Thursday, November 9, 2017

আরবী সাহিত্যচর্চা : কিছু কথা



সাহিত্য এবং জীবনঘনিষ্ঠ যে কোনো বিষয়ে সুন্দর ও সাবলীল প্রকাশ আল্লাহ তাআলার এক বিরাট নিআমত। নিঃসন্দেহে এই নিআমত যার ভাগ্যে জুটেছে সে অনেক উত্তম জিনিস পেয়েছে। সাহিত্যের আকর্ষণ সব কিছুকে ছাড়িয়ে যায়। সুন্দর ও উত্তম সাহিত্য মনকে আকৃষ্ট করে খুব সহজেই। হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে খুব অল্পতেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"إن من البيان لسحرا"
নিশ্চয় সুন্দর ও সাবলীল প্রকাশ ভঙ্গিতে যাদু রয়েছে।এই যাদুকে অনেকে বলেছেন, "السحر الحلال" বা হালাল যাদু। তাই কবি-সাহিত্যিকরা তাদের এই মোহনীয় শক্তি আর হালাল যাদু দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। তাইতো কবি সাহিত্যিকদের সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে সকলের কাছেই। মরে যাওয়ার পরও তারা বেঁচে থাকেন যুগ যুগ ধরে।
আমাদের তালিবুল ইলম ভাইদের অনেকেরই মনের ইচ্ছা ও বাসনা আরবী ভাষায় সাহিত্য চর্চা করা। সে ভাষায় কিছু রচনা করা। মনের ভাবটাকে আরবীতে সুন্দর ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলা। কিন্তু কীভাবে সম্ভব আরবী সাহিত্য রচনা করা? লেখার কৌশলটা রপ্ত করা? মনের ভাবগুলো লেখায় ফুটিয়ে তোলা? ভাষার গাঁথুনী মজবুত করা?
এই প্রশ্নের উত্তর সত্যিই দীর্ঘ। প্রয়োজন অনেক সময় ও দীর্ঘ আলোচনার। তবে কবি-সাহিত্যিক সকলের সর্বসম্মত কথা হচ্ছে, সাহিত্যরুচি তৈরীর জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে অধ্যয়ন এবং লেখালেখির চর্চা। সাথে সাথে প্রতিষ্ঠিত ও প্রসিদ্ধ লেখক সাহিত্যিকদের রচনাশৈলীর অনুসরণ করা। তাদের জীবনী অধ্যয়নের মাধ্যমে তাদের লেখার কৌশলগুলোকে ভালভাবে আয়ত্ত করা। এভাবে পর্যাপ্ত পড়াশোনা আর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এক সময় নিজের মাঝে চলে আসবে সাহিত্যরুচি, পাকা হবে সাহিত্যের বুনিয়াদ। তৈরী হবে সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় ভাব প্রকাশের অভিনব ও সৃষ্টিশীল কৌশল। আমি হয়ে উঠব পরিশীলিত ভাষার অধিকারি। আমার লেখায় ফুটে উঠবে ভাব ও মর্মের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
এক্ষেত্রে সকলের জানতে ইচ্ছে করে কোন্ ধরনের বই পড়বো, এবং কোন্ কোন্ সাহিত্যিকের বই অধ্যয়ন করবো? মূলত বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের আলোচনা ও গবেষণায় সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্যরুচি তৈরীর জন্য কিছু প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থ অধ্যয়নের পরামর্শ পাওয়া যায়। সাথে সাথে আমার নিজস্ব অধ্যয়ন থেকেও কিছু গ্রন্থ আমি এক্ষেত্রে যথেষ্ট মুফীদ ও উপকারী পেয়েছি। এই ছোট্ট প্রবন্ধে সেই প্রাচীন ও আধুনিক আরবী সাহিত্য-গ্রন্থসমূহের পরিচিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার প্রয়াস পেয়েছি।
শুরুতেই কিছু প্রাচীন গ্রন্থের কথা বলি, যার প্রচুর অধ্যয়নেই তৈরী হয়েছে আধুনিক সাহিত্যিকদের সাহিত্য রুচি। শক্তিশালী হয়েছে তাঁদের ভাষার গাঁথুনী। যার উপর ভিত্তি করে তাঁরা পরবর্তীতে তৈরী করেছেন আধুনিক, সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল সাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডার। সৃষ্টি করেছেন উত্তম থেকে উত্তম সাহিত্য-সমাহার।
তাই শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ, বাক্যশৈলী আত্মস্থকরণসহ সাহিত্যরুচি তৈরিতে প্রাচীন গ্রন্থগুলোকেই অগ্রাধিকার দেয়া একান্ত কর্তব্য।
প্রাচীন গ্রন্থগুলোর মধ্যে সেই চারটি গ্রন্থ আমি আগে উল্লেখ করব, যার ব্যপারে "ابن خلدون" তার "مقدمة" -এ বলেছেন-
"و سمعنا من مشايخنا في مجالس التعليم أن أصول هذا الفن و أركانه أربعة دواوين، و هي : أدب الكاتب لابن قتيبة، و كتاب الكامل للمبرد، وكتاب البيان و التبيين للجاحظ، و كتاب النوادر لأبي علي القالي، وما سوى هذه الأربعة فتوابع لها، و فروع عنها."
এবং যাকে ড. ইযযুদ্দীন ইসমাঈল তার গ্রন্থ
"المصادر الأدبية واللغوية في التراث العربي"-أمهات المصادر الأدبية
বলে উল্লেখ করেছেন। সাথে সাথে ব্যাপকার্থে এই গ্রন্থগুলোকে موسوعات في الثقافة الأدبية العربية বা আরবী সাহিত্য সংস্কৃতির বিশ্বকোষ বলে অবিহিত করেছেন।
এক. "البيان والتبيين" লেখক আবু উছমান আল জাহেয। আরবী সাহিত্যের ময়দানে এক অনন্য গ্রন্থ। বয়ান-বক্তৃতা, অলংকার শাস্ত্র ও লেখনী-কৌশলসহ অসংখ্য বিষয় তিনি এ গ্রন্থে একত্রিত করেছেন। ভাষা-বিজ্ঞানের অনেক বিষয়, যা নিয়ে আজ আধুনিক বিশ্বে নতুনভাবে গবেষণার সূত্রপাত ঘটেছে, তা তিনি এই গ্রন্থে সুন্দর ও সাবলীলভাবে আলোচনা করার প্রয়াস পেয়েছেন। তবে এই গ্রন্থের একটি সমস্যাও রয়েছে, আর তা হচ্ছে গ্রন্থটির বিষয়বস্তু আগোছালো। তবে এতদ¦সত্তে¡ও সাহিত্যরুচির ভিত গড়তে এর ভমিকা অনন্য।
দুই. ইবনে মুবাররদ এর الكامل বা الكامل في اللغة والأدبগদ্য ও পদ্য, প্রবাদ-প্রবচন আর অসংখ্য বিষয়ের অনবদ্য আলোচনা রয়েছে এই গ্রন্থে। আরবের সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষীর কথা অর্থাৎ হাদীসের শব্দ অবলম্বন করে কবিতা, প্রবাদ প্রবচনের মাধ্যমে সে শব্দের ব্যবহার দেখাতে দেখাতে তিনি সামনে অগ্রসর হয়েছেন। পাঠককে আনন্দ দিতে কখনও কখনও বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকদের ঘটনার অবতারণা করেছেন। কঠিন শব্দের অর্থ না বুঝে হয়ত পাঠক এক পর্যায়ে থেমে যেতে পারে, সে দিকটিও তিনি লক্ষ্য রেখেছেন। তাই কোনো দূর্বোধ্য শব্দ এলেই সাথে সাথে তার অর্থ ও সুন্দর ব্যখ্যা দিয়েছেন। তার এই গ্রন্থের ব্যাপারে তিনি নিজেই ভমিকায় বলেন-
"هذا كتاب يجمع ضروبا من الآداب، ما بين كلام منثور، وشعر مرصوف، و مثل سائر، وموعظة بالغة، واختيار من خطبة شريفة، ورسالة بليغة."
তিন. ইবনে কুতাইবা রচিত أدب الكاتبলেখালেখি আত্মস্থ করার কৌশলসহ অসংখ্য দিকনির্দেশনা তিনি এ কিতাবে দিয়েছেন। শব্দসম্ভার তৈরি, শব্দের সঠিক প্রয়োগ, সঠিক বাক্যগঠন পদ্বতি এবং বিশেষত আরবী বানানের রীতি বা ইমলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি চমৎকার আলোচনা করেছেন। লেখালেখিতে হাত পোক্ত করা আর বয়ানে মুখ পাকা করতে তিনি তার কিতাবে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশে সুন্দর আলোচনা করেছেন। তবে সবচেয়ে চমৎকার ও আনন্দের বিষয় হচ্ছে, তিনি লেখক ও বক্তার বাহ্যিক দিকের চেয়ে নৈতিক, চারিত্রিক ও আত্মিক দিকের সচ্ছতার দিকে নযর রাখার প্রতি তাকিদ দিয়েছেন। বুঝাতে চেয়েছেন যে সাহিত্যিক যদি নৈতিকতার প্রশ্নে উত্তীর্ণ না হতে পারে, তাহলে তার সাহিত্য সুসাহিত্য হতে পারে না। তিনি তার কিতাবের ভমিকায় বলেন-
