছে। এবং সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই "আল্লাহু আকবর" পার্টটা যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তাতে জঙ্গিরা সফল। এটাই তো চায় তারা। জঙ্গিদের এ সফলতার পরিণাম যে কতটা ভয়াবহ হবে সেটা এখনই পুরোপুরি আন্দাজ করা যাচ্ছে না। তবে আগামীকাল সকাল থেকেই হয়তো জঙ্গি সন্দেহে রাস্তাঘাটে নিরপরাধ মানুষগুলাকে গ্রেফতার করা শুরু হবে। 

কিন্তু এইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর একের পর এক হামলা করে তারা আসলে কি করতে চাচ্ছে? আতংক ছড়ানোর জন্য হলে তো হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার কথা। আর এই গুটিকয়েক জঙ্গির সাথে একটা দেশের তিন বাহিনী মিলে টানা কয়েকঘন্টা অভিযান চালানোর পরও পেরে উঠছেনা। বিদেশী জঙ্গি বলেই কী তাদের মোকাবেলার সামর্থ্য আমাদের নেই? বিদেশী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা ছাড়া জঙ্গিদের মোকাবেলা করা সম্ভব না, এটাই কি বুঝানো হচ্ছে? ঘটনা এইভাবে দেখতে গেলে তো নাটক মনে হয়।

তবে গুলশান থানার ওসি ও ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল নিহতের খবরটা দেখে মনে হলো ঘটনা আসলেই খুব সিরিয়াস দিকে মোড় নিচ্ছে।
আল্লাহ! আমাদের দেশটার দিকে একটু তোমার রহমতের দৃষ্টি দাও।



স্ট্যাটাস দুইঃ
জঙ্গিরা আত্মসমর্পণের তিনটি শর্ত দিয়েছে। শর্ত তিনটি হলো-
১. একদিন আগে ডেমরা থেকে আটক জেএমবি নেতা খালেদা সাইফুল্লাকে মুক্তি দিতে হবে।
২. তাদেরকে নিরাপদে বের হয়ে যেতে দিতে হবে
৩. ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাদের এই অভিযান- স্বীকৃতি দিতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিরা বার বার রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে চিৎকার করে এ কথা জানাচ্ছে।
-বাংলা ট্রিবিউন


স্ট্যাটাস তিনঃ 
আমরা যেমন ক্ষেপে আছি এই চুনোপুঁটি মার্কা জঙ্গিগুলোর উপর, ঠিক তেমনি আমেরিকাও কিন্তু খুব ক্ষেপে আছে। আমরা যেমন এদের বিচার করতে চাচ্ছি, তারাও কিন্তু খুব চাচ্ছে। আমরা যেমন সন্দেহে আছি হামলা কারীরা আইএস কিনা, তারাও সন্দেহে আছে আইএসের দায় স্বীকারের সত্যতা নিয়ে। কত্তো মিল ওদের সাথে আমাদের তাই না? বরং ওরা তো আমাদের থেকেও সিরিয়াস মনে হচ্ছে। মজার কিন্তু ব্যাপারটা।

আমাদের সাথে তারা ফোনে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এখন সব ধরনের সাহায্য সহযোগীতাসহ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের দায়ভার নিতে তারা আগ্রহী। আমরা দিতে আগ্রহী তো? অবশ্যই!! কেন নয়!! মজা বাড়বে তো এতে..

তবে সমস্যা হলো এই কাহিনীটা খুব একটা ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠছেনা। কেমন যেন বাংলা ছবির মত। শুরু দেখেই শেষ বলে দেওয়া যাচ্ছে। নতুন বোতলে পুরান মদ খাওয়ানোর চেষ্টা আর কি। ওরা হয়তো জানে না বাঙালি এখন হলিউড দেখে অভ্যস্ত। তাহলে হয়তো আরেকটু প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে স্ক্রিপ্ট লেখাতো।



স্ট্যাটাস চারঃ
এই দীর্ঘ অভিযান শেষে ধরতে পারলোই মাত্র একটা জঙ্গি সেটাও নাকি আবার সন্দেহভাজন। 
আমাদের দেশে সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরার প্র‍্যাকটিসটা একটু বেশীই হয় কিনা! 

