Wednesday, May 24, 2017

কায়রোর দিনলিপি (৩)

অবশেষে কাগজপত্র হাতে পেলামঃ

চারদিন মিশরীয় রোদে পুড়ে পুড়ে এম্বাসীতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত লেটারগুলো হাতে পেলাম। এখন তাহরীর স্কয়ারের কড়া রোদে দাড়িয়েও ভেতরে অনাবিল শান্তির সুবাতাস বয়ে যাচ্ছে। শাব্বির মামা আর আব্দুল্লাহ ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ দিতেই হবে। উনারা না থাকলে আরো কয়দিন যে এই কড়া রোদে কাঠখড় পুড়িয়ে এম্বাসীতে যাওয়া লাগতো কে জানে।

আলহামদুলিল্লাহ, বাকিসব কাগজপত্রও প্রস্তুত। আগামীকাল ইনশাল্লাহ, আল আযহার শরিফে ভর্তির জন্য নাম জমা দিতে যাচ্ছি। ভাগ্য ভাল থাকলে এক মাস, আর খারাপ থাকলে দুই মাস, আরো বেশী খারাপ থাকলে বড়জোর তিনমাস অপেক্ষা করতে হবে নাম আসার জন্য। সবার কাছে বিশেষভাবে দুয়া চাচ্ছি।

এখন আপাতত ক্বিরাতের উপর ইজাযা নিতে একটা মারকাযে ভর্তি হয়েছি। রমজান এলে সাধারণত এইধরনের মারকাযগুলোতে বেশ ভীড় লেগে যায়। মিশরীরা এমনিতেও তিলাওয়াতের ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস। আর রমজানে এই সিরিয়াসনেস কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমি সপ্তাহে দুইদিন শুনানোর সুযোগ পেয়েছি। তবে আমার যেহেতু তাড়াহুড়ো নেই এবং ভর্তির আগ পর্যন্ত সময় আছে তাই যে কয়টা ক্বিরাতের উপর ইজাযাহ নেয়া যায় নিয়ে ফেলবো ভাবছি। আর এ সময়ের ভেতর মিসরটাকে ভালভাবে পড়তে হবে। এখানে তো মিসরকে পড়ার জন্য রীতিমত ভার্সিটিগুলোতে বিশেষ ফ্যাকাল্টি পর্যন্ত আছে। তারা একে কুল্লিয়াতুল আছার বলে। এর মধ্যে ফারাও সভ্যতা ও ইসলামী সভ্যতার আলাপ বেশ গভীরভাবে আছে। এবং গ্রীক ও রোমান সভ্যতার প্রাসঙ্গিক ব্যাপারগুলোও চলে আসে। তো সব মিলিয়ে এই ইজিপ্টলজি এক বিশাল জিনিষ।

কায়রোতে আসার পর থেকে নিজের কাজ নিয়েই এতদিন ব্যস্ত সময় কাটলেও অনেক কিছুই দেখা হয়ে গেছে। মিশরীদের হরেকরকম খাবারের এক্সপেরিমেন্ট করার ফিরিস্তি ইতিমধ্যেই অনেক লম্বা হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি আইটেম স্বতন্ত্র পোষ্টের দাবী রাখে। সেগুলো নিয়ে পরে কখনো আলাপ হবে।

আসার পরদিনই যুবায়ের ভাই নিয়ে গিয়েছিল মুজ্জামায়। ওরা বলে মুগাম্মা। মিসরীদের কাছে জিমের উচ্চারণ "গ" আর ক্বফের উচ্চারণ "আ"। তাই তাদের আঞ্চলিকতাটা ধরতে ভালই কষ্ট হয়। তবে এদের আম্মিয়ার সাথেও ফুসহার ভাল একটা যোগাযোগ আছে। ব্যাপারটা ড. শহিদুল্লাহ ফজলুল বারি রহ. ক্লাসে আমাদেরকে বলেছিলেন। হুজুরের কথা মনে পড়তেই এখন শুধু দুয়া আসে। রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা।