"ونحن نستحب لمن قبل عنا وائتم بكتبنا أن يؤدب نفسه قبل أن يؤدب لسانه، ويهذب أخلاقه قبل أن يهذب ألفاظه، ويصون مروءته عن دناءة الغيبة، وصناعته عن شين الكذب، ويجانب – قبل مجانبة اللحن وخطل القول- شنيع الكلام ورفث المزاح."
চার. আবু আলী আল-ক্বালি রচিত النوادر, যাকে أمالي القالي -ও বলা হয়। আরবী সাহিত্যের ময়দানে এক অমূল্য সংযোজন। যাকে আরবী সাহিত্যের ভাণ্ডার বলা চলে। এ কিতাবে আরবদের প্রবাদ-প্রবচন ও বাগধারার ব্যবহার বেশি লক্ষ করা যায়। এছাড়াও গদ্য-পদ্যের বিশাল সমাহার রয়েছে এতে। তবে এ কিতাবের একটি বিশেষ সমস্যা হচ্ছে, এর বর্ণনায় বিক্ষিপ্ততা রয়েছে। সময় ও কালের ধারা এতে রক্ষা করা হয়নি। এছাড়াও এতে কবিতার কবির নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে কিছুটা অসচেতনতার ছাপ লক্ষ করা যায়। এ মত বিজ্ঞজনের।
এছাড়াও কবিতা এবং গদ্য লেখার প্রতিভাকে আরো শাণিত ও শক্তিশালী করতে একটি চমৎকার গ্রন্থ المثل السائر في أدب الكاتب و الشاعرরচনা করেছেন ইবনুল আছীর রাহ.। সাহিত্যরুচি তৈরিতে যথেষ্ট উপকারী গ্রন্থ । বিশেষ একটি ভালো দিক হচ্ছে গ্রন্থটি সাজানো গোছানো ও চমৎকার শৈলীতে রচিত। তাই অনেকটা সুখপাঠ্য। পাঠককে সহজেই সামনে অগ্রসর হতে সাহায্য করে। তরতর করে পড়ে ফেলা যায়। আর অনেক আধুনিক সাহিত্যিক তো এমনও বলেছেন যে, এই দৃষ্টিকোণ থেকে এই গ্রন্থটি একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বললেও অতিশয়োক্তি হবে না। এই বইটি অধ্যয়ন করে যদি কেউ আত্মস্থ করতে পারে, তাহলে বলা যেতে পারে, সাহিত্য তথা গদ্য ও পদ্য এবং সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে তার এক বিশাল সম্ভার তৈরি হবে। এই ময়দানে সামনে বাড়ার জন্য তাকে সাহস যোগাবে। এ ক্ষেত্রে আরেকটি গ্রন্থالصناعتين , যা রচনা করেছেন أبو هلال العسكريএ গ্রন্থটি থেকে পাঠক আরবী শব্দের অর্থ কীভাবে বের করতে হয়, সাহিত্য সমালোচনা কীভাবে করতে হয় তার দিকনিদের্শনা পাবে। সাথে সাথে এ গ্রন্থে রয়েছে লেখালেখি বিষয়ক অনেক আলোচনা। আরেকটি চমৎকার বিষয় এতে রয়েছে, তা হচ্ছে শব্দ ও অর্থ ব্যবহারের নিয়ম পদ্ধতি।
এছাড়াও আরো অনেক গ্রন্থ আরবী সাহিত্যের মাকতাবায় রয়েছে। যার অধিক পরিমাণে অধ্যয়ন পাঠকের হৃদয়ে তৈরী করবে সাহিত্যের প্রতি টান। যার মুতালাআয় জুড়াবে তার মন ও প্রাণ। তাদের চিন্তার অনুসরণে তৈরী হবে নিজের মাঝেও সৃজনশীল চিন্তা। তাদের লেখার অনুসরণে তৈরী হবে সৃষ্টিশীল লেখা। এজাতীয় গ্রন্থের মধ্যে আরো কিছু হচ্ছে أبو حيان التوحيدي ابن عبد ربه -এর العقد الفريد, ইবনে কুতাইবা রচিত عيون الأخبار, ইবনে হিব্বান আদ্দাবুসী রচিত روضة العقلاء ونزهة الفضلاء এবং جاحظ -এর অন্যান্য গ্রন্থ ।
উপরোল্লিখিত গ্রন্থগুলো সময়ের বিবেচনায় একটু আগের হওয়ায় এর ভাব, রচনাশৈলী, শব্দ ও গতিপ্রকৃতি বুঝতে একটু কষ্ট হবে। তবে কষ্টের কারণে খেই হারিয়ে ফেললে চলবে না। সাহিত্যচর্চা বলে কথা। একটু ধৈর্য্য আর অধ্যাবসায় তো লাগবেই। তবে এরপর অবশ্য পথ অনেকটা মসৃণ।
আধুনিক সাহিত্যিকদের মাঝে যাদের কিতাব অধ্যয়নে বেশি উপকৃত হওয়া যাবে এবং অনেকটা নিকট অতীতের হওয়ায় শব্দ, বাক্য ও ভাষা বুঝতে সহজ হবে তাদের যারা অন্যতম, এবার তাদের কিছু গ্রন্থের আলোচনা করছি।
বিশিষ্ট সাহিত্যিক مصطفى صادق الرافعيআধুনিক সাহিত্যের ময়দানে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। একাডেমিক কোনো পরিচয় তার ছিল না। বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্যে কোন ডিগ্রিও তার ছিল না। তবে ছিল খোদা-প্রদত্ত প্রতিভা আর কঠিন অধ্যাবসায়। একাডেমিক সনদপ্রাপ্ত সাহিত্যিকরাও তার সাহিত্য প্রতিভার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তার রচিত সাহিত্যের ভয়সী প্রশংসা করেছেন। তার রচিত وحي القلم এবং كتاب المساكين, সাহিত্যের ভিত গড়তে পাঠককে অনেকটা সহযোগিতা করবে। এছাড়াও তার অন্যান্য গ্রন্থ আরবী সাহিত্যের ময়দানে বিরাট ভূমিকা রাখছে। আর আরবী সাহিত্যের ইতিহাস জানতে তার রচিত تاريخ الأدب العربي -এর কোনো তুলনা নেই।
এই ময়দানে আরেক প্রসিদ্ধ নাম সাহিত্যিক مصطفى لطفي المنفلوطيগদ্য সাহিত্যে তিনি এক অনন্য প্রতিভা। তিনি যাই রচনা করেছেন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সমাজের খেটে খাওয়া গরীব-দুঃখীদের মনের ব্যথা আর অন্যান্য সকল অসংগতিগুলো কী চমৎকারভাবেই না তিনি তুলে ধরেছেন। আমি আশ্চর্য হই মানুষ এতো সুন্দর লিখতে পারে! আর অনুবাদ সাহিত্যেও তিনি অনন্য ভমিকা রেখেছেন।
তাঁর গ্রন্থগুলো অধ্যয়নের জন্য যদি তার গ্রন্থসমগ্র অর্থাৎ الأعمال الكاملة বা المجموعة الكاملة পাওয়া যায় তাহলে অনেক ভালো অন্যথায়النظرات والعبرات বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আধুনিক আরবী সাহিত্যে আরেক নাম নাজীব কিলানী। তার লেখায় সাহিত্যের সাথে সাথে রয়েছে নৈতিকতার ছোঁয়া। ইসলামী ভাবধারার এক অনন্য সাহিত্যিক তিনি। উপন্যাস, ছোট গল্প এবং প্রবন্ধসহ অনেক গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে ছোট গল্প موعدنا غدا، عند الرحيل ,دموع الأمير উল্লেখযোগ্য। আর উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে
قاتل حمزة، حارة اليهود، اليوم الموعود، أرض الأنبياء.
রোযনামচা, সফরনামাসহ ঐতিহাসিক বিষয় এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাহিত্য রচনায় আরেক উল্লেখযোগ্য নাম علي الطنطاويতাঁর লেখা থেকে পাঠক পাবেন সুন্দর বর্ণনা কৌশল এবং আরবী শব্দ ব্যবহারের সৌন্দর্য। তাঁর সমস্ত গ্রন্থগুলোই উপকৃত হওয়ার মত। তবে বিশেষভাবে তার ذكريات উল্লেখযোগ্য। তবে জিদ্দা থেকে প্রকাশিত مختارات সংগ্রহ করতে পারলে অনেক সহজ হবে। من روائع الطنطاوي -ও অনেক ভালো। অল্পতেই এখানে শায়খের চমৎকার লেখাগুলো একসাথে পাওয়া যাবে।