তবে সফল এই অভিযানের জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে একটা অভিনন্দন জানাতেই হয়। এটা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে রাজনীতি শুরু হওয়ার আগেই এর সুষ্ঠ তদন্ত হোক। সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটুক।



স্ট্যাটাস পাচঃ
কেবল মাদ্রাসায় পড়ার কারণে আর দাঁড়ি রাখার কারণে গত ১২ বছরে নিত্যদিন যে হেনস্থা আর প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি তা নিয়ে লিখলে বোধ হয় বিশাল মহাকাব্য লেখা যাবে। গুলশানের ঘটনা আমার মতো অনেকের জীবনের অভিজ্ঞতাকে যে নয়া ডাইমেনশানে নিয়ে যাবে তা পষ্ট। অনিক ভাই লিখেছেন,"গুলশান হামলার একটা গুরুত্বপূর্ন দিক হলো এই হামলা অনেকগুলো ফিল্ডকে লেভেল করে দিয়েছে। কোন দোষ ছাড়া, শুধুমাত্র মাদ্রাসায় পড়ার কারনে মিথ্যে অপবাদ খেতে মাদ্রাসার ছাত্রদের কেমন লাগে, সেই ফিলিংসটা এখন বড়লোকের ছেলে মেয়েদের বুঝতে সুবিধা হবে। শুধু মাত্র স্কলাস্টিকা, টার্কিশ স্কুল,ব্র্যাক ভার্সিটি, মোনাশ, কিংবা নর্থ সাউথে পড়ার কারনে কেউ যখন স্টেরিওটাইপড হবে, বিদেশের ভিসা নিতে গিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হবে, সে হয়তো বুঝতে পারবে শুধু মাত্র একটা পাঞ্জাবী পড়ার কারণে, কিংবা টুপি পড়ার কারণে হেনস্থা হতে মানুষের কেমন লাগে।"



স্ট্যাটাস ছয়ঃ 
সদ্য প্রকাশিত সাইট ইন্টেলিজেন্সের ভিডিওতে আইএসের বেশে হাজির হয়েছেন সাবেক ক্লোজআপ তারকা তাহমিদ রহমান শাফি। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে নতুন করে আইএসভীতি ছড়াচ্ছে। বিবিসির দাবী তাহমীদের জঙ্গি হয়ে ওঠার পেছনে কারণ ছিল তার ধর্মের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠা। এবং তাদের অফিসিয়াল পেজেরই অন্য একটা নিউজে তারা তাহমীদকে খুব নামাজী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। হয়তো তার মধ্যে এসব গুণাবলী ছিল, তাই বলে জঙ্গি হওয়ার কারণ হিসেবে এইসব ধার্মিকতাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করাটা কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়?

গুলশানে হামলাকারী সেই ছেলেগুলো যে কি কারণে জঙ্গি হয়েছিল এসব নিয়ে গতকয়েকদিনে সোসাল মিডিয়ায় বিশ্লেষণ তো কম হয়নি। ব্যাপারগুলো এত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও ধর্মটাকে জোর করে টেনে এনে দোষারোপ কেন করছে তারা? এতে তাদের উদ্দেশ্যটা খুব স্পষ্ট হয়ে যায়। এইসব জঙ্গিদের ইসলামিক বানানোর জোরদার প্রচেষ্টা কিছু মহল অনেক আগ থেকেই করে আসছে। আর বিবিসি তখন থেকেই সে মহলের অন্তর্ভুক্ত। এটাকে ইসলাম বলে প্রচার করে তারা মূলত দোষটা ইসলামের ঘাড়ে চাপাতে চায়। 

