Tuesday, March 22, 2016

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গ

একাত্তরের একটা টকশোতে সাখাওয়াত সাহেবকে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে সবাই মিলে আক্রমণ করা এবং কথা বলার সুযোগ না দেওয়া পাশাপাশি মিথ্যা সব তথ্যে সামনে এনে কুতর্কে লিপ্ত হওয়া।
এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে যেই পরিমাণ মানুষের লেখালেখি করা দরকার ছিল তাঁর সিকিভাগও হয়নি। সবাই শুধু ক্ষোভ ঝেড়েছে। তবে মানুষের এই বিশুদ্ধ আবেগ অবশ্যই সম্মানযোগ্য। তাতে যদিও তথ্যপূর্ণ  পোষ্টের প্রয়োজন পুরা হয়ে যায়নি। ইউসুফ সুলতান সাহেব ভাল একটা পোষ্ লিখেছিলেন। উনার পোষ্টের কপিঃ

প্রসঙ্গ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে একাত্তর জার্নালের গলাবাজি ও তথ্য বিকৃতি:
মাওলানা ইউসুফ সুলতান

গতকাল একাত্তর জার্নালে মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন সাহেবকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। [ভিডিও লিংক: https://goo.gl/Py0nTb - শেষের ৭-৮ মিনিট] তাঁর উত্তর শোনার আগেই বারবার থামিয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গ ও ভুল তথ্য ছুঁড়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানে যে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হয় তা হলো:
১. পৃথিবীর কয়টা মুসলিম দেশে সংবিধানে ইসলাম আছে? কোন দেশে?
২. রাষ্ট্রধর্মে ইসলাম না থাকলে কি দেশে ইসলাম থাকবে না?
৩. এরশাদ একটা মতলব নিয়ে এটা করেছিল, পরবর্তীতে বিএনপি ভয়ে তা বাদ দেয় নি।
প্রথম প্রশ্নের উত্তরে মুফতী সাহেব মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসহ বিশ্বের অনেকগুলো মুসলিম দেশে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকার কথা বললে উপস্থাপিকা জোর দিয়ে বলার চেষ্টা করেন যে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াতে তো নেই। আরো বলেন, ইরাক, ইরানেও নেই। মুফতী সাহেব মরক্কো, আলজেরিয়ার কথা বললে, সেগুলোও উপস্থাপিকা অস্বীকার করেন। অথচ আমরা দেখি:
১. মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ফেডেরাল কন্সটিটিউশনের প্রথম ভাগের ৩ এর ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: Islam is the religion of the Federation; but other religions may be practised in peace and harmony in any part of the Federation. [দেখুন: মালয়েশিয়ার সংবিধান: http://goo.gl/svUNdA]
২. ইরাকের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানের 2-2A তে আছে: Islam is the official religion of the State and is a foundation source of
legislation: A. No law may be enacted that contradicts the established provisions of Islam. [ইরাকের সংবিধান: http://goo.gl/EY5wvY]
৩. ইরানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম (শী'য়া মতবাদ)। সংবিধানের Article 12 -এ আছে: The official religion of Iran is Islam. [ইরানের মূল সংবিধান:http://goo.gl/Tp0T3Z; আন-অফিশিয়াল অনুবাদ: http://goo.gl/fzB1j6 ]
৪. মরক্কোর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানে Article 6 -এ আছে: Article 6: Islam shall be the state religion. The state shall guarantee freedom of worship for all. [মরক্কোর সংবিধান: http://goo.gl/3y08p7]
৫. আলজেরিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানের Article 2 তে আছে: [State Religion] Islam is the religion of the State. [আলজেরিয়ার মূল সংবিধান:http://goo.gl/3CEtdC অনুবাদ: http://goo.gl/Htio6a]
৬. ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানের Article 29 এ বলা হয়েছে Religion: (1) The State shall be based upon the belief in the One and Only God. (2) The State guarantees all persons the freedom of worship, each according to his/her own religion or belief. এক ও একমাত্র গডে বিশ্বাস ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে নেই। [ইন্দোনেশিয়ার সংবিধান: http://goo.gl/QemKDm]
এ ছাড়া আরো যেসব দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম:
Afghanistan, Bahrain, Brunei, Egypt, Jordan, Kuwait, Libya, Maldives, Mauritania, Oman, Pakistan, Qatar, Saudi Arabia, Somalia, Somaliland, Tunisia, Turkey, United Arab Emirates, Yemen, Maldives. [দেখুন:https://goo.gl/GWzkfE]
অথচ কী সুন্দর গলাবাজি করে বারবার মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কথা বলা হচ্ছিল!
দ্বিতীয় প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, রাষ্ট্রধর্মে ইসলাম না থাকলে কি দেশে ইসলাম থাকবে না? আমাদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রধর্মে ইসলাম থাকা- না থাকা যদি সমান হয়, তাহলে থাকতে এত সমস্যা কেন?
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলি, রাজনীতিটা মতলবেরই, মতলব ছাড়া কে কবে কথা বলে! বাকী মতলবটা জনগণের উপকারী হলো কিনা, প্রশ্ন সেটা। আমাদের পাল্টা প্রশ্ন, ৭২ -এর সংবিধানে কেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম স্থান পায় নি? কেন সেখানে সেকুলারিজম জায়গা পেল? সেখানে কাদের মতলব ছিল? দেশের জনসংখ্যার কত পার্সেন্ট তখন সেকুলার ছিল? আমরা তো রোজা রেখে মুক্তিযুদ্ধ করার গল্প জেনেছি, নামাযে দোয়া করে যুদ্ধে বের হওয়ার দৃষ্টান্ত দেখেছি। তাহলে তাদের ত্যাগের এত অমর্যাদা কেন?
==
মাত্র ৫-৭ মিনিটের কথায় এত গলাবাজি আর মিথ্যার আশ্রয় নিলে কীভাবে হবে ভাই! সত্য দিয়ে মোকাবিলা করুন, যদি বুদ্ধিমান ও সাহসী হয়ে থাকেন