সবশেষে যার কথা বলবো তার সাহিত্য শুধু সাহিত্য নয় আমি বলি জাগরণী সাহিত্য। যিনি আরবী ভাষার জন্য নিবেদিত প্রাণ। যিনি আরবী সাহিত্য থেকে পেয়েছেন অনেক কিছু, আবার আধুনিক আরবী সাহিত্যকে দিয়েছেনও অনেক কিছু। সাহিত্যকে ইসলামী সাহিত্যে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভমিকা রেখেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ইসলামী সাহিত্য সংস্থা গঠনে রেখেছেন অনন্য ভমিকা। তিনি আর কেউ নন তিনি আমাদের আলী মিয়া’, আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.। তাঁর অনেক কিতাব উর্দূ থেকে আরবীতে অনুদিত হয়েছে। হয়েছে অনেক আলোচনার অনুবাদ। এসমস্ত কিতাবগুলো ছাড়া তাঁর নিজের লিখিত সমস্ত কিতাবগুলোই আরবী শেখা এবং লেখায় অনেক সহযোগিতা করবে। তাঁর রচিত সাহিত্যের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। আরব আজম উভয় স্থানেই সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর লেখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তা সুখপাঠ্য এবং সহজ ও সাবলীল। সাথে সাথে এতো চমৎকারভাবে তিনি সমার্থক শব্দের সমাহার ঘটিয়েছেন যার নযীর অন্যান্যদের লেখায় বিলুপ্ত প্রায়। তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলোর মাঝে ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين، الطريق إلى المدينة، من نهر كابل إلى نهر اليرموك বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও শিশু সাহিত্যে القراءة الراشدة، قصص النبيين অনন্য।
তাঁর কিতাবগুলো একটু ভেবে চিন্তে আস্তে আস্তে (القراءة المتأنية) পড়ার অনুরোধ করছি। এতে করে শব্দভাণ্ডার তৈরি হবে আর সহজেই কীভাবে ভাব প্রকাশ করতে হয় তা শেখা যাবে। অন্যদিকে তিনি যেহেতু একজন প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ ও মুফাক্কির, তাই তাঁর লেখা গ্রন্থ ও বক্তৃতা সংকলন অধ্যয়নে চিন্তার গভীরতা ও প্রখরতা আসবে এবং যেকোনো ক্ষেত্রে পরিশীলিত চিন্তা করার অভিজ্ঞতা তৈরী হবে। সাহিত্যে নৈতিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে একটি বিষয় আছে, তা তিনি সকলের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন। অনারবদের মধ্য থেকে আরবী ভাষায় তার মত ভমিকা আর কেউ রাখতে পারেনি। এ কথা পণ্ডিতজনের, এ কথা সকলের।
এবার কাব্য গ্রন্থ নিয়ে কিছু আলোচনা করছি।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ইবনে তাম্মাম এবং বাহতারী রচিত الحماسةআবু হেলাল আছকারী রচিত ديوان المعاني আলী রা.-এর কাব্যসমগ্র ديوان علي এবং ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর ديوان الشافعي কবিতার জন্য যেমন প্রসিদ্ধ, তেমনি আখলাক-চরিত্র, চিন্তা-চেতনার পরিশুদ্ধির ক্ষেত্রেও চমৎকার অবদান রাখে। আর কবির জন্য এ দুটি জিনিস অর্থাৎ চরিত্র ও চিন্তার পরিশুদ্ধতা অত্যন্ত জরুরি।
কাব্যগ্রন্থের মাঝে আল-বারুদী এর নির্বাচিত কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর প্রশংসা করেছেন অনেকেই। বিশেষত মুস্তফা সাদেক আররাফেয়ী এর ভয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যান্য সমস্ত مختارات বা নির্বাচিত কবিাতসমগ্র থেকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আধুনিক কাব্যগ্রন্থের মধ্যে شوقيات বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হাফেজ ইবরাহিম আরবী ভাষার স্বীকৃত পণ্ডিত। ছোট সময় থেকেই আরবী ভাষার প্রতি ছিলেন প্রচণ্ড আগ্রহী। তার ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে আরবী ভাষা ও সাহিত্যে এমন কোনো কিতাব নেই যা তার পড়া হয়নি।
"فانه لم يوجد كتاب في اللغة أو الأدب ولا ديوان شعر إلا وقد طالعه. "
আবুল আলা এবং মুতানাব্বির মৃত্যুর পর তাদেরকেই আরবের সাহিত্যক বলা হতো। আর তাদের মৃত্যুতেই বলা হয়- আরবী সাহিত্যেরও মৃত্যু হয়েছে।
"إن هذين الشاعرين كانا أشعر أهل الشرق العربي، منذ مات المتنبي وأبو العلاء، وأنهما كانا ختام حياة أدبية طويلة باهرة، بدأت في نجد وانتهت في القاهرة."
তাই তার দিওয়ান অধ্যয়নে সমাজ, রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি সব বিষয়ের ভাব প্রকাশের এবং নীরবে প্রতিবাদের কত সুন্দর ভাষা হতে পারে তা জানা যাবে।
উপরোল্লিখিত কিতাবসমূহ অধ্যয়নে পাঠকের একটি সাহিত্য রুচি তৈরি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সাথে সাথে তাদের লেখার অনুকরণ করে লিখতে শুরু করলে লেখার প্রতি আরো সাহস বাড়বে। এবং একসময় লেখালেখি ও সাহিত্যে নিজস্ব একটি অবস্থান, নিজস্ব ঢং তৈরি হবে। যদিও শুরুটা দেখা যাবে একটু কঠিন। আর সবকিছুর শুরুটা একটু কঠিনই হয়- এ কথা সকলেরই জানা। তবে সাধনা ও অধ্যবসায় চেষ্টা-প্রচেষ্টার পর শুধু উন্নতি আর উন্নতি দেখতে পাবে। প্রতিভার বিকাশ ঘটতে থাকবে। এবং আল্লাহ চাহেন তো সাহিত্যের ময়দানে একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরি হবে।
এক্ষেত্রে মুস্তফা সাদেক আররাফেয়ী-এর একটি নছীহত হলো তোমার হাতের নীচে যা পাবে তাই পড়ে ফেলো।অধিক পরিমাণ অধ্যয়নের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্যই তিনি একথা হয়তো বলেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তা যেন সুসাহিত্য হয়। আর সাথে সাথে আদীব হুযুর দামাত বারকাতুহুম-এর নসীহত অনুযায়ী এ অধ্যয়ন একজন বিশেষজ্ঞ মুরব্বীর তত্ত¡াবধানে হওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় যে কোনো সময় হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসমস্ত গ্রন্থ অধ্যয়নের সাথে সাথে কিছু আরবী প্রবাদ প্রবচন, কবিতা মুখস্থ করে নেয়া উচিত। আর কুরআনে কারীমের আয়াত ও হাদীছে রাসূল মুখস্থ করার কোনো বিকল্প আছে বলে আমার জানা নেই।
নিজের লেখাকে শক্তিশালী করার পেছনে আরেকটি চমৎকার পদ্ধতি রয়েছে। যার অনুস্মরণ করেছেন মুস্তফা সাদেক আররাফেয়ী এবং আলী তানতাবী-এর মত সাহিত্যিকরা। আর তা হল, একটি ছোট অনুচ্ছেদ নির্বাচন করে তা কয়েকবার পড়া। একবার, দুবার এবং কয়েকবার। এরপর এর অনুকরণে লেখা। একবার, দুবার এবং কয়েকবার। এভাবে লিখতে লিখতে একসময় লেখা নিজের আয়ত্তে চলে আসবে।
তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় বলে রাখা প্রয়োজন, তা হচ্ছে সাহিত্যচর্চার পূর্বে ভাষাটা শিখতে হবে সঠিকভাবে, শুদ্ধভাবে। ভাষা শেখা ছাড়া সাহিত্যচর্চা করা যায় না। এর গুরুত্ব বুঝাতে উস্তাযে মুহতারাম শায়েখ শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী দামাত বারাকাতুহুম মাসিক আলকাউসারেই একটি চমৎকার ও মুফীদ প্রবন্ধ লিখেছেন।
আসলে এ বিষয়ে আলোচনা অনেক দীর্ঘ। প্রয়োজন ধৈর্য, কঠিন অধ্যবসায়। তাহলেই সফলতা এক সময় হাতছানি দিবে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক মুস্তফা সাদেক রাফেয়ী তাঁর ঐতিহাসিক পত্রাবলিতে বলেন,
"و رأس هذا الأمر بل سر النجاح فيه أن تكون صبورا وأن تعرف أن ما تستطيع الرجل لا يستطيعه الطفل إلا متى صار رجلا، وبعبارة صريحة إلا من انتظر سنوات كثيرة"
আর কবির ভাষায়
"وقل من جد في أمر يحاوله
واستعمل الصبر إلا فاز بالظفر "
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন ও হাদীসের এই ভাষাকে সঠিকভাবে শেখা ও আত্মস্থ করার তাওফীক দান করুন। দ্বীন ও উম্মাহর কল্যাণে এই ভাষায় সাহিত্য চর্চা করার হিম্মত ও কুওয়ত দান করুন। আমীন। 