তো আমি ছিলাম মুজ্জামার সামনে। সেই বিশাল দালানটি দাঁড়িয়ে আছে তাহরীর স্কয়ারের দিকে মুখ করে। মুজাম্মা থেকে তাসজিল নিতে হয়। মানে হচ্ছে মিসরে আসার পরদিনই সর্বপ্রথম আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম সেটা ছিল তাহরীর স্কয়ার। এখানে তাহরীরের চত্বরের ছবি তোলা নিষেধ। পুলিশ দেখতে পেলে নাকি খবর আছে। তাও আজ দুপুরে লুকিয়ে এই ছবিটা তুলে ফেলেছি। কিন্তু প্রথমদিন সাহস পাইনি।সেদিন অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম। যতক্ষণ তাকিয়ে থাকলে স্মৃতিপটে নিখুঁতভাবে সে দৃশ্যধারন করে রাখা যায় তার চেয়েও বেশিক্ষণ।
এরপর যখন মুজাম্মায় ঢুকার জন্য লম্বা লাইনে দাড়িয়েছিলাম তখন পেছন ফিরে তাহরীরে কিছু একটা খুজছিলাম। তাহরীরে ঠিক মাঝখানে কি শাপলার মত কিছু একটা আছে? আরে ধুর! যত্তসব হেফাজতী সেন্টিমেন্ট!

কায়রো শহরের মাইদানুল জাইশে যে বাসায় উঠেছি তার পেছনের রাস্তাটাই ১২০০ বছর পুরোনো ফাতেমী খেলাফতের প্রাচীন সব ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আছে বিশাল এলাকা জুড়ে পুরাতন সব কেল্লা। হাজার বছর আগে যে বাজার থেকে আজীজে মিসর নবী ইউসূফ আ কে ক্রয় করেছিল সে বাজারটি এখন বেশ জমজমাট। এগুলো সময় নিয়ে দেখতে হবে। জানতে হবে। আসলেই জানার ও দেখার অনেক অনেক কিছু ধারণ করে রেখেছে এই হাজার বছরের এই শহর।

Sunday, May 21, 2017

কায়রোর দিনলিপি (২)

ব্যাচেলর লাইফের অভিজ্ঞতাঃ

জীবনে প্রথমবারের মত মাছে মসলা মাখানো সহ ব্যাচেলর লাইফে অর্জন করা আবশ্যক এমন অনেক অভিজ্ঞতাই হয়েছে গত এক সপ্তাহে। তবে আফফান ভাই আর কামরুল ভাইয়ের মত পাকা হাতের রাঁধুক থাকতে রান্নাঘরের এসিস্টেন্ট হিসেবে আমার কাজকাম খুব একটা কষ্টসাধ্য হয়নি। আর যুবায়ের ভাই তো চা আর বাকরখানিতেই দিব্যি তার দিবারাত্রি পার করছেন।

কায়রোতে এত সস্তাদরে এত সুস্বাদ মাছ পাওয়া যাওয়াটা আমাদের বাঙালীদের জন্যে সৌভাগ্যের বটে। তাই রাতবিরাতে ব্যাচেলরদের এহেন রান্নাবান্নার চিত্র আপনার জিভেজল নিয়ে আসলেও সেই "জল"এর জন্য আপনি কোনভাবেই আমাদেরকে দোষারোপ করতে পারেননা।

সুন্দরী এই মাছখানার নাম না জেনে শুধুমাত্র এর স্বাদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার ব্যাপারটা প্রথমে আমাদেরকে খানিকটা দুঃখ দিয়েছে। এবং যখন তার মায়াবী চাহনীমাখা চোখ বিশিষ্ট এইটুকুন মাথার বিশাল অংশজুড়ে থাকা মগজের স্বাদ জিহ্বায় লাগলো তখন সে দুঃখের কথা বিশেষ মনে থাকেনি।

Sunday, May 14, 2017

কায়রোর দিনলিপি (১)

প্রথম চব্বিশঘণ্টাঃ
গতকাল এয়ারপোর্ট থেকে আসার পথে কোন এক জায়গায় মোবাইলটা হারিয়ে ফেলা ছাড়া বাকি অনুভূতিগুলো ভালই ছিল।
এই যেমন গতরাতের ডিনারে সাত পাউন্ডের সুস্বাদু "হাওয়াশী" খাওয়া থেকে নিয়ে শুরু করে আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের সাহায্যে অল্প সময়ের ভেতরই পুরো কায়রো শহর ঘুরে আসা তাও আবার মাত্র দুই পাউন্ডে। মিসরী এক পাউন্ড এখন আমাদের দেশের চার, সাড়ে চার টাকার মত। সে হিসেবে তো সবকিছুই বেশ কম। 
শহরটাও দেখতে সুন্দর। দুপুরের কড়া রোদটুকু বাদ দিলে বাকি সময়ে ঘুরেফিরে বেশ সুখের একটা অনুভূতি হবে। বিশেষ করে মাগরিবের পরের মৃদু বাতাস গায়ে মাখিয়ে ঘুরলে তো কথাই নাই। মজার ব্যাপার হল, এত রোদেও শরীর একদম ঘামেনা। শুধু চেহারাটা একটু কালা হয়া যায়, এই আর কি... 