Monday, February 22, 2016

সিলেটে ভালবাসার রঙ হুবহু মিলে গিয়েছিল সেবার

বাংলা ভাষার আহত এবং নিহতের ঘটনার সাথে সিলেট এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষাবিদদের এ দাবীর যথেষ্ট সত্যতা রয়েছে। সে হিসেবে কিন্তু তাদের নামে ভাষাহত্যা মামলা হতেই পারে। এরপরও ভাষাদিবস উদযাপন করতে সিলেটের মত জায়গায় যাওয়াটা কতটুকু যৌক্তিক এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তবে আমার কাছে এ প্রশ্নের উত্তর না থাকার কারণ হচ্ছে এখানে ব্যাপারটা হৃদয়ঘটিত। আর যুক্তি দিয়ে ভালবাসাকে হারানোটা শুধু মুশকিলই না, না মুমকিন।

প্রকৃতির সাথে আমার প্রথম প্রেমটা হয়েছিল সিলেটে। তাই এর প্রতি ভালবাসাটাও অন্য সবার চাইতে বেশী। আর "পথম পেম" তো ভুলে যাওয়ার মত কোন ঘটনা না। কোন এক উসিলায় যদি জীবনের প্রথম প্রেমটার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়, এবং প্রেমিকা তার যৌবন হারিয়ে ফেলেছে বলে যদি সে সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে, তাহলে ধরেই নিতে হবে যে তাতে সত্যিকারের ভালবাসা ছিল না।

আমি তার ভরা যৌবন দেখেছিলাম। তখন তার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফেরানোটা বেশ কষ্টকর একটা ব্যাপার ছিল। তাই এখন আমি তার দুর্দশাটা আঁচ করতে পারছি। আমি খুজে ফিরছিলাম সেই দৃশ্যপটগুলো। সেই সুবিশাল ঝর্ণা, পাহাড়ের মাঝে নদী, তার ওপাড়ে বন। যেখানে হারিয়ে যাওয়ার মত বহুজায়গা পড়ে আছে। সেই মুহূর্ত, যেগুলো পুরো সময়টা জুড়ে আমার ভেতর ছিল।

আজ সে নেই। তবুও আমার একাকীত্বের অনুভব তাকে অস্তিত্বহীন হতে দেয়না। তার অপেক্ষায় থাকে। সে আমার মনের শব্দহীন ভাষাগুলো বোঝে। তাই সে আবারও ফিরে আসবে। তার সেই রূপ নিয়ে ফিরে আসবে, প্রথম দর্শনেই যে রূপের প্রেমে পড়েছিলাম।

(আমি কিন্তু কেবলই প্রকৃতিপ্রেমের কথা লিখলাম.. নাথিং এলস..)
 — with Abdullah Farhad at Madhobkundo Waterfall, Sylhet.