লেখক: মুহিউদ্দিন ফারুকী,
গবেষক, আরবী ভাষা ও সাহিত্য

পরিচালক: আরবী ভাষা ও সাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ

Friday, November 3, 2017

কায়রোর দিনলিপি ১৩


শুনলাম আপনারা নব্বই টাকা কেজি দরে পেয়াজ খাইতেছেন! দেশে থাইকা আর কি হবে! মিসরে চইলা আসলেই পারেন!

মিসরে গত দুই মাসে সব কিছুর মূল্য দ্বিগুণ হওয়ার পরও আমরা এখন তিন থেকে সাড়ে তিন পাউন্ড কেজি দরে পেয়াজ খাই। মানে আমাদের দেশীয় টাকার হিসেবে ষোল টাকা পড়ে। আর তিন কেজি পেয়াজ একসাথে নিলে দশ পাউন্ড রাখে। এইটুকু মূল্যবৃদ্ধিতেই মিশরীরা চরমভাবে ক্ষেপে আছে সরকারের উপর। এখন তো ট্যাক্সি আর উবারওয়ালারা আযহারের ওয়াফেদীন ছাত্রদের থেকেও ভাড়া বাড়িয়ে নেয়। কম রাখতে বললেই বলে,
"মুশ ইয়ানফা কাদা, আশান দিলওয়াতি কুল্লু হাগা গালি, যাইত গালি, বাতাতিস গালি"।
অনুবাদঃ "এমনে ভাড়া কম দিলে কাম হইতোনা। কারণ এখন সবকিছুর দাম বাইড়া গেছে, তেলের দাম বাড়ছে, আলুর দাম বাড়ছে।"

অথচ আলুর দাম বেড়েই কিন্তু আড়াই পাউন্ড হয়েছে। মানে দশ টাকা কেজি। তেলের দামটা হুট করে বেড়ে গেছে। এসে দেখেছিলাম লিটার ছিল আড়াই পাউন্ড। মাত্র দুই মাস পর হয়ে গেল পাচ পাউন্ড। মিশরীদের জন্য এসব অবশ্য একটু বেশীই। কারণ সবকিছুর মূল্য যেভাবে বাড়ানো হয়েছে সে তুলনায় তাদের বেতন বা আয়-রোজগার কিছুই বাড়েনি। মিসর দেশটাই তো একরকম বিদেশী প্রভূদের ভিক্ষার উপর চলছে। আবার এই ভিক্ষার বড় অংশ খরচ করতে হয় সামরিক বাহিনীর সন্তুষ্টির পেছনে। তা নাহলে ক্ষমতা নিয়ে টান পড়বে যে! মিসরের রিজার্ভ এখন বাংলাদেশ থেকে কম হলেও এখানে পুঁজিপতির সংখ্যা আবার কম না। এক শ্রেণির লোক এসব গরিবদের হক মেরে এখানেও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে।

ইদানীং অনেক ক্ষেত্রেই মিসরের সাথে বাংলাদেশের অদ্ভুত সব মিল খুজে পাই। তবে জনসাধারণকে পেয়াজের মূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট করার মাধ্যমে আমাদের দেশেও পুঁজিপতিদের উদরপূর্তি করা হচ্ছে কিনা, এবং বাংলাদেশও কি মিসরের পথেই হাটছে কিনা সে বিষয়ে নিয়ে কথা বলার জন্য বিজ্ঞজনেরা আছেন।
আপাতত একটা ধান্ধা নিয়া আলাপ করি চলেন। :p

আগে কাহিনী শুনেন। মিসরে আমরা এত সস্তায় পেয়াজ খাই শুনে কিন্তু ইতিমধ্যেই অনেক বাঙালি ভাইয়েরা পেয়াজ খরিদ করতে মিশরে আসার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন।
ভাবতেছি, দেশে পেয়াজ পাঠানোর ব্যবসা শুরু কইরা দিলে কেমন হয়! মানে ধরেন, যদি পাঠানোর খরচ কেজিপ্রতি বিশ টাকাও পইড়া যায় তাও কিন্তু মিনিমাম তেষট্টি টাকা কইরা লাভ থাকতেছে আমার।

তো পাঠায় দিব নাকি এক জাহাজ পেয়াজ? আমাদের আদার ব্যাপারীদের দিয়া তো আর কিছু হইলোই না। আপাতত পেয়াজের ব্যাপারীরাই নাইলে জাহাজের খবর নিতে থাকলো! খারাপ হয়না কিন্তু ব্যাপারটা

Thursday, November 2, 2017

নীলনদ

নীলনদের পানি কি সত্যিই নীল? ছবিতে কিন্তু তাই দেখা যাচ্ছে। এটাকে শুধুই আকাশের রঙ বলে দিলেও হবে না। কারণ সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে নীল যে বাহারি রূপ ধারণ করে সেটা অবশ্যই আকাশ থেকে নেওয়া না। তাছাড়া মধ্যরাতে নীলের নিস্তব্ধতায় বসে কফির কাপে চুমুক দিতে পারার মুগ্ধতা যে কতটা অবর্ণনীয় সে কথা আর নাইবা বললাম।

নীল নদের আসল রঙটা তাহলে কি? বাসা থেকে নীলের এই পাড়টায় এসে গবেষণায় বসতে আমার সাত পাউন্ড খরচ হয়। মেট্রোতে দুই পাউন্ড আর এই পার্কে ঢুকতে পাঁচ পাউন্ড। যেহেতু বাসা থেকে নীলের দূরত্ব মাত্র দশ মিনিটের তাই অবসরে এখানে বসে বসে এ রহস্যের কূলকিনারা করার চিন্তাটা মন্দ না।