ইসলামের নামে নানান জায়গায় হামলা করে নিরপরাধ মানুষ হত্যাকে যারা হালাল মনে করে তাদেরকে ইসলাম ধ্বংসকারী বলার নানান কারণ আছে। এভাবে যারা নিরপরাধ মানুষ হত্যাকে হালাল মনে করে হাদিসের ভাষ্যমতে তারা খারেজী সম্প্রদায়ভুক্ত । এবং খারেজী হওয়ার কারণে অনেক ওলামায়েকেরামের মতে তারা কাফের। এর সপক্ষে দলিল হিসেবে আল্লামা আনওয়ার সাহ কাশ্মিরী ইবনে মাজার হাদিস এবং ইমাম বুখারী হযরত আবু সাঈদ খুদরীর রেওয়ায়েত এনেছেন। তাছাড়া এই নিরপরাধ মানুষগুলোকে হত্যা করাকে তারা ইসলামের পক্ষে বিশাল জীহাদ করে ফেলার দাবী করলেও এর যথাযথ কোন কুরআন হাদিসের ভিত্তিতে যৌক্তিক দলিল প্রমাণ তারা আজ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি।

আচ্ছা, অতসব ইতিহাস না টেনে শুধুমাত্র যদি বর্তমান প্রেক্ষাপট দেখে বিচার করা হয় তাহলেও তাদের এজেন্ডা অনেকাংশে পরিষ্কার হয়ে যায়। মূলত তাদের এসব জঙ্গি কর্মকান্ডকে সামনে এনে কারা ইসলামকে দোষারোপ করার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছে? এই গেমপ্ল্যানটা কাদের সাজানো এরপরও বুঝতে বাকি থাকার কথা না।

অতএব আইএস ইস্যুকে ইসলামিকলি ডিল করতে হবে। শুধু এতটুকু বললেই হবে না যে ইসলাম এসব সমর্থন করে না। ইসলাম কেন সমর্থন করে না এবং তাদের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে এসব কথাও এখন খুব স্পষ্টভাষায় বলে দিতে হবে। এবং প্রচার প্রসারের মাধ্যমে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। কেবল কে জঙ্গি আর কোথাথেকে জঙ্গি বের হয় এ তর্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকলে আপাতত বিপদ কমার কোন সম্ভাবনা নেই।



স্ট্যাটাস সাতঃ
ঈদের দিন পাশের বাড়ির প্রতিবেশী আপনার বাসায় বেড়াতে আসাটা স্বাভাবিক হলেও পাশের দেশের প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাতে সন্দেহজনকভাবে আপনার দেশে প্রবেশ করাটা মোটেও স্বাভাবিক না। আপনি হয়তো ঈদ আনন্দে ব্যস্ত তাই এই "প্রতিবেশী"র আগমনের সংবাদ আপনি পাননি। কেন আসলো সে বিশ্লেষণ পরে হবে। আসা যে শুরু করেছে এই সংবাদ অন্ততপক্ষে জেনে রাখা দরকার। 

নয়া দিগন্তের সংবাদঃ
"কিশোরগঞ্জে বিস্ফোরণের তদন্তের স্বার্থে ঢাকায় পাড়ি দিচ্ছে ভারতের স্পেশাল জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী (এনএসজি) টিম৷ বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করতেই পাঠানো হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী, খবর পিটিআই সূত্রে৷ সঙ্গে যাবেন গোয়েন্দা ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও৷
এনএসজি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতীয় গোয়েন্দাবাহিনী ঢাকা পাড়ি দেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সবুজ সঙ্কেত মিলেছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে৷ কিশোরগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷ যে দলটি ঢাকায় পাড়ি দেবে সেই দলে রয়েছেন বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞ ও জঙ্গি মোকাবিলা সংক্রান্ত যেকোনো অপারেশনে সক্ষম অফিসাররা৷"