Saturday, February 20, 2016

বইমেলা ২০১৬ ও সিলেট সফর

সাক্ষী ছিল শিরস্ত্রাণ -সুহান রিজওয়ান
হিব্রু থেকে ইহুদী -খন্দকার মাহমুদুল হাসান
ইসলাম -ফজলুর রহমান
The red Moulana- Nurul kabir
হুমায়ুন কবির শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ
হৃদয়ে আমার মির্জা গালিব -বুলবুল সরওয়ার

এইগুলা হল দ্বিতীয় দিনের সংগ্রহ। প্রথম দিনের সংগ্রহ ছিল চারখানা। বই কিনতে পারার ব্যাপারটা আনন্দের। আর আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য নাকি বলে বেড়াতে হয়। এতে নাকি আনন্দ বাড়ে। 
আনন্দ আরো বাড়ে যখন Mahmôôd ভাই মেলা থেকে বের হয়ে আমাদের ফাস্টফুডে বসিয়ে শর্মা অর্ডার করেন। কিন্তু শেষে যখন বলেন "এটা সেই অর্থে ট্রীট ছিল না" তখন মনটা চায়...... বইগুলা তারে হাদিয়া দিয়া দেই।
মিয়া! জানতাম আপনে এমন করবেন। এল্লেগাই আমারে বড় স্ট্যাটাস লিখতে মানা করছেন তাই না!! যাতে আপ্নের জারিজুরি ফাস না হয়া যায়!! বুঝছি তো। যান কমু না কাউরে আপনে যে এমন করছেন। তাও আপ্নে ভালা থাকেন






অতঃপর সেদিন রাতেই সিলেট সফর...


দারাসাল বাত ইয়ে হে কে, হাম যাহা যা রাহে হে লোগ উস জাগা কো কিসি ওয়াজা সে লান্ডান বুলাতে হে। ইস কে পিছে এক হিস্টোরিকাল রিজান ভি হে। তো রুলস তো ইয়েহি হোনা চাহিয়ে থা কে, উহা হাওয়াই জাহাজ সে যায়ে। হাম বাস উসি রুলস কো ফালো কার রাহে হে..

আগার চে লোগ উসে বাংলা কা লান্ডান কেহতে হে.. লেকিন হে তো দেশ কে আন্দার হি না? ওয়াতান ভি হামারা,, যুবান ভি হামারা,, ইসি লিয়ে সেলিব্রেট কারনে যা রাহা হু,, হামারে ওয়াতান মে হামারা মাতৃভাষা দিওয়াস কি সেলিব্রেশান...   — traveling to Sylhet Division with Abdullah Farhad from Shahjalal International Airport.