নাইল রিভারের সাথে মূলত দুইটা লেক মিলিত হয়েছে। একটা হচ্ছে ইথোপিয়ার তানা লেক। যার পানি আসলেই নীল। আরেকটি ভিক্টোরিয়া লেক। এটার পানি সাদা। তাই বলা যেতে পারে নীল আর সাদার মিশ্রণেই এই মোহনীয় রঙটা তৈরী হয়। তবে নামকরণের সাথে কিন্তু রঙয়ের দূরতম কোন সম্পর্কও নেই।

ইংরেজীতে বলা হয় নাইল রিভার। মূল শব্দ নেইলোস। গ্রীক ভাষা থেকে আগত। যেহেতু নেইলোস অর্থই নদী তাই নীলের সাথে আলাদা করে নদী বা রিভার বলে সময়ক্ষেপণ করা নিষ্প্রয়োজন।

মিসরের হাজার বছরের ইতিহাসে প্রচুর মিথ ও কল্পকাহিনীর মিশ্রণ আছে। কিন্তু নীলনদকে ঘিরেই যে মিসরের অতি প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ইতিহাসের এই অংশটুকু অনেকদিক বিবেচনায় নির্ভরযোগ্য। তাই এটা জেনে রাখা দরকার।
প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত আকাশ থেকে বৃষ্টি নামক কোন কিছুর বর্ষণ মিশরীয়দের কাছে বেশ অবাককর ঘটনা। কারণ এই নীলই হাজার বছর ধরে তাদের পানির প্রয়োজন পূরণ করে আসছে। বৃষ্টির দেখা বছরে দুই এক দিন মিললেও তার ডিউরেশন বড়জোর কয়েক মিনিট। শুরু না হতেই শেষ হয়ে যায়।


সেই বিকেলে বসে বসে এসব ভাবছিলাম আর সন্ধ্যার অপেক্ষা করছিলাম। বর্ণিল আলোয় সাজানো প্রমোদতরীগুলো সন্ধ্যার পরই বেশী সুন্দর দেখা যায়। সৌন্দর্যের অহমিকায় পাল্লা দিয়ে প্রকৃতিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে নীল আর তার বুকচিড়ে চলা প্রমোদতরী।

Wednesday, November 1, 2017

ব্লাসফেমী আইনে ধর্মত্যাগীদের শাস্তির ব্যাপারে আপত্তিসমূহ

ধর্মকে কটাক্ষ করার কারণে তার শাস্তির জন্য রচিত আইনকে ব্লাসফেমী আইন বলে। যা ইসলামে মুরতাদ বা ধর্মদ্রোহী শাস্তি হিসেবে পরিচিত। এ শাস্তির ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে থাকে।

১ম প্রশ্নঃ এ আইন জাহেলী যুগের আইন। বর্তমান সভ্য যুগে তা চালু থাকতে পারেনা।
২য় প্রশ্নঃ এই আইন মানুষের বাক স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতার বিরোধী।
৩য় প্রশ্নঃ এই আইন ব্যক্তিগত, অথবা মুসলিম জাতিগত। রাষ্ট্র এই আইনের প্রয়োগ কিভাবে করতে পারে?

উত্তরঃ
প্রথমত, জাহেলি যুগের আইন এইজন্য বলা যাবে না কারণ মানুষ প্রত্যেক যুগে কোন না কোম ধর্মের অনুসরণ করে এসেছে। এই আইন যখন এসেছিল তখনকার যুগে জাহেল ছিল বটে। কিন্তু এই আইন সমাজে স্থিতিশীল পরিস্থিতি কায়েম করার মাধ্যমে তাদেরকে সভ্য করে তুলেছে। এই ধর্ম মানুষকে শিখিয়েছে সত্য প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে কিভাবে অধিকার আদায় করে নিতে হয়। ইসলাম শুধু ন্যায়বিচার ও সাম্যের কথা বলেই ক্ষান্ত হয়নি বরং তার প্রায়োগিক দিকও বাতলে দিয়েছে। এবং এর মাধ্যমেই মানুষ জানতে পেরেছে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীদের উচিত শাস্তির বিধান যদি কায়েম করা যায় তাহলে সমাজে কতটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে সৌদিতে চুরির হাত কাটার বিধান। উপযুক্ত শাস্তি বহাল থাকার কারণেই সে দেশে চুরির হার একেবারে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক দেশের সংবিধানেই রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের ধর্মকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেমন, মালেশিয়া, বৃটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স।
বৃহত্তর শক্তিশালী দেশগুলোতে জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দেশে ধর্ম সংরক্ষণের আইন রচনায় মনোনিবেশ করে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই আমেরিকায় বিল ক্লিনটন "ফ্যামিলি ভ্যালু" ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট "ব্যাক টু অরিজিন" মালেশিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহাত্থির মোহাম্মদ "ভিশন ২০২০" রচনা করেছেন।

সভ্যতার সাথে এর কোন বিরোধ থাকলে পৃথিবীর আধুনিক রাষ্ট্রগুলো এই "সাম্প্রদায়িক" আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করতো না। এই ব্যবস্থা না নেওয়া হত তাহলে যে সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হত সেটা তারাও বেশ ভালভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে।
তৃতীয়ত, মুরতাদের এই শাস্তি কখনোই গণতন্ত্র বিরোধী নয়। বরং একজন অসুস্থ ব্যক্তির বাক স্বাধীনতার নামে একটা শান্তিপ্রিয় গোষ্ঠীর স্বাধীন বিশ্বাসের উপর হস্তক্ষেপের শাস্তি। যার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

মুরতাদের শাস্তি কি হদ্দের অন্তর্ভুক্ত? এ ব্যাপারে শরিয়ত কি বলে?

হদ্দ হল নির্ধারিত শাস্তি। যা নস দ্বারা প্রমাণিত এবং কার্যকর করা বাধ্যতামূলক।
কার্যকর এইজন্য করা হয় যাতে অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে।
সমাজের সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় সে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলোকে আল্লাহ নিজের অধিকার হিসেবে গণ্য করেছেন। এটাকে পাবলিক রাইটও বলা হয়।

হদের আওতাভুক্ত অপরাধ সাতটি।
১ যিনা ২ চুরি ৩ ডাকাতি ৪ মদ্যপান ৫ যিনার অপবাদ ৬ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ৭ ইরতিদাদ

যেহেতু এইসব অপরাধের শাস্তির ব্যাপারে সরাসরি কুরআনে বলা আছে তাই এসব হদের আওতাভুক্ত হবে। আর সন্দেহের কারণে হদ্দ রহিত হয়ে যাবে। তখন তাযীরের আওতায় শাস্তি হবে। তাযীর বলা হয় হদ্দ বা কাফফারা ব্যতিত যেসব অপরাধের জন্য শরিয়তে নির্দিষ্ট কোন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নাই। ইংরেজীতে বলা হয় Discreditionary Punishment।

যেমন মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু যদি কোন সাধারণ মানুষ তাকে হত্যা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে তাযীরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ যদিও সে মৃত্যুদণ্ডের অপরাধে অপরাধী হয়ে নিজের জীবনের নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলেছে কিন্তু বিনা বিচারে তাকে হত্যা করা যাবেনা। যে ব্যক্তি মুরতাদকে হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিল সে সরকারের আইনকে অবমাননা করলো। এইজন্য তাযীরের আওতায় দণ্ডযোগ্য হবে। এ বিষয়ে সকল ফকীহগণ একমত।
অতএব ইরতিদাদ হদের আওতাভুক্ত অপরাধ।

রিদ্দার সংজ্ঞাঃ আল কাসানী বলেন, রিদ্দা হল ঈমান থেকে ফিরে আসা। ইবনে কুদামা বলেন যে দ্বীন ইসলাম থেকে প্রত্যাবর্তন করে তাকে মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী বলে।
ধর্মকে ঘৃণা, তুচ্ছ ও অবজ্ঞাভরে ছেড়ে দিলে তাকে ধর্ম ত্যাগ বা ব্লাসফেমী বলে।
ইনসাইক্লোপেডিয়া অফ ব্রিটেনিকাতে বলা আছে এটাকে সিন বলে বিবেচনা করে থাকে খ্রিষ্টান মোরাল থিউলজিয়ানরা। এটা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটা ফেইথ।
ইনসাইক্লোপেডিয়া অফ ব্রিটেনিকাতে এর ব্যাখায় বলা আছে: In the Christian religion Blasphemy has been regarded as sin by moral theology. It is a sin against faith.For the muslim it's blasphemy to speak contemptuously not only of God but also of Muhammad.
Blasphemy considered as a religious offence consists of scornful, disrespectful on insulting word of actions God. in this gravest form blasphemy is a deliberate international attack on the honor of holiness of god.