Tuesday, March 28, 2017

বাংলাদেশে সেক্যুলারিজম যেদিন থেকে ইস্যু হওয়ার যোগ্যতা লাভ করলো

পচাত্তর সালে আওয়ামীলীগের পতনকে 'বাংলাদেশী' জাতীয়তাবাদের উত্থানটা ছিলো এই দেশের মানুষের মুক্তি-সংগ্রামের চুড়ান্ত অর্জন বলে বলে করে জাতীয়তাবাদীরা। কিন্তু তারপর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশী আর বাঙালি হয়ে ওঠার দ্বিপাক্ষিক লড়াইটা চলছে। যারা বাঙ্গালী হতে চান তাদের মতে, বাংলাদেশী হতে চাওয়াটার মাধ্যমে পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি দ্বিজাতিতত্ত্বের দিকে ফিরে যাওয়া হইছিলো। কথাটা ঠিক না। এতো সরলভাবে দেখলে আসলে রাজনীতির সত্যিকার অর্থটা দেখা যায়না। 
আসল কথাটা হলো এই অঞ্চলের মুসলমানদের নিজস্ব যেই ইসলাম-চিন্তা মেশানো আইডেন্টিটি আছে, সেই আইডেন্টিটিটাকে বাকশালী চিন্তা দিয়া ধামাচাপা দেয়ার একটা চেষ্টা ছিল। কিন্তু সমাজের আইডেন্টিটিরে আপনি  ধামাচাপা দিয়া রাখতে পারবেন না। 
এই বিষয়টারে পরিস্কার করছিলেন ডেনিস রাইট নামের এক ইতিহাসের প্রফেসর ভদ্রলোক। তিনি লেখছিলেনঃ 'যদিও আওমীলিগ ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ভারতের কথা অনুযায়ী বাংলাদেশকে সেকুলার রাষ্ট্র নাম দিছিলো, কিন্তু বাংলাদেশীরা তাদের ইসলামী অতীত সবসময় মনে রাখছে। ... বরং ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাড়াইয়  গেছে বাংলাদেশের ইসলামিক আইডেন্টিটি। পাকিস্তানের সময় এইদেশে আসলে সেকুলারিজম কোন ইস্যই ছিলো না, আসল ইস্যু ছিলো ডেমোক্রেসি'( ভাবানুবাদ, ডেনিস রাইট, ইসলাম এন্ড বাংলাদেশী পলিটি, জার্নাল অফ সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, ১০/২, ১৯৮৭, পৃ২১)।
এই উপমহাদেশের নিজস্ব আওয়ামী সেকুলারিজম (য়ুরোপিয়ান সেকুলারিজম না) যখন চাপায়া দেয়া হইলো, বাংলাদেশীরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের আসল আইডেন্টিটির তাড়না বোধ করলো। একারণেই এই সময়ে আসা 'বাংলাদেশী' রাজনৈতিক চিন্তাটা একটা ইউনিক আইডিয়া। এর ধারাবাহিকতায় সাতাত্তর সালে জিয়াউর রহমান সংবিধান থেকে সেকুলারিজম কে বিদায় দিয়া আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বসায়া দিলেন।
তার উপর ভিত্তি করে এরশাদ অষ্টাশি সালে রাষ্ট্রধর্ম বানাইলো ইসলাম। 
দুইহাজার দশ সালে যখন  সংবিধানে যখন আবার সেকুলারিজম বসাইলো, তখন জিয়ার দল বিএনপি এবং সকল ধর্মীয় দল হাওয়া খাইতেছিলো। পুরাপুরি সাধারণ মানুষের দোষ দেই না। বেশি দোষ হইলো রাজনীতিবিদ আর বুদ্ধিজীবিদের। তারা সেই সময় মানুষকে বুঝাইতে পারেনাই কত বড় শয়তানি হইতেছিলো। সম্ভবত তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনাই। এবার যখন প্রতীকি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদের নাটক হইতেছে এখন সবার নাওয়া খাওয়া হারাম হৈ গেছে।

