Thursday, August 3, 2017

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মানদণ্ড (১)

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও এই নামে

বিশেষায়িত করার প্রেক্ষাপট

মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ


আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রথম নীতিঃ কুরআন হাদিসে যেই বিষয়ে সুস্পষ্ট উল্লেখিত, সেগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত ভিন্ন কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কুরআন হাদিসের যাহেরী অর্থই ধর্তব্য।
(শরহে আকায়েদে নাসাফী পৃষ্ঠাঃ১১৯)

উসুলে ফিকহের পরিভাষায় এইভাবে বলা হয়, যতক্ষন পর্যন্ত হাকিকতের উপর আমল করা অসম্ভব না হয় ততক্ষণ মাজাযী অর্থ গ্রহণ করার দিকে যাওয়া যাবে না।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এই মূলনীতির বিরোধিতা করে রাফেজীদের উপদল বাতেনীরা।
তারা বলে,
* জান্নাত মানে হচ্ছে দুনিয়াতে শরিয়তের বিধান পালন করার কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার নাম। (এই কারণেই একটা সময় গিয়ে তাদের নামাজ রোজা মাফ হয়ে যায়)
* বাতেনিয়াদের মত আমাদের দেশের ভন্ড পীরেরাও কুরআন হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা প্রদান করে। যেমন দেওয়ানবাগী তাঁর “আল্লাহ কোন পথে” বইতে লিখেছে “কুরআন হাদিসের বাতেনী ব্যাখ্যা আমরা সাধারণ তাফসীরকারকদের কাছ থেকে পাইনি। (তারা সব কিছুতেই বাতেনি ব্যাখ্যা খুজে থাকে, যেটা তাদের মনগড়া হয়ে থাকে।)



আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দ্বিতীয় নীতিঃ যে বিষয়ে কুরআনের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট বা সঠিক উদ্দেশ্য বুঝতে পারা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ, সেক্ষেত্রে রাসূলের সুন্নাত বা সহীহ হাদিস পেশ করতে হবে। যেমন রাসূলের মিরাজ। কুরআনে মিরাজের বিবরণ শুধু বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। এবং এরপর ঊর্ধ্বাকাশে যে ভ্রমণ হয়েছিল তা সুস্পষ্ট হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। শুধু মাত্র কুরআনে না থাকার কারণে বাকি অংশকে যদি কেউ অবিশ্বাস করে তাহলে তা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদার পরিপন্থী বলে গণ্য হবে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের তৃতীয় নীতিঃ যে বিষয়ে কুরআন ও হাদিস উভয় জায়গায় অস্পষ্ট বা ব্যাখ্যা ব্যাতিত বুঝা অসম্ভব সেসব বিষয়ে সাহাবাইয়ে কেরামের ব্যাখ্যাই চূড়ান্ত বলে মানতে হবে। যেমন, রাসূলের পর খলিফা কে হবেন সে ব্যাপারে কুরআন হাদিসে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম ঐক্যমতের ভিত্তিতে মেনে নিয়েছিলেন আবু বকর রা. কে। এই মূলনীতিরই অনুসরণ করতে হবে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের চতুর্থ নীতিঃ কুরআনের কোন আয়াতের শাব্দিক অর্থ যদি অন্য কোন নসের বা অকাট্য দলিলের বিপরীত হয় তাহলে অকাট্য দলিলকেই মানা হবে। কারণ শাব্দিক অর্থ ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। এখানে নানান রকম ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। তাই ইচ্ছেমত যেকোন একটাকে গ্রহণ না করে যে ব্যাখ্যা অকাট্য দলিল অনুযায়ী হবে সেটাকেই গ্রহণ করতে হবে।  
যেমন, কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ আরশের উপর আরোহন করে আছেন বা আল্লাহর হাত পা আছে বা আল্লাহ আসমানে আছেন। কিন্তু এর বিপরীতে অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত যে আল্লাহর আকার আকৃতি ইত্যাদি নেই। অতএব এখানে বুঝে নিতে হবে যে শাব্দিক অর্থের যে ভিন্নতা রয়েছে সেই ভিন্নতার মধ্যে গ্রহণ শুধু সেই অর্থটাকেই করা হয়েছে যা নসের বিপরীত না। মাজায বা রুপক অর্থ উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। এখানে শাব্দিক অর্থ না নিয়ে রূপক অর্থ উদ্দেশ্য নেয়ার কারণেই আর সংঘর্ষ হয়নি।




যে কারণে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামে বিশুদ্ধ আকিদার ভিন্নতা ও স্বতন্ত্র হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলঃ


রাসুলুল্লাহ সা বিদায় হজ্জের ভাষণেই এই বিভক্তির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন এবং এর থেকে উত্তরণের পথও বলে দিয়ে গেছেন। তা হচ্ছে সুন্নত এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খেলাফতে রাশেদার পথ।রাসুলুল্লাহ সা বিদায় হজ্জের ভাষণেই এই বিভক্তির কথা বলে গিয়েছিলেন এবং এর থেকে উত্তরণের পথও বলে দিয়ে গেছেন। তা হচ্ছে সুন্নত এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খেলাফতে রাশেদার পথ। 
ইতিহাস দেখলে জানা যাবে রাসুলুল্লাহ সা এর এই মুল্যবান ওসিয়তকে মেনে চলার কারণেই সাহাবায়ে কেরাম সকল প্রকারের মনগড়া ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত থেকেছেন যা তিনি বিদায় হজ্জের সময় সকলের উদ্দেশ্যে বলে গিয়েছিলেন। এ কারনেও হযরত ওমরের যুগ পর্যন্ত কোন ধরনের আকিদাগত বিভক্তি দেখা দেয়নি। 

সময় অতবাহিত হয়। চক্রান্তের জাল বিস্তারের সুযোগ সন্ধানীরা সুযোগের খুজতে