Tuesday, January 12, 2016

বি-বাড়িয়া সংঘর্ষ, মৌলোভীরা প্রতিপক্ষ

বি-বাড়িয়া সংঘর্ষ, মৌলোভীরা প্রতিপক্ষ 

গত সন্ধার কথা,
তখন নিউজে দেখাচ্ছিলো, বি. বাড়িয়ায় পুলিশ ছাত্রলীগ ও মাদরাসা ছাত্রদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। প্রথমে বুঝতে পারছিলামনা, এই ত্রিমুখীর তৃতীয় মুখটা কাদের।
পরে একজন বুঝালো, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যে আইন আর শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এসেছিল, তাদেরকে মিডিয়া তৃতীয়পক্ষ আকারে হাজির করেছে।
আচ্ছা! তাও তো দুইটা পক্ষই হয়, পুলিশ তো আইন শৃংখলা রক্ষার্থে লীগের"সুশৃংখল" ক্যাডারদের পক্ষ নিয়েই  মাদরাসার "উশৃংখল" ছাত্রদের উপর বুলেট ছুড়ছিলো। পক্ষ তো নিয়েই ফেললো পুলিশ। তাই না?
ত্রিমুখীর হিসেব তো মিলছেনা।
এক্ষেত্রে অনেক হিসেব অবশ্য ফেসবুক অনেকসময় মিলিয়ে দেয়। আর সেই অপরাধে ফেসবুককে একাধিকবার আমাদের অধিকারসচেতন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যর্থচেষ্টাও করা হয়েছে। এই ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকতেই হয়তো সেরকম কোন পদক্ষেপ এবার এখনো নেয়া হয়নি।
তাই ফেসবুকের মাধ্যমে সঠিক খবরটা অনেকেই পেয়ে যাচ্ছেন। প্রতি মুহুর্তে আপডেট দিয়ে সেখানকার খবর সারা দেশবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে বি.বাড়িয়ার ভাইয়েরা। সারাদেশ জুড়ে এর প্রতিবাদ হচ্ছে। ইসলামিক দলগুলো বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। ফলাফল হিসেবে ওসি ও এসপির অপসারণও ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।
কিন্তু কথা হচ্ছে,
সবার নিউজফিডে এই আপডেট যাবে না। কারন সবার ফ্রেন্ডলিস্টে এ ঘটনা নিয়ে স্ট্যাটাসদাতা হুজুর বা ঘটনার ভুক্তভোগী থাকবেননা।
তাছাড়া হুজুরদের ঘটনায় এত সিম্প্যাথি দেখানোর টাইমও অনেকের নাই। কারন হুজুররা তো আর ব্যাংক কর্মকর্তা না, যে তারা পুলিশী নির্যাতনে ভুক্তভুগী হয়ে নোট লিখবেন আর সেই নোট বিভিন্ন পোর্টালে পাবলিশ হবে, আর মজা লসের এডমিনের মত এলিট শ্রেণীর ফলোয়ারও হুজুরদের নেই।
তবুও হুজুররা মানুষ, আর একটা নিরপরাধ মানুষ মেরে ফেলাটাকে সাধারণ ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়াটা বেশ কঠিন। এবং যদি সেখানে প্রশাসন জড়িয়ে যায় তাহলে তো বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তখন প্রায় সবাই ঘটনা একটু আধটু জানতে চায়।
সবাই সত্য জেনে গেলে সমস্যা। তাই
মিডিয়া তখন বাকি সবার জন্য উপরের নির্দেশ মোতাবেক খবর সাজায়।  সাজাতে গিয়ে ধরাও খায়, কেউ বলে ব্যবসায়ী আর ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ আর কেউ বলে সিএনজির ভাড়া নিয়ে সিএনজিওয়ালার সাথে সংঘর্ষ। একটার সাথে আরেকটার মিল নাই। হয়তো এসবের মধ্যে কোন একটার সত্যতা রয়েছে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য তো হচ্ছে এই পুরো ব্যাপারটাকে প্রশাসনের দোষমুক্ত করে একটি তুচ্ছ ঘটনা বানিয়ে উপস্থাপন করা। যে ঘটনায় বিশেষভাবে আগ্রহ দেখানোর মত কোন কারণ নেই।
এসব কিছুর আড়ালে থেকে যায় সরকারী এক মন্ত্রীর নির্দেশে দুটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার মত ন্যক্কারজনক ঘটনা। এর প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে নেমে মাদরাসার ছাত্রদের অকারণে গুলি খেয়ে অর্ধশত নিরপরাধ তালিবে এলেমের আহত হবার ঘটনা। গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার পরও তাকে আহত অবস্থায় সেখান থেকে বের করে নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে শহিদ করার মত নির্মম ঘটনা।
আর সেই শহিদ মাসউদ ভাই, হাফেযে কুরআন, কেবল মাত্র হেদায়াতুন্নাহু পড়ছিলেন। জানাযার সময় দুপুর তিনটায় ঘোষনা হবার পরও পুলিশ তার লাশ দীর্ঘসময় আটকে রেখেছিল। এত্তো কিছু ঘটে যাবার পরও যখন মিডিয়া নিহতের ঘটনাকে দিনভর শুধু "কর্তৃপক্ষের দাবী" বলে এড়িয়ে যায়, এবং এত বড় একটা সত্য স্বীকার করতে পুরো একটাদিন সময় নিয়ে ফেলে, তখন আর বুঝার কি বাকি থাকে?
কত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। কতটা ভয় পেলে সরকার এভাবে নিয়ন্ত্রণ চালায় মিডিয়ার উপর। এসব শুনে যদি মানুশের ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত হয়ে ওঠে? আবার যদি ছয় শহিদের রক্তের জবাবের পুনরাবৃত্তি ঘটে?
সত্যিই খুব ভয়ের ব্যাপার।

Thursday, December 10, 2015

বড় চাচ্চু চাচীর বাংলাদেশ সফর- ২০১৫

বড় চাচ্চু বহুদিন পর আসলেন ইউকে থেকে। তিনি একজন শান্তিপ্রিয় ও শান্তিকামী মানুষ। রাজনৈতিক কোন দল সমর্থন করেন না। আর কোন্দলও করেন না। যেটা করেন সেটা হচ্ছে বড় দায়িত্বের সাথে সব দলের সমালোচনা। হয়তো সেটা অত্যাধিক দেশপ্রেম থেকেই করেন। কারন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাই বাংলাদেশ নিয়ে নাকি স্বপ্ন তাকে দেখতেই হয়। 