লেখাটা অন্য একজন লেখকের থেকে নেয়া কিন্তু এই আলোচনা যখন চলছিল তাঁর দুইদিন পরই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহালের রায় আসলো। রিট খারিজ করে দিল আদালত। লেখাটা যিনি লিখেছেন তাঁর সব পয়েন্টের সাথে আমি একমত নই। কারণ উনি আইডেন্টিটির কথা বলে আবার শেষে সেই আইডেন্টিটিকেই সামান্য প্রতিকি বানিয়ে ছাড়তে চেয়েছেন। তবে তাঁর কিছু পয়েন্ট ভাল ছিল বিধায় টুকে রাখলাম। 

রাষ্ট্রধর্ম বহাল থাকার ঘোষণা আসার পরের স্ট্যাটাসঃ 

আলহামদুলিল্লাহ। মামলার রিট খারিজ করে দিয়েছে আদালত। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রয়েছে। আমরা এটাকে সুস্পষ্ট বিজয় বলতেই পারি।

একাত্তর টিভির ব্রেকিংটা দেখতে পারলে কি শান্তিটা যে লাগতো । আমি শুধু সেই উপস্থাপকগুলার এক্সপ্রেশনটা দেখতাম। আর গোলাম মোর্তজার কাছে জিজ্ঞেস করতাম " সংখ্যালঘুরা তো জিতা গেল। আপনারা সংখ্যাগুরুরা কি করবেন এখন?"
(এই লোক সেইদিন টকশো থেকা বের হয়া আমাদেরকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক বললেছিলেন)

কিন্তু বিজয়ের পরও কিছু কাজ বাকি থেকে যায়। ক্ষমার আযোগ্য শত্রুগুলোকে মুখোশ পালটে ফেলার আগেই সনাক্ত করে রাখতে হয়।

Saturday, December 17, 2016

বিপন্ন মানবতার আর্তনাদ (৩)