স্ট্যাটাস আটঃ
"জঙ্গিরা সব প্রাইভেট ভার্সিটি পড়ুয়া উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান"
এখনকার মত সংকটময় মুহূর্তে এমন কথা বলে বলে মাদরাসাপড়ুয়া ও ভার্সিটিপড়ুয়াদের মধ্যে বিভাজন তৈরী করাটা সমর্থনযোগ্য না। কিন্তু শোলাকিয়ার ঘটনাতে আবারো নর্থ সাউথের ছেলেগুলাই খবরে ওঠে আসার পর এই অসমর্থনযোগ্য বাক্যটা আমাদের মুখেও চলে আসে...

স্ট্যাটাস নয়ঃ
পিস টিভি বন্ধ করাতে যারা খুব বেশী খুশি হচ্ছেন তাদের কাছে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করার যুক্তিটা অনেকটা এরকম না?
হয়তো না, হয়তোবা হ্যা। 
এটা সত্য কথা যে আজকে তাকে একজন ইসলামপন্থী হিসেবেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। আঘাতটা এখানে সরাসরি ইসলামের উপর। তার লেকচার শুনে মানুষ জঙ্গি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলাটা নিতান্তই হাস্যকর একটা ব্যাপার। অনেকে বরং তার দাওয়াতী স্টাইলের লেকচারের উপর উদারপন্থার অভিযোগ তুলে তাকে মডারেট বলে থাকেন। আর মডারেটদের ব্যাপারে অভিযোগ আছে যে তারা এতটাই উদার যে জীহাদের আয়াতগুলোর ক্ষেত্রেও নমনীয় ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। তাহলে এই নমনীয়তা আর উদারপন্থা দিয়ে জাকির নায়েক কি করে উগ্রবাদ শেখায় সেই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনের কাছে আছে বলে মনে হয়না। অতএব তাদের এইভাবে একটা চ্যানেল ব্যান্ড করাকে অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলতে হবে।
আর হকপন্থী আলেমওলামাদের সাথে জাকির নায়েকের বিরোধটা অন্যখানে। মাজহাবগত কিছু শাখাগত বিষয়ে। সেটা এখানে একেবারেই ভিন্ন একটা প্রসঙ্গ। সেটাকে আকিদার সমস্যা বলে বলে যারা এতদিন জাকির নায়েককে ইহুদীদের দোসর থেকে শুরু করে কাফের পর্যন্ত বানিয়ে ছেড়েছেন তারা একটু বেশীই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।
মনে রাখবেন আজকে যদি আপনি প্রশাসনের এই অন্যায়কে সমর্থন করেন অথবা ধিক্কার জানালে বিপদ আসতে পারে এই ভয়ে চুপ থাকেন তাহলে আগামীকাল যখন শুধুমাত্র ইসলামপন্থী হওয়ার অপরাধে আপনার উপর কোন অন্যায় করা হবে সেই অন্যায়টাকেও অনেকে সমর্থন জানাবে। অথবা নিরাপত্তার ভয়ে চুপ থাকবে। তাই অন্তত অপরাধকে ঘৃণা করতে শিখুন। চুপ থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অপরাধবোধটাও একসময় মরে যায়।






Tuesday, June 28, 2016

একটি রমজানময় রাত বা সেহরীনাইট

এখন প্রায় রাতই হাসপাতালে মুহাম্মাদের পাশে বসে কাটানো হয়। শেষরাতে অন্য দুইজন এলে পরে আমরা চলে আসি। তো হাসপাতাল থেকে হোটেল আল রাজ্জাক বেশি দূরে না। সেখানে বেশ কয়েকবার খাওয়া হলেও সাহরীতে তাদের বিশাল সমাহারের যে প্রসিদ্ধ গল্পটা আছে এটা শুধু লোকমুখেই শুনে এসেছি এতদিন। হাসপাতাল থেকে যেহেতু এই সময়ই বের হওয়া হয় তাই ঠিক করে রেখেছিলাম একদিন সেখানে খেয়ে দেখবো।

