Sunday, August 30, 2015

নাজিব মাহফুজঃ কথোপকথন

নোবেল বিজয়টা আমাকে এমন একটা লাইফস্টাইল উপহার দিলো, যেটা আমি আসলে চাইনি —নাজিব মাহফুজ


নাজিব মাহফুজের আজকে মৃত্যুদিন। তার মৃত্যু নিয়ে আসেল কোন হা-হুতাশ নাই। সুদীর্ঘ এক জীবন পার করেই তিনি বিগত হইছেন। আজকে যেহেতু তিরিশে আগস্ট, সো, আমরা তাকে তাকে স্মরণ করলাম। নোবেল বিজয় নাজিব মাহফুজের জীবনের মূল ঘটনাই বলতে হবে। তিনি একজন আরব, তথা ইজিপশিয়ান- আরব সাহিত্যিক হিসেবে তিনিই প্রথম নোবেল এওয়ার্ড পেয়েছেন। এটা খুব বড় ঘটনা। এটা খুব স্বস্তির খবর। নাজিব মাহফুজ মারা গেছেন দুই হাজার ছয়ে। জীবিতকালে তার এই ইন্টারভিউটা নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সালমাভী। খুবই সংক্ষিপ্ত। ইন্টারভিউটা অনুবাদ করেছেন আশরাফ মাহদী। 


সাহিত্যে নোবেল পেতে যাচ্ছেন খবরটা শোনার পর আপনার কেমন লেগেছিল?
এটা অবশ্যই অবাক করা এবং ভালো লাগার মত একটি খবর ছিল। এ সম্মান আমার ভাগ্যে জুটবে, এ আশা কখনো করিনি। আমাদের সময় এনাটোল ফ্রেঞ্চ, বার্নার্ড শ, আর্নেস্ট হ্যামিংওয়ে, উইলিয়াম ফকনারের মত উঁচুমানের লেখকরা নোবেল পেত। তাদের মধ্যে জেন পল সার্ট্রি আর আলবার্ট ক্যামাসও ছিল। সে সময় লোকে বলে বেড়াতো যে, একদিন কোন এক আরব সাহিত্যিকও এই নোবেল প্রাইজ জিতে দেখাবে। কিন্তু আমার কখনোই মনে হত না যে, এমন কিছু ঘটবে। বা এটাও সম্ভব।
কিন্তু আপনার নোবেল জেতার প্রায় বিশ বছর আগে তো আব্বাস মাহমুদ আল আক্কাদ আপনাকে মনোনীত করেছিলেন। এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন যে, আপনাকে এই নোবেল প্রাইজের যোগ্য মনে করেন।
আল আক্কাদ সবসময় তার চিন্তার ব্যাপারে খুব সাহসী ছিলেন। মন্তব্য করার সময় লোকে কি বলবে তা খুব কমই ভাবতেন।
নোবেল প্রাইজ পাওয়াটা কোন দিক থেকে আপনাকে প্রভাবিত করল? জীবনে অথবা পরবর্তী সাহিত্য রচনায় কোন রকম রূপান্তর ঘটিয়ে দিল? 
হ্যা, এটা আমাকে ধারাবাহিক লিখে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমি এই এওয়ার্ডটা আমার রাইটিং ক্যারিয়ারের অনেক পরে এসে পেয়েছি। এরপর প্রকাশিত হওয়া ‘একোস অব এন অটোবায়োগ্রাফি’ এখন পর্যন্ত একমাত্র বই। আপাতত ‘ড্রিমস অফ রিকিউপারেশন’ লিখছি। এমনকি ‘কশতুমুর’ উপন্যাসটি, যা কিনা আল আহরাম পত্রিকা ধারাবাহিকভাবে ছেপেছিল, সেটাও ছিল নোবেল প্রাইজে পাওয়ার আগে। পরবর্তীতে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে নোবেল বিজয়টা আমাকে এমন একটা লাইফস্টাইল উপহার দিলো, যেটা আমি আসলে চাইনি। এইসব ইন্টারভিউ, মিডিয়ায় উপস্থিতির বাড়তি ঝামেলা, এগুলোতে আমি অভ্যস্ত নই। আমি চেয়েছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে নিজের কাজ করে যেতে।

কিভাবে একজন লেখক হয়ে উঠলেন? অনুপ্রেরণার উৎসটা কি? 
স্কুলে থাকতেই লেখালেখি করতাম। তখন খাতায় লেখতাম। আল মানফালুতি, ত্বাহা হোসেন ও আল আক্কাদের মত সমসাময়িক ও নতুন ধারার আরব সাহিত্যিকরা আমার বেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তারাই মূলত লেখালেখির নেশাটা প্রচণ্ডভাবে আমার ভেতর ঢুকিয়ে দিয়েছেন। যার ফলে মাধ্যমিকে পড়ার সময় আমি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সাহিত্য বিভাগে চলে আসি।
নোবেল পাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটা কি ছিল?
মাধ্যমিকে সাহিত্য বিভাগে আসার ঘটনাটা গুরুতপূর্ণ ছিল। তাছাড়া ১৯৯৪-তে আমার উপর হওয়া হামলাটাকে ছোটখাটো কোন ঘটনা বলা যায় না। এক যুবক আমার গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করেছিল। এ-হামলার পর দীর্ঘসময় পর্যন্ত আমার ডানহাত প্যারালাইজড ছিল। তবে এ দুর্ঘটনার পর দেশ ও মানুষ যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে সেটা আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে।
নোবেল পাওয়ার আগে আপনার কাজগুলো আরবি সাহিত্যে কেমন প্রভাব ফেলত?
এর উত্তরটা সমালোচকদের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত বলে মনে করছি। তারাই ভালো বলতে পারবে আমার লেখা আরবি সাহিত্যে কোন প্রভাব ফেলেছে কিনা। তবে নোবেল পাওয়ার পর একটা ইতিবাচক ব্যাপার লক্ষ্য করেছি। আরবি সাহিত্যের উপর করা কাজগুলো এখন অনেক ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে। একজন রাশিয়ান ভিজিটর এরকমই বলছিল আমাকে। তারা ফ্র্যাঙ্কফার্ট আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজন করছে। সেখানে আমাকেও নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আজ/এসআর/৩০২