কাজের ক্ষেত্র ও রাহবারের কৃতজ্ঞতা


গত দুইদিন রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ না শুনানোর পেছনে একটা বিশেষ কারণ ছিল। বিজয়ের ধ্বনিতে উল্লাসিত ফেসবুক নিউজফিডকে দুঃখ-কষ্টমুক্ত রাখা। তবে এবারের বিজয় দিবসে তাদের স্ট্যাটাসগুলো খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করে পড়ার চেষ্টা করেছি  যারা সিরিয়া আর মিয়ানমারের মানচিত্রে রক্তের দাগের ভেতর দিয়ে বিজয় আনন্দ পালনের অর্থ  খুজে পাননি। তখন মনে হয়েছে, কিছু মানুষ এখনো বেচে আছে।
তো গল্পটা থামিয়েছিল শরণার্থী ক্যাম্পের ভেতর। ক্যাম্প নিয়ে একটু বলি। সদ্য ওপাড় থেকে আসা রোহিঙ্গা যারা আছে তাদেরকে খুজে পেলে আশ্রয় দেয়ার নামে নিবন্ধন করে করে সেই বন্দিশালায় আটক করা হয়। এবং কোন ধরনের নূন্যতম নাগরিক সুবিধা তো দূরের কথা, দুবেলা খাওয়ার জন্য উপার্জন করতে চাইলেও এই অসহায় মানুষগুলোকে বেশ বাধা বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়। যে ঘরটাতে পাচজন পুরুষ আর পাচজন মহিলা থাকছে তারা দশজনই হয়তো ওপাড়ের দশটা পরিবার থেকে আসা। অনুভূতিগুলো পাথর হয়ে যাওয়ার পর থেকে এভাবে পশুর মত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েই বোধহয় ফেলে আসা অতীতের কষ্টগুলো ভুলে যাবার চেষ্টা করছে তারা। এরপর খাবারের সময় হলে যখন ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ পাচজনের খাবার দশজনকে খেতে দেয়, তখন বাচার তাগিদে তারা শিখে নেয়, কি করে ক্ষুধার্ত হায়নার মত শিকার দেখলেই হামলে পড়তে হয়। যে মানুষগুলোর সামনে দুই প্লেট খাবার এতটা অনিরাপদ সেখানে আপনি যখন ত্রাণ নিয়ে যাবেন আর তারা সেটা বুঝতে পারবে তখন আপনি কতটা নিরাপদ হবেন চিন্তা করেন?
ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের লালবাগ জামেয়ার উস্তাদ মাওলানা ইসহাক সাহেব। ক্যাম্পে ঢুকে যাওয়ার পর উনাকে পেছন থেকে পুলিশ ডাক দিয়ে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল। হুজুর বলেছিলেন যে তিনি কেবলই ক্যাম্পটা ঘুরে দেখতে এসেছেন। পুলিশের কথাবার্তা শুনেও বুঝা যাচ্ছিলো যে পুলিশ হুজুরের কথা বিশ্বাস করছেনা। এরপরও হুজুরকে সাবধান করে ছেড়ে দেয়ার মতলব হল, "আপনারা ত্রাণ দেন সমস্যা নাই, তবে ভুলেও কিন্তু আমাদের চোখের সামনে পইড়েন না।"
ঢাকা থেকে অনেকে আবার ত্রাণ নিয়ে গিয়ে শরণাপন্ন হন স্থানীয় ক্ষমতাসীন নেতাদের। যেই নেতারা দায়িত্ব নিয়ে বেশিরভাগ ত্রাণ বিলি বন্টন নিজ দলের কর্মীদের মাঝেই সেরে ফেলেন। আর অনেকে সাহায্যের জন্য স্থানীয় লোক খুজতে গিয়ে পড়েন দালালের খপ্পরে। দালালরাও নেতাদের মতই। নিজেদের লোকদের রোহিঙ্গা বানিয়ে আপনার সামনে এনে হাজির করবে।
তাই সবচেয়ে নিরাপদ হল, এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে যারা তাবলীগের কাজের সাথে জড়িত এমন কাউকে সাথে রাখা। তারা অনেক সমস্যা থেকে বাচাতেও পারেন আবার পুরাতন রোহিঙ্গাদেরও চিনে তাদেরকে লাইন থেকে সরিয়েও দিতে পারেন।
টেকনাফে যাওয়ার পর যেই মানুষটি আমাদের সবচেয়ে বেশী সহযোগিতা করেছেন তিনি হলেন আমাদের ইয়াকুব মামা।  আমরা যাওয়ার আগে থেকেই তিনি অতিগোপনে ও সুকৌশলে স্বার্থহীনভাবে একাই কাজ করে যাচ্ছিলেন। উনি না থাকলে আমাদের কাজের শুরুটা আরো অনেক ধীর গতিতে হত। হয়তো সম্ভবই হতো না। যাওয়ার সাথে সাথেই উনার তাজা তাজা অভিজ্ঞতাগুলো পাওয়াতে আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকার পরও শুধুমাত্র আমাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে ঢাকা ফেরার প্রোগ্রাম ক্যানসেল করে দিয়েছেন। মামা! আপনার এসব স্বার্থহীন কাজগুলো আপনার প্রতি ভাল লাগার পরিমাণ সত্যিই অনেক বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহ আপনার সবধরনের খেদমতকে কবুল করুক।
এরপর শুরু হয়ে গেল আমাদের কাজ। আগামী পর্ব থেকে সদ্য আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের খুজে বের করার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলবো ইনশাল্লাহ।

Wednesday, December 14, 2016

বিপন্ন মানবতার আর্তনাদ (২)