রিকশা না পেয়ে একটা ভ্যানওয়ালা মামাকে নামিয়ে দিয়ে আসতে বললাম। ফাকা রাস্তায় ভ্যানে চড়ে রাতের ঢাকা দেখার অনুভূতিটা যে এতটা চমৎকার সেটা আগে জানলে প্রতিদিন তারাবীহ আগেই একটা ভ্যান ঠিক করে রাখতাম। যাতে নামাজ শেষে ঘুরতে বের হতে দেরী না হয়।

যথারীতি আমাদের ভ্যান হোটেল রাজ্জাকের সামনে থামলো। যে চিত্র দেখলাম তাতে মনে হল যত দ্রুতগতিতে সম্ভব ভ্যান থেকে লাফিয়ে নেমে দূরে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। এতে লজ্জা কিছুটা হলেও কম পাওয়া যাবে। কারণ হোটেলের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের যতটুকু জায়গা ছিল পুরাটা কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আরো এদিক সেদিকেও কিছু রাখা হয়েছে। রাত তখন বাজে মাত্র দুইটা। গাড়ি এখনো আসছে, আরো আসবে। আর আমরা এখানে এসেছি ভ্যানে করে সেহরী খেতে।

এত বড় হোটেলটায় বসার জায়গা নেই। সিরিয়াল ধরে দাড়ানোটা তেমন কষ্টের না হলেও বেশ লজ্জার ছিল। কারণ সিরিয়ালে ওয়েষ্টার্ন পোষাকে সাহরী খেতে আসা কিছু আপুও দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের দেখে এক ঢাকাইয়া ভদ্র লোক তো বলেই বসলেন, "কিছু তো আহে সাহরী খাইতে আর কিছু আহে রূপ দেহাইতে।" বুঝলাম না, সাহরী খেতেও কেন মুখে এত ময়দা মেখে আসতে হবে? আচ্ছা বাপের টাকায় কিনা ময়দা মাখুক সমস্যা নাই। কিন্তু এটা তো রমজান মাস, অন্তত সাহরী খাওয়ার মত সাওয়াবের কাজ করতে আরেকটু শালীন পোশাক পরে আসলেই বা কি এমন রূপ ঢাকা পড়ে যেতো!
হুম্ম, তখন আবার তাদের একটা অপ্রাপ্তি থেকে যেতো যেটা পরবর্তী চিত্র দেখে বুঝলাম।

চিত্রটা ছিল এরকম:
কিছু ভাইয়ারা সেলফি তুলছেন আর চেকইন দিচ্ছেন। আর সুযোগে সুযোগে আপুদের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু দুষ্টু মন্তব্য করছে। এতে আপুদের কিছু আসছে যাচ্ছে তো নাই বরং আরো মান বাড়ছে বলেই মনে হলো। এটা তো বিশাল প্রাপ্তি না!

সিট খালি পেয়ে বসার পর দৃষ্টিকে খাবারের দিকে নিবিষ্ট রাখার জোরদার প্রয়াস চালাচ্ছিলাম। চোখকে মনে করিয়ে দিলাম ইটজ রামাদান। তাছাড়া এত সুস্বাদু খাবার রেখে এদিক সেদিক তাকালে খাবারেরা অভিমান করতে পারে। খাবারটা সত্যিই ভাল ছিল। বিলটাও অবশ্য ভালই উঠেছে। সেলফিটা একদম খাওয়া শেষ হওয়ার পর তুলেছি। কারণ আপলোডের নিয়ত ছিল না। শুধু একটা স্মৃতি রাখা আর কি। কিন্তু সেলফি তোলার সময় যখন মেয়েলি কণ্ঠে এই কথাটা কানে এল "দেখ দেখ, হুজুররাও..." আড় চোখে তাকালাম। জিদ চাপলো। এখন তো এটা আপলোডও দিবো.. কার কি!!!

The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...