চাচ্চু ফেসবুক প্রজন্ম না, তবে ভাবসাবে মনেহচ্ছে, অনেকদিন পর আজকে শুরুটা ফেসবুক বন্ধ ও বাকস্বাধিনতা হরনের নিন্দা দিয়েই করবেন। কারণ চাচী এয়ারপোর্টে নেমেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন "হাউ এম আই গনা লিভ উইদাউট ফেইসবুক!!!" তাছাড়া চাচ্চুও এয়ারপোর্টের অব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তাদের দায়ত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে এরইমধ্যে বেশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন সরকারের উপর। 

কিন্তু একি!!! বাংলাদেশের এতসুন্দর পিচঢালা রাস্তা নাকি তাকে মুগ্ধ করে ফেলেছে। ফ্লাইওভার গুলো করাটা এ সরকারের বড় সফলতা। কোন ট্রাফিক নেই। হাউ অরগ্যানাইজড!!! এত্তো সুন্দর করে সাজানো ক্রিস্টমাস ট্রি নাকি লন্ডনের রাস্তায়ও দেখা যায়না।

চাচীর এসবে কিছু আসছে যাচ্ছেনা। ফেসবুক বন্ধের নিন্দা তার শুনতেই হবে। আমি তখনো জানি না যে, সব খুলে দেয়ার যেই প্রতিশ্রুতি তারানারা দিয়েছিলেন, সব কিছু খুলে দিয়ে সে প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই তারা রক্ষা করে ফেলেছেন। তাই আমি চাচীকে খুশি করার জন্য কিছুক্ষন ফেসবুক বন্ধের অপকারীতা বয়ানসহ সরকারের ফ্যাসিবাদি আচরনের তীব্র নিন্দাজ্ঞাপন করলাম। কারন চকলেটস তো সব চাচীর কাছেই। তাই তাকে খুশি করাটা জরুরী। 

এরপর বাসায় এসে আরেকটা খুশির খবর দিলাম "চাচীইইই! ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু ডাই, ফেইসবুক খুইল্লা দিসে, এখন আপনি লাগেজ খুলতেই পারেন, আর চকলেটস বের করতেই পারেন 



পরদিন...


-এত্তো চকলেট!!! সব আমার জন্য!!! 
- এই দুই বক্স স্পেশালি ফর ইউ এন্ড ইউর ফ্রেন্ডস.. বাকি সবারটা পরে দিবো.. ইউ ওয়ানা শেয়ার ইউথ ইউর ফ্রেন্ডস সো আমি আগেই তোমারটা রেডি করে রাখসি...
- থ্যাঙ্কুউউউ চাচী..   

চকলেট বক্স হাতে পাওয়ার পর থেকাই স্মৃতিশক্তি কেমন জানি দুর্বল হয়া যাইতেসে.. আমার ফ্রেন্ডস জানি কারা ছিল??
সবাইরেই এখন অনেক আপন মনে হইতেসে.. একদম ভাই বোনের মতন আপন.. বন্ধু ছাড়া লাইফ তো পসিবল.. কিন্তু চকলেট ছাড়া লাইফ ..... কেমনে পসিবল???

Friday, November 20, 2015

একদা বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ হয়েছিল

আমি সেবার ফ্রান্সে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফ্রান্সের অলিগলি থেকে শুরু করে মহাসড়ক কোনটাই আমার দেখার ভাগ্য হয়নি। কারণ ভিপিএন বলেছিল শুধুমাত্র সে আমাকে সেইখানে বসবাসকারী হিসেবে তাঁর ঠিকানা ধারণ করতে দেবে। তাও শুধু সেই সুবিধাটুকুই গ্রহণ করতে পেরেছিলাম।

তখনকার দেয়া একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস... 

দুইদিন কত্তো আরামসে চালাইলাম, ভিপিএন টিপিএন কিচ্ছুই লাগলো না, আজকে সকালে তাহারা টের পাইলো যে আমি দেশে বইসা দেশদ্রোহী কার্যকলাপ সম্পাদন করিয়া যাইতেছি। বাধা এলো, বিপত্তি এল, বাধ্য হয়ে আশ্রয় চাইলাম ভিপিএনের কাছে। কিন্তু হায় হায়, উনি দেখি আমারে একই সাথে ফ্রান্স আর প্যারিসে পাঠায় দিছেন। 
যাক সমস্যা নাই, আমি কিন্তু পুরাই নিউট্রাল, প্যারিস হামলার পক্ষে বিপক্ষে আমি কোন স্ট্যাটাস দেই নাই, বাইচ্চা গেছি ..