প্রশাসনের গতিবিধি ও হালকা বিশ্লেষণ

বর্ডার গার্ডের এধরণের অস্বাভাবিক আচরণে অবাক হব কিনা বুঝতে পারছিলাম না। মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে এভাবে আমাদের নাম কেন জিজ্ঞেস করছে সে? আবার খুব ধমকের সুরে সাবধানও করে দিচ্ছে আমরা যাতে কেউ নিজেদের পরিচয় গোপন না করি। তবে এরপরের প্রশ্নেই আমাদের কাছে তার অস্থিরতার রহস্য স্পষ্ট হয়ে গেল। ঘটনা হচ্ছে,উপর থেকে তাকে নির্দেশ দেয়া আছে, ঢাকার অমুক ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা থেকে অমুকেকের নেতৃত্বে এই রাস্তা দিয়েই বিশাল ত্রাণের বহর যাবে। তাদেরকে যেকোন মূল্যে আটকাতে হবে। কারণ দুর্ভাগ্যবশত তাদের ঢাকঢোল পিটানোর শব্দটা একটু বেশিই জোরে হওয়াতে প্রশাসনের কান পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিল। অতএব এ থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করলাম যে প্রকাশ্যে ত্রাণ বিতরণে প্রশাসনের ব্যাপক আপত্তি আছে।
এবার হালকা বিশ্লেষণের দিকে যাওয়া যাক।
মিয়ানমারে গত দুমাস আগে নতুন করে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পরপর রোহিঙ্গারা যখন এপাড়ে আসতে শুরু করেছিল তখন সরকার এদের প্রবেশে বাধা দেয়ার ব্যাপারে খুব কঠোর ছিল।  এদিকে সবাই বলছে, মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাধ্য করা ছাড়া অন্য কোন উপায়ে এর স্থায়ী সমাধান আসবেনা। কিন্তু এসব "আবেগী" বক্তব্যের উপর আমল করে দেশীয় স্বার্থকে ছোট
করে দেখার সময় এবং সুযোগ আসলেই আমাদের সরকারের নেই। চীনের সাথে ব্যাপক লেনদেনের একটা বিষয় আছে। মিয়ানমারকে চাপ দিলে যদি এ সম্পর্কের অবনতি হয়ে যায়! তাই দেশীয় স্বার্থের কথা ভেবেই হয়তো কিছু বলছেনা সরকার। আচ্ছা, এই ব্যাপারটা কি কেউ লক্ষ্য করেছেন? চীন সরকার যে বিবৃতিটা এক ডিসেম্বর দিয়েছিল, আমাদের সরকার হুবহু সেই কথাটাই নয় তারিখে এসে বলেছে। "সামরিকশক্তি নয় আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে।"
অসাধারণ বক্তব্য!
গল্পের এ অংশ পর্যন্ত আমরা প্রথম পর্ব হিসেবে ধরে নিতে পারি। এরপর ধরেন স্ক্রীনে ভেসে উঠলো "ইন্টারভাল"...
পরের পর্বে এসে ধীরে ধীরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কঠোরতা রহস্যজনকভাবে কমে আসতে থাকে। বর্ডার শিথিল হয়। কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন মানবতার কথা। আর ইসলামপন্থীদের ব্যাখ্যা হল, আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বিধায় সরকার বর্ডার শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। এগুলোর যেকোন একটি বাস্তব হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কথা আমি বিলকুল অস্বীকার করছিনা। তবে এসব কিছুর পূর্বে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমি শুধু সেইদিকটায় একটু ফোকাস করতে চাচ্ছি। এতে করে সেখানকার পরিস্থিতি বুঝতে সহজ হবে।