ধর্ম ত্যাগের শর্তাবলিঃ
যে ধর্ম ত্যাগ করবে তাকে স্বাধীন, বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলামান হতে হবে।
তবে জোর করে কাউকে ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করা হলে তা ধর্ম ত্যাগ হিসেবে বিবেচিত হবেনা।

মুরতাদের আলামতঃ
যখন ইসলামী শরীয়তকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবে, বর্তমান যুগে ইসলামের রীতিনীতিকে অকেজো মনে করবে, নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে। কারণ গাইরুল্লাহর বিধান দ্বারা কোন নির্দেশ প্রদান করা হারাম।

ধর্ম ত্যাগের শাস্তিঃ
এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সাহাবাদের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ এতে একমত পোষণ করে আসছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে একটি মারফু হাদিস আছে এই ব্যাপারেঃ "যে ব্যক্তি ধর্ম পাল্টাবে তাকে তোমরা হত্যা করো"।
এ ব্যাপারে আরো বহু হাদিস পাওয়া যায়।

শাস্তি থেকে নিষ্কৃতির বিভিন্ন দিকঃ
১ বাল্যকালেই ধর্ম ত্যাগ করেছে। অত:পর প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে। তাকে নিষ্কৃতি দেয়া হবে। কারণ তার ইসলাম তার পিতামাতার ইসলামের অনুগামী। এখানে সে মুরতাদ হয়েছে শুধু মাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে। তাই তার হিসেব হবে সন্দেহকারী বা অজ্ঞাত ব্যক্তির মত। এটা হানাফী ও হাম্বলি মাযহাবের মত। তবে ইমাম শাফেয়ী এবং মালেকের মতে তাকেও শাস্তি দেওয়া হবে।
সূত্রঃ আল বাহরুর রায়েক শরহে কানযুদ দাকায়েক, পাকিস্তান-কোয়েটা, মাকতাবায়ে মাজিদিয়া ৫ম খণ্ড পৃ: ১৩৮
২ জোর করে যদি কাউকে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করানো হয় এবং পরবর্তীতে সে আবার মুরতাদ হয়ে যায় তাহলে তাকেও শাস্তি থেকে রেহাই দেওয়া হবে। তার শাস্তি সন্দেহের কারণে বাতিল হবে। কারণ সন্দেহের দ্বারা হুদুদ কার্যকর হয়না।
সূত্রঃ ইবরাহিম আল ওকফী, তিলকা হুদুদুল্লাহ পৃ:২৭৮

মুরতাদের ইহকালিন শাস্তিঃ
১ হত্যা করা
২ উত্তরাধিকার বিনষ্ট হয়া
৩ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা
৪ পারিবারিক শাস্তি
৫ অভিভাবকত্ব নষ্ট হওয়া

পরকালীন শাস্তিঃ
আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন,
যারা সত্যকে অস্বীকার করে কাফের হয়ে যায় এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাদেরকে আল্লাহ ফেরেশতা এবং মানুষ সকলেই লানত দেয়। (২ঃ ১৬১)
কেউ ইমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং কুফুরীর জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার উপর পতিত হবে আল্লাহর গজব এবং তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। তবে যাদেরকে এমন করতে বাধ্য করা হবে এবং তার অন্তরে যদি অবিচল ইমান থাকে তাহলে তার কথা ভিন্ন।
(১৬ঃ১০৬)

সূত্রঃ মাকাসেদুশ শরিয়া, ইসলামী আইন ও বিজ্ঞান। খণ্ড: ১ম। পৃষ্ঠা: ২৪৯।
প্রকাশনা: ইসলামী ফাউন্ডেশন

ইসলাম কি নারীদের তুচ্ছ ভাবে? একটি নারীবাদী আক্রমণের জবাব


প্রশ্নঃ
মুসলিম শরীফের তিন খন্ডে নিকাহ অধ্যায়ের ৩৫১২ নং হাদীসে বলা হচ্ছে,"দুনিয়া উপভোগের উপকরণ এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ হলো পূন্যবতী নারী"।
অনেক উলামারা আজকাল লেখেন এই পূজিবাদী সমাজ,রাষ্ট্রব্যবস্থা নারীকে উপভোগের পণ্য বানিয়ে নিচ্ছে। তাহলে এই হাদীসের ক্ষেত্রে ব্যখ্যা কি হবে? হাদিসের শব্দ প্রয়োগ কি নারীদের পণ্যই বুঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ
ইসলামের প্রশ্নটা হচ্ছে উপভোগটা কি পুরা দুনিয়ার মানুষ অবাধ স্বাধীনতার সাথে করবে নাকি এতে কোন নিয়ম নীতি থাকবে। পুঁজিপতিদের নারীভোগ কোন নিয়ম মেনে হয়না। টাকা দিয়ে তারা নিয়ম খরিদ করে। কিন্তু অপরদিকে ইসলাম তার বেধে দেওয়া নিয়মনীতিকে আদর্শ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করে। পার্থক্য এইটাই।
আর ন্যাচারাল ও জেনেটিক একটা ব্যাপার হল নারী চায় তাকে তার পুরুষ ভোগ করুক। এটা তার বাইয়োলজিকাল আর্জ। এখন কোন নারী "বাধ ভেঙে দিয়ে" "স্বাধীন" হয়ে দুনিয়ার সকল পুঁজিপতির ভোগের বস্তু হতে চায়। আর কোন নারী মনে করে সে শুধু তার স্বামীর ভোগের জন্য নিজেকে রেষ্টিক্টেড রাখবে। তার ধর্মের এই নীতির অনুসরণেই সে নিজের নারীত্বের সম্মান খুজে পায়। তবে ইসলামের নীতি অনুযায়ী দ্বিতীয় ক্ষেত্রে নারীকে "উপভোগ্য উপকরণ" শব্দে ব্যাখ্যা না করে আরো শালীন ও ইতিবাচক কোন অর্থে ব্যাখ্যা করা উচিত।

তাহলে হাদিসে এমন শব্দ কেন বলা হল যার অর্থ হয় পণ্য? এই প্রশ্নের উত্তরটা আসলে "মাতা" শব্দের অর্থের ব্যপকতার মধ্যেই আছে। "মাতা" বলা হয় যার মধ্যে এমন উপকার নিহিত যেই উপকার স্বার্থহীন না। উভয়েরই এক্ষেত্রে অলিখিত একটি স্বার্থ আছে। এবং "মাতা" শব্দের আরো সুন্দর একটি অর্থ হচ্ছে যেই জিনিষ সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে প্রবল আগ্রহ থাকে। সে হিসেবেও স্বার্থটা হচ্ছে এখানে অঙ্গিকারনামা। সংসারে স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা যেই অঙ্গিকারের উপর থাকে সেটাকেই স্বার্থ বলে। এই স্বার্থ ছাড়া সংসার একবিন্দুও টিকবেনা। এবং মাতা এর এই দ্বিতীয় অর্থটাও সম্পূর্ণ ইতিবাচক। কারণ এই "মাতা" এর সংরক্ষণও "মাতা" এর উপভোগকারীই করবে। আর এই পুরা প্রসেসটাই একটা অঙ্গিকার। শব্দের শুধু একটা অর্থের মধ্য দিয়া বুঝতে গেলে এর ব্যাপকতাটা বুঝা যাবেনা।

স্বামীর ভোগের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়ার কথা তো হাদিসে আছেই। স্ত্রীর জান্নাত স্বামীর সন্তুষ্টকরণে, আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদার অনুমোদন থাকলে সেইটা হইতো স্ত্রীর জন্য স্বামীরে সেজদা। তো এইসব কথা তো ইসলাম স্বামীকে বলে নাই, স্ত্রীর জন্য নির্দেশনা। কিন্তু উলটা দিকে স্বামীকে বলা হয়েছে তোমার স্ত্রী তোমার জন্য সম্পূরক, লেবাস। সেই পুরুষ সমাজে সর্বোত্তম ব্যক্তি নির্বাচিত হবে যেই পুরুষ তার মহিলার কাছে সর্বোত্তম। তো এখানে ইসলামের ভারসাম্য রক্ষার নীতিটা খেয়াল করে দেখলে মুগ্ধই হতে হয়। একদিকে ইসলাম স্ত্রীকে বলছে তুমি তোমার স্বামীর কাছে ভালো হওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করো। আবার স্বামীরে বলছে তুমি তোমার বউয়ের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে থাকো। এটাই লাইফে শতভাগ সুখী দাম্পত্যজীবনের ইফেক্টিভ থিওরি।
এই কনসেপ্টেই তো ক্যাফে ৯৯৯ দেখানো হল এই ঈদে। ইসলামে দায়িত্ববোধ অনুসারে প্রত্যেকের জন্যই ম্যাসেজ আছে। সমস্যাটা হয় যখন একজন আরেকজনের ম্যাসেজ ধরে টানাটানি করে।

মিসর, সৌদি আরব ও ইসরাইলের বন্ধুত্বের নতুন সুরঃ কে সবচেয়ে লাভবান?