Monday, November 16, 2015

যার যা খুশি লিখতেই পারে, তবে যদি নোংরা হয় অন্যের নিউজফিড...

কোন এক কবি একটু আগে বলছিলেন, হৃদয় নাকি এখন বুক থেকে ফেসবুকে এসে গেছে। তাই বেগ আর আবেগ দুইটাই এখন ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণে। বুক বলতে তো কিছুই নাই, যাহা আছে সবই ফেস। এবং এই ফেস যখন যেই এক্সপ্রেশান দিবে, কোন রকম চিন্তা ভাবনা ছাড়া সেটাই আপনি উগ্রে দিবেন অন্যের নিউজফিডে। কখনো কমেন্টবক্সে আর কখনো ইনবক্সে। কারণ আপনি ফ্রীডম অফ স্পিচে বিশ্বাস করেন। এতে কার কতটুকু মান গেল বা জাত গেল তা দেখে আপনার কাজ নেই। 

পরিক্ষা শেষে এক কাজে এলিফ্যান্ট রোড যাচ্ছি, রিকসায় ফেসবুকিং চলছে। হঠাৎ একটা পোস্টে চোখ আটকে গেল : "মাওলানা হাসান জামিল সাহেব বিদায় নিচ্ছেন ফেসবুক থেকে"...
হাসান জামিল সাহেবকে আমি প্রথম চিনেছি ইউটিউব থেকে। উনার আলোচনাগুলা ভাল লাগে, প্রায়ই শোনা হয়। তাই এই বিদায়ী পোস্টটা ভাল লাগলো না। উনার মত একজন ব্যক্তির বিদায়টা মোটেও কোন সুসংবাদ না। এদিক দিয়েই যখন যাচ্ছি, ভাবলাম একবার দেখাটা করেই যাই।

বিদায়ের কারণটা উনি স্ট্যাটাসে কিছুটা উল্লেখ করেছেন, তবে সরাসরি শুনে বুঝতে পারলাম কস্টটা একটু বেশীই পেয়েছেন। আমি উনাকে একটু এলিটিজমে বিশ্বাস করার পরামর্শ দিলাম। ফ্রেন্ডলিস্টে প্রবেশ ও পোস্টে কমেন্টাধিকার সংরক্ষিত বাকি সবাইকে ফলোয়ারের কাতারে রাখা যেতে পারে। তবে এতে উনার আপত্তি ছিল কারণ উনি কখনোই এভাবে অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধিনতায় হস্তক্ষেপের পক্ষে ছিলেন না। হয়তো তার খেসারতই এখন দিতে হচ্ছে।

বৃদ্ধ বণিতার সংখ্যা সে হারে টের না পাওয়া গেলেও আবালরা কিন্তু নিয়মিতই ভার্চুয়ালি তাদের অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছে। এবং আশংকাজনক হারে এ সংখ্যা বেড়ে চলছে। ইদানিং বুদ্ধিজীবি হয়ে ওঠার যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এটা যে কোন দিকে মোড় নিবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। হ্যা, সচেতনতা অবশ্যই দরকার, বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান চর্চা, চিন্তার চর্চা সবই প্রয়োজন। কিন্তু সেটা অবশ্যই নিয়ম মেনে। একজন একটা অপিনিয়ান দিলো, এটা আপনার ভাল না লাগাটা অস্বাভাবিক না। কিন্তু তাকে আক্রমণ করে "আমারটাই সঠিক" বুঝানোটা খুবই অস্বাভাবিক। আর তাতেই বিপত্তিটা বাধে যখন কেউ ভাবে যে, আমি বুঝি আর না বুঝি এখানে একটা পন্ডিতি দেখিয়ে যে কোন মুল্যে নিজকে বুদ্ধিজীবি আকারে হাজির করতেই হবে। কার সাথে কথা বলছি বা কার স্ট্যাটাসে কমেন্ট করছি এ নিয়ে মাথা ঘামাতে গেলে তো আমার আর বুদ্ধিজীবি হয়ে ওঠা হবে না। 
তাই না!!!

The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...