যদি পত্রিকায় কারো নিয়মিত নজর বুলানোর অভ্যাস থাকে তাহলে তিনি অবশ্যই জানবেন যে কিছুদিন আগে জাতিসংঘের কফি আনান সাহেব মিয়ানমারে গিয়ে তেমন কোন পাত্তা পাননি। মংডুতে তার চোখের সামনেই মকদস্যুরা রোহিঙ্গা নিধনের বর্বরতার চিত্র প্রদর্শন করেছে। তাই তিনি ফিরে এসে কিছু অভিযোগ তুলে উনার দায়িত্ব পালন করে ক্ষান্ত হলেন। এরপর যা হলো, কিছু মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশকেই মানবতার প্রদর্শন করতে আহবান জানালো। এদিক থেকে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তাদেরকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিতে বলছেন। খাপে খাপ মিলে গেলনা? আশ্রয় দেয়া যে স্থায়ী কোন সমাধান না এ ব্যাপারে সবাই একমত হওয়ার পরও এই শিথিলতার মানে কি?
এখনো বুঝেননাই ব্যাপারটা। সরেজমিন নিয়ে একটু বলি নাইলে বুঝবেন না।
ওপাড় থেকে আসা রোহিঙ্গারা দুই ধরণেরঃ
১. নিবন্ধিত। তারা শরণার্থী শিবিরে বা ক্যাম্পগুলোতে থাকছে। এরা হচ্ছে পুরাতন অনুপ্রবেশকারী।
২. অনিবন্ধিত। এরা নতুন এসে কারো ঘরে গোপনে আশ্রয় নিয়েছে। যারা সাতই অক্টোবর শুরু হওয়া নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে এপাড়ে এসেছে।
এখন এই পুরাতন যেই রোহিঙ্গারা আছে তারা নিবন্ধিত হওয়ার ফলে জাতিসংঘসহ আরো কিছু সংস্থা থেকে বিরাট অংকের একটা টাকা এদের জন্য আসে। দায়িত্বশীলরা নিজ দায়িত্বে এখান থেকে ব্যাপক লুটপাটও করে থাকেন। তাই রোহিঙ্গারা যতক্ষণ পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসনের শোষণে অভ্যস্ত লোকদের জন্য ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি। অতএব এসব দায়িত্বশীলদের সাথে পরামর্শ বসলে তো সরকার অবশ্যই রোহিঙ্গা আসতে দিতে বলবেন।
যাইহোক দুইপর্ব বিশিষ্ট এ নাটকে যে সরকার অসাধারণভাবে ব্যালেন্স ধরে রেখেছে সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। হয়তো বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতা বাস্তবতা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছে। হতেও পারে। আমি কেবল আমার খালি চোখে দেখা ঘটনা সামনে রেখে বিশ্লেষণ করেছি।
তবে এটা সত্যি যে যদি সরকারী অনুমতি নিয়ে ত্রাণ দিতে যেতে হয় তাহলে এই নিবন্ধিত পুরাতন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়েই ফিরে আসতে হবে। প্রকৃত হকদার পর্যন্ত পৌছার সুযোগ খুব একটা নেই। কারণ প্রশাসনের কাছে নতুন রোহিঙ্গারা অবৈধ। সুযোগ সুবিধা পেতে চাইলে তাদেরকে নিবন্ধিত হয়ে সেই ক্যাম্প নামক মৃত্যুকূপে ঢুকতে হবে। কারণ নিবন্ধিত ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা এখন আর মানুষ হিসেবে বেচে নেই। ক্যাম্পের পরিবেশ পরিস্থিতি তাদেরকে পশুর মত একটা জীবন যাপন করতে বাধ্য করেছে। এরা এতটাই ক্ষুধার্ত হায়নার মত ভেতরে থাকে যে একবার যদি বুঝতে পারে আপনি ত্রাণ নিয়ে গেছেন গায়ের কাপড়টা নিয়েও ফিরে আসতে দিবে কিনা সন্দেহ। এসব দিক বিবেচনায় আমরা আর ক্যাম্পমূখী হবোনা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সুকৌশলে বাইরে বিভিন্ন ঘরে আশ্রয় নেয়া নতুন রোহিঙ্গাদের নিয়েই কাজ করবো।  এরপরও একদিন আমাদের কাফেলার এক হুজুর ক্যাম্পে ঢুকার সাহস করেই ফেললেন। বাধাহীনভাবে প্রথমে ঢুকেও পড়েছিলেন। হঠাৎ ঠিক পেছন থেকে একজন ডাক শুনে থেমে গেলেন....
(চলবে)