  

মিসর, সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন বন্ধুত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। কাতার বয়কটের পর এখন মিসরের তিরান ও সানাফির দ্বীপ হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশকে অনিপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে মিসর।
তিরান ও সানাফির দ্বীপ দুটির সামরিক গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ আকাবা উপসাগরে এই দ্বীপ দুটি মিসর ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা দুর্গ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।
অন্যদিকে ইসরাইলের কাছেও এই দ্বীপের গুরুত্ব কম নয়। ইসরাইলের দক্ষিণের ইলাত নৌবন্দরে যাতায়াত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্যের জন্য এটি একমাত্র পথ। ৫০ বছর আগে মিসর তিরান প্রণালীর এ পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ফলাফল হিসেবে মিসর সিনাইয়ের মতো বড় এলাকা হারায়।

মিসরের দ্বীপ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে মিসরের জনগণ মেনে নেয়নি। মিসরীদের মনে করে আব্দেল ফাত্তাহ সিসি এইভাবে মিসরের স্বাধীনতাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। কিন্তু বর্তমান সিসির আমল অনুযায়ী মিসরে সিসি বিরোধী কোন ধরণের আন্দোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যার ফলে সামান্য আন্দোলনেই শত শত মানুষ গ্রেফতার হয়েছে।
একদিকে দেশের আদালত দ্বীপ হস্তান্তর নাকচ করে দেয়। কিন্তু অতি সম্প্রতি মিসরের পার্লামেন্ট এই হস্তান্তর অনুমোদন করেছে। যেহেতু মিসর পার্লামেন্টে ৩০ শতাংশ সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্ট সিসি নিজে নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন তাই আদালতের রায়কে তোয়াক্কা না করে এই ধরণের সিদ্ধান্ত দেয়াটা অবাক হওয়ার মত কোন ঘটনা না। এবং অন্যান্য যেইসব সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন ব্লক থেকে আসে তাদের ক্ষমতায় আসার পিছনেও রয়েছে সিসির অদৃশ্য হাত।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলতে আছে একমাত্র মুসলিম ব্রাদারহুড। কিন্তু তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী হয়তো জেলখানায় নয়তো দেশের বাইরে। তাই সংসদ নির্বাচনে ব্রাদারহুড কোনো ঝামেলাসৃষ্টি করতে পারেনি। সিসির সিদ্ধান্তই সংসদে বৈধতা পাবে, তা জানা কথা। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন আদালতের মাধ্যমে মতামত নিতে। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি এ পথ ধরেছেন।

দ্বীপ হস্তান্তরের বিপরীতে মিসর কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণ ও বিনিয়োগ পাবে সৌদি আরব থেকে। মিসরের দুর্বল অর্থনীতির জন্য এ সাহায্য খুবই জরুরি। মিসরের অর্থনীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রুটির জন্য লোকজন আলেকজান্দ্রিয়া, গিজা ও অন্যান্য শহরে রাস্তায় মিছিল করছে। সরকার যে রেশনিং করেছিল, তাও ভেঙে পড়ছে। কার্ড দেখানো সত্ত্বেও বেকারিগুলো পরিমাণমাফিক রুটি দিচ্ছে না। কায়রোর শহরতলিতেও লোকজন মিছিল করেছে, পুলিশের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। কাফর আল শেখ প্রদেশে ভুক্তভোগীরা রেললাইন উপড়ে ফেলেছে। সরকার মারাত্মক কারেন্সি সঙ্কট ও মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছে। মুদ্রাস্ফীতি ৩১.৭ শতাংশ। গত ৩০ বছরে এটাই সর্বোচ্চ। কিছু দিন আগে রমজানের সময় চিনির সঙ্কটও প্রকট আকার ধারণ করে। জ্বালানির ভর্তুকি বাতিল করা হয়েছে এবং রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে জুন মাসে। সরকার বিশ্ববাজার থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচুর গম আমদানি করছে। সাধারণ জনগণ উপায় না দেখে সেনাছাউনিতে অভিযোগ করছে। সেনা অফিসাররা বলছেন, ‘না পেলে উপোস থাকো।

এসব সেনা অফিসার এবং পেটোয়া রাজনীতিবিদদের বশে রাখার জন্য সিসিকে প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয়। তাদের হাতে দিয়ে রাখা হয়েছে সার্বভৌম ক্ষমতা। দেশের বড় বড় সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক সেনাবাহিনী। সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশ এ খাতে নগদ সহায়তা দিয়ে থাকে। এমন এক পরিস্থিতিতে মিসরের নগদ অর্থ ও বিনিয়োগ দরকার। সৌদি আরব ও আমিরাত বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে। তাই ওদের কথায় উঠবস করা ছাড়া সিসির কী-ই বা করার আছে?
মিসর-সৌদি আরবের বন্ধুত্ব পুরনো, বহুমুখী ও গভীরে প্রোথিত। ২০ লাখ মিসরীয় নাগরিক সৌদি আরবে কাজ ও বসবাস করে। ফিবছর প্রায় সমপরিমাণ মিসরীয় হজ ও ওমরা করার জন্য সৌদি আরবে যায়। হজের সময় হাজার হাজার মিসরীয় নাগরিক গাড়িচালক ও অন্যান্য কাজে নিয়োজিত থাকে। প্রায় পাঁচ লাখ সৌদি লেখাপড়া ও ব্যবসায়ের জন্য মিসরে থাকে। মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিখ্যাত।

২০১১ সালের বিপ্লবে আরব গণতান্ত্রিক মুরসি সরকারকে পছন্দ করল না। মুরসি ক্ষমতায় এসে ইসরাইলকে বিনামূল্যে দেয়া তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেন। ফলে ইসরাইল মুরসিকে অপসারণের চেষ্টা চালায়। তারা সামরিক ক্যু করার জন্য সেনাপ্রধান সিসিকে সহায়তা করে। সিসি ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র হত্যাকারী সিসি সরকারকে নগদ বিপুল অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদান করে।

দূরদর্শী ইসরাইল দ্বীপ হস্তান্তরকে নিজের জন্য আশীর্বাদ মনে করেছে। এর ফলে ইসরাইল আরবদের আরো কাছাকাছি আসতে পারবে। এই তিরান প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ইসরাইলি নৌযান চলাচলের বিষয়ে মিসরের সাথে ১৯৭৯ সালে ইসরাইলের চুক্তি আছে। মিসরের সাথে ইসরাইলের শান্তিচুক্তিও রয়েছে। তা ছাড়া উভয় দেশের একটা কমন শত্রু আছে। তা হচ্ছে ইরান। উভয়েই চায় ইরানকে যুদ্ধে শেষ বা কাবু করতে। এ জন্যও উভয়ের মধ্যে সমঝোতা দরকার।

তবে এটাও ঠিক, সৌদি আরব যেমন মনে করে ইরান ও ইসরাইল তাদের শত্রু, তেমনি ইসরাইলও মনে করে ইরান ও সৌদি আরব উভয়েই তার শত্রু। সে হিসাবকে সামনে রেখে তারা সামনে পা বাড়াতে চায়।
ইহুদিবাদীদের দ্য প্রটোকল বইতে বৃহত্তর ইসরাইলের যে ম্যাপ রয়েছে সেখানে সৌদি আরবের মক্কা-মদিনাসহ বিরাট অঞ্চল দেখানো হয়েছে। প্রটোকলে আরো উল্লেখ আছে, ইসরাইলি স্কুলগুলোতে নিয়মিত ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষক জোরগলায় বলেন, ‘আমরা আরবদের কী করব?’ ছাত্রছাত্রীরা আরো জোরগলায় বলে, ‘আমরা আরবদের হত্যা করব।মোসাদের প্রণীত, মোসাদ এজেন্টদের জন্য অবশ্যপাঠ্য, প্রটোকল বইটি আরব কর্তৃপক্ষের হাতে না পড়ার কথা নয়।

ইসরাইল এবং মিসর এখন যা চায়ঃ
গাজায় হামাস নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইসরাইল ও মিসর চায় হামাসের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়সী ফাতাহ নেতা দাহলানকে ক্ষমতায় বসাবে। এতে ফাতাহ-হামাস দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়ে গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা আগেও অনেকবার হয়েছে। দাহলানের আগমনে তুরস্ক ও কাতারও কোণঠাসা হবে, এমনই ধারণা ইসরাইল ও মিসরের। কুয়েত ও তুরস্ক গাজার জনগণ ও হামাসকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে। দৈনিক আল ইয়াওম পত্রিকার তথ্য মিসর ও ইসরাইল ফিলিস্তিনে আরো একটি যুদ্ধ চায়। এভাবে ইসরাইল পুরো গাজা দখল করতে চায় এবং মিসর নেগেভ মরু এলাকায় গাজার সমান আয়তনের জমি মিসরের সাথে সংযুক্ত করতে ইচ্ছুক। কাতার সঙ্কট মূল জিনিস নয়, বরং মূল ঘটনার শুরু। কাতার ও আলজাজিরাকে কোণঠাসা করতে পারলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।

এসব কারণেই ৩১ বছরের মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্রাউন প্রিন্স হওয়াতে ইসরাইল বিশেষ স্বস্তি পাচ্ছে। অথচ সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। সালমানের কাছে ইরান ও শিয়া গোষ্ঠী প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ইয়েমেনের যুদ্ধ তিনিই শুরু করেছেন। তার আমলে ইসরাইল-সৌদি আরব আরো ঘনিষ্ঠ হবে, এমনই আশা ইহুদিদের। এর মধ্যে বিন সালমানকে ইসরাইলে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং নেতানিয়াহুর সৌদি আরব সফরের জন্য বাদশাহ সালমানকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইরানের সাথে ভবিষ্যতের কোনো যুদ্ধে ইসরাইলি সেনা-যুদ্ধাস্ত্র ও ইন্টেলিজেন্স জরুরি বলে অনেকে মনে করে। অনেকের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক করবে এবং ইরানের পক্ষে যারা তাদের বিরুদ্ধে যাবে। বাস্তবতা সৌদি আরবকে কোথায় নিয়ে যাবে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে সৌদি-ইরান সম্পর্ক আরো খারাপ আকার ধারণ করতে পারে।

ইসরাইলের হারেজ পত্রিকা জানায়, ‘ইরানের বিষয়ে মোসাদের শীর্ষ কর্মকর্তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসরাইলের সাথে গোপন সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয় এবং দেশটির নিরাপত্তা ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিবারম্যানও সৌদি আরবের সাথে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকসম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
হজ ও ওমরার অব্যবস্থাপনা দূর করতে সাদ্দাম হোসেন মক্কা ও মদিনার দায়িত্বভার পরিত্যাগ করে বিভিন্ন ইসলামি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সমন্বয়ে হজ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করার জন্য সৌদি আরবের বাদশাহকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে সৌদি বাদশাহ ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে ইরাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে তা প্রভূত উন্নতি হয়েছে, যে জন্য সৌদি বাদশাহ এবং তাদের পরিকল্পনা প্রশংসার দাবিদার। অনেকের মত, সৌদি আরব আরব বসন্তকেআরবদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান মনে করে।

সৌদি আরব ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়, যদিও ফিলিস্তিন সমস্যার বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরাইল গাজা এলাকায় অহরহ বোমা বর্ষণ করে আসছে। গাজা যেন এক পরিত্যক্ত নগরীর মতো। কাতার গাজাবাসীকে মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিচ্ছে। তুরস্কও কিছু সহায়তা দেয়। এসব মানবিক সহায়তা না পেলে দশক ধরে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর কী দুর্দশা হতো তা শুধু কল্পনা করার বিষয়। ২০০০ সালে হিজবুল্লাহর আক্রমণের তীব্রতার কারণে ইসরাইল দখলকৃত অনেক জায়গা ছেড়ে দেয়। তারা ইরানপন্থী এবং ইরানি সহায়তা পেয়ে থাকে। ইসরাইল হিজবুল্লাহ ও হামাসকে সন্ত্রাসীআখ্যা দিয়েছে। এখন সৌদি আরবও তা বলেছে। অথচ হামাস ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বাজি রেখে লড়েছে। সৌদির অভিযোগ, হামাসের সাথে ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। এই অবস্থায় নেতানিয়াহু বুক ফুলিয়ে বলছেন, ‘আমরা আরবদের সহযোগী, শত্রু নই।

সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে বিপুল সামরিক অস্ত্রসম্ভার পাচ্ছে এবং গোপনে যেসব সামরিক সরঞ্জাম পাবে; সেসবে বলীয়ান হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। তবে ইরানের আক্রমণও হবে ভয়ঙ্কর। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইরাক যুদ্ধের সেনানায়ক কলিন পাওয়েল বলেছেন, ইরানকে খাটো করে দেখলে যুদ্ধে পস্তাতে হবে। খোদ মার্কিন সরকার ইরানে কোনো হামলা চালায়নি। ইসরাইলও সামরিক হামলা চালায়নি। তবে গুপ্ত হত্যাকাণ্ড ও সাইবার হামলা চালিয়েছে। আমরা ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখব, আমেরিকার প্রেসিডেন্টরা ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে সফলতা লাভ করতে পারেননি। এখন ট্রাম্পের পালা। মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সাথে যেকোনো সংলাপের বিরুদ্ধে। তার মতে, ‘ইরান এই অঞ্চলের নেতৃত্ব দিতে চায়, মক্কা ও মদিনা হস্তগত করতে চায় এবং ইরানের মতাদর্শের কারণে তাদের সাথে কোনো সমঝোতার বৈঠক করা যায় না।বাস্তবতা হলো, মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তর মতভেদ আছে, সে কারণে এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে কাজ না করে সবাইকে একসাথে নিয়ে আগে মুসলিম উম্মাহকে সংগঠিত করা দরকার।

ইসরাইলের চিন্তা-ভাবনা ছিল, জেনেভা চুক্তি স্বাক্ষর হলেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে উঠে আসবে, কিন্তু এটা এত সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক জোট যদি বিন্দুমাত্র ভুল করে, তখন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের কথাই সত্যে পরিণত হতে পারে- পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো ইসরাইল থাকবে না।তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রাজনীতির নতুন খাতা খুলতে হবে। ২০০৫ সালেই ইরান আক্রমণের জন্য তোড়জোড় করেও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবুজ সঙ্কেত পায়নি। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া নিয়ে যুদ্ধ শুরু করে তবে ইরানের বিষয়টি আরো পিছিয়ে যাবে, যা ইসরাইল চায় না। শক্তিশালী একটি মুসলিম দেশকে ঘায়েল করার জন্য পাশের আরব দেশগুলোকে নিয়ে ইরানবিরোধী মোর্চা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে কয়েক যুগ ধরে। কুয়েতকে ফিরে আসার জন্যআরব জোট মাত্র ১২ দিন সময় দিয়েছে, কিন্তু ইসরাইলের বিরুদ্ধে তারা ৬০ বছরেও কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি; এটা অবাক করার বিষয় নয় কি?

লেখক : মো: বজলুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার

১২ জুলাই ২০১৭

The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...