Sunday, July 12, 2015

ঈদ ও ঢাকার ভিক্ষুক

ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষুকদের দাপট যে কতটা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায় সেটা বুঝতে হলে দুই মিনিট ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকলেই চলে। তারা এসেই সজোরে গাড়ির গ্লাস নক করা শুরু করবে। আর ভিক্ষা না দিলে ইসাকি স্টাইলে একটা ভেচকি মেরে গালিগালাজ করতে করতে বিদায় হবে। আজব!!! এগুলা ভিক্ষুক নাকি চাদাবাজ? ভাবখানা এমন যেন ভিক্ষা না দিয়ে আমরা তাদের নৈতিক অধিকার খর্ব করছি এবং আমাদের এই অপরাধকর্মের (!) প্রতিবাদ হিসেবেই যেন তাদের এই অদ্ভুতরকম বাজে আচরণ সহ্য করতে হচ্ছে।
অবশ্য সহানুভূতি অর্জনের চেস্টাও তারা কম করে না। এসব স্ট্রিট ফকিরদের কখনোই হাত অথবা পা পুরোপুরি সহিহ সালেম থাকেনা। বিকলাঙ্গ সাজার এই আইডিয়াটা বেশ পুরোনো হলেও প্রত্যেক ঈদে আইডিয়া নবায়ন হয়। যদিও অনেকের অঙ্গ ভ্যানিস করার কাচা কস্টিউম খালি চোখেই ধরা যায়। আর এই ফেক ব্যপারটা অনেকের কাছে স্পস্ট হওয়ায়  সহানুভূতি অর্জনে এখন অনেকটাই অক্ষম আমাদের "ভিক্ষুকসমাজ"। তাই হয়তো তাদের এভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা...

Monday, June 15, 2015

শাহী মসজিদ ও আড্ডাময় রাত

গতরাতের আড্ডাটাকে একরকম সিরিয়াস আলোচনা বলা চলে। এবং একপর্যায়ে তা রূপ নিয়েছে তুমুল বিতর্কে। তাই আজকে পোস্টানোর  মত ভাল একটা সেলফি খিচার টাইমটাও পাইনাই। রাজশাহীর ফরমালিনমুক্ত এবং রসযুক্ত আম খাওয়ার পরও গতরাতের আড্ডায় রসকষের যথেষ্ট অভাব ছিল। যদিও শুরুতে ফ্রয়েড নিয়ে বেশ হাস্যরস্য হয়েছে। পরে সবাই নিজের ভেতরে একটা আর্টিফিশিয়াল সিরিয়াসনেস নিয়ে আসে। সবই আর্ট কালচারের প্রভাব।এরপর মজার ব্যপার বলতে শুধু তুহিনের গনতন্ত্রের  ব্যাখ্যায় জিবনানন্দদাশকে টেনে আনার ব্যপারটাই ছিল। যদিও জিবনানন্দ জিবনে ফরমালিনযুক্ত আম খায় নাই। :p
শুরুটা নেসার ভাই করেছেন। প্রশ্ন তুলে দিয়ে তিনি উধাও। চুপচাপ কেবল শুনেই যাচ্ছিলেন। শেষরাতে যখন দেখলেন যে কোন সুরাহা হচ্ছে না, তখন একটা পক্ষ নিয়ে সমাধানে যাওয়ার একটা বৃথা চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু ততক্ষণে দুপক্ষের অবস্থান খুবই এক্সট্রিম পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে।
ইসলাম আর গনতন্ত্রের উপর আস্ত একটা রাত পার হল। একদিক থেকে বিষয়টা কয়েকরাত আলোচনার। তবে গনতন্ত্রের বিরোধে গিয়ে একটা জায়গায় আলোচনা আর সামনে বাড়েনি। শুধু অবস্থানই শক্ত হচ্ছিল। কেউ ছাড়বার পাত্র না।
একদিকে তুহিন, জুবায়ের ভাই আর সাদের মত প্রগতিশীল এবং আর্ট কালচারে বিশ্বাসী ব্যক্তিত্ববর্গ অন্যদিকে বিশিষ্ট তাত্ত্বিক ও দার্শনিক ইফতেখার ও চৈন্তিক নেসার ভাইয়ের সাথে আমার মত অসহায় অবলা মাহদি। আর কবি মোঃ তালহা ভাই তো রাতভর শুধু গভীর পর্যবেক্ষণই চালিয়ে গেলেন। কবিতাও প্রস্তুত। এখন শুধু প্রকাশের অপেক্ষায় ...

The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...