Tuesday, December 13, 2016

বিপন্ন মানবতার আর্তনাদ (১)


শত প্রতিকূলতা ঠেলে নাফ নদীর তীরে

"তাহলে আগামী সোমবার আমরা ত্রাণ নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি।"
টেকনাফ যাওয়ার আগের বুধবার বিকালে লালবাগ জামেয়ার দফতরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হল। নাফ নদির ওপাড় থেকে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে, সহায় সম্বল সবকিছু হারিয়ে টেকনাফে এসে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাহায্যার্থে গঠিত ত্রাণ তহবিলে তখনও কিছুই জমা পড়েনি।
কাজে নেমে পড়লাম। দুদিন যেতে না যেতেই ত্রাণ বিতরণ সংক্রান্ত নানান জল্পনাকল্পনা ও প্রতিবন্ধকতার খবর বাতাসে ভেসে আসতে শুরু করলো। সোমবার দিনটা যতই ঘনিয়ে আসছিল ত্রাণ বিতরণ নিয়ে বহুমুখী বিধিনিষেধ আরোপের ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোরতার একটা আভাষ পাওয়া যাচ্ছিলো। এদিকে প্রচুর শীতবস্ত্রসহ বিরাট অংকের টাকা তহবিলে জমা হয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে এ ধরণের সংবাদ পেয়ে বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়াটাই স্বাভাবিক। চারিদিক থেকে ফোন আসতে শুরু করল, "শুনেছি ত্রাণ নিয়ে নাকি যাওয়া যায় না? প্রশাসন নাকি বাধা দিচ্ছে? তাহলে আপনারা কিভাবে যাচ্ছেন?"
আল্লামা আহমদ শফি সাহেব দা.বা. রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ানোর আহবানের খবরটা যেদিন পত্রিকায় এসেছে ঠিক সেদিনই আমরা উদ্যোগটা নিয়েছিলাম। আমাদের দায়িত্বশীল উস্তাদগণের মাধ্যমে হাটহাজারীতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। যতটুকু বোঝা গেল, বাতাসে ভেসে আসা খবরগুলোর আংশিক সত্যতা ছিল। তবে একদিন যেতে না যেতেই খুব আশাব্যঞ্জক একটা সংবাদ পেলাম। আহমদ শফি সাহেব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে ফোনে কথা বলেছেন। এবং মন্ত্রী ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ সংবাদ পেয়ে আমাদের কাজের গতি বেড়ে গেল।
ঠিক রওনা হবার দিন জানতে পারলাম, আহমদ শফি সাহেবকে দেয়া প্রশাসনের এ অনুমতি কেবলই মৌখিক।  তাই অন্য কেউ ত্রাণ বিতরণ করতে পারবে কিনা এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত না। সিদ্ধান্ত হল, আমরা প্রথমে হাটহাজারী যাবো, এরপর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
মংগলবার ফজরের পরপর আমরা হাটহাজারী পৌছলাম। সেখানকার দায়িত্বশীলদের সাথে খোলামেলা আলাপ করে বুঝতে পারলাম যে সরকারী অনুমতির কোন অগ্রগতি নেই। ফোনের আলাপে যা জেনেছিলাম পরিস্থিতি এখনো সেখানেই আটকে আছে। সরকার দিবে দিবে করে এখনো লিখিত অনুমতি দেয়নি। তাই হাটহাজারীও প্রকাশ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য আরো দু'চারদিন অপেক্ষা করবে। আমরা তখনই বুঝে নিয়েছি যে হাটহাজারী ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিলে তাতে বাধাগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা প্রবল।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে এখনো প্রশাসন তাদের সেই "দুইদিনে"র আশা দিয়ে রেখেছে। আর তারাও স্বীকৃতির মত "গুরুত্বপূর্ণ" বিষয় নিয়ে অতিব্যস্ত সময় পার করছে। জোরদার আন্দোলন করে মায়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ কেন করছেনা সেটা ভাবছেন? কেন? এটা কি হেফাজতের দায়িত্ব  নাকি? আচ্ছা, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ফরিদ উদ্দিন মাসুদ সাহেবের বক্তব্য কি? অং সান সুচিকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য কি কোন "ফতুয়া" সাক্ষরিত হচ্ছে?
থাক সেসব কথা। প্রশাসনের প্রতিশ্রুত সেই "দুইদিন" অপেক্ষার সময় ও সুযোগ তখন আমাদের হাতে ছিল না। আর এত সহজে আমরা ফিরেও আসছিনা। দায়িত্ব যখন নিয়েই ফেলেছি যে করেই হোক এই ত্রাণ মানুষের হাতে হাতে পৌছে দিতে চেষ্টার কোন ত্রুটি করবোনা আমরা। কতদূর যেতে পারবো সে ফায়সালা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। তবে এটা সত্যি যে বর্ডার গার্ডরা কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও মানবতার দিকটি প্রাধান্য পেয়েছিল। এসব কিছু বিবেচনায় আমারা ধারণা করেছিলাম যে কাজটা করার ক্ষেত্রে একটু কৌশলী হতে পারলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। ধারণাটা একেবারেই ভুল ছিলনা।
হাটহাজারী থেকে আসর পড়েই রওনা হলাম। কক্সবাজার পৌছতে রাত হল। কক্সবাজারে রাত কাটানোর বিষয়টা অবশ্য পূর্বপরিকল্পিত ছিল। কারণ টেকনাফে ঢুকতে বর্ডার গার্ডের কড়া পাহাড়াদারীতে থাকা সাতটি চেকপোষ্ট পাড়ি দিতে হয়। ফজরের পর রওনা হলে সেসব চেকপোস্টে সেনাবাহিনীরা গাড়ি খুব একটা থামায় না। কারণ কেবলমাত্র সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলেই সাধারণত এত সকালে কেউ এই পথে যায়। এটা নিত্যদিনকার ঘটনা। তাও একেবারে শেষ চেকপোস্টটায় গাড়ি থামানো হল। কড়া নির্দেশের ভঙ্গিতে একজন আর্মি গাড়ির সামনে এসে দরজা খুলতে বলল। ভাবসাব দেখে মনে হল, সে আমাদের ব্যাপারে আগে থেকে কোন সংবাদ পেয়ে গেছে। কিন্তু আমরা তো এত ঢাকঢোল পিটিয়ে আসিনি, তাহলে সে এতসব জানবে কোত্থেকে!.....
(চলবে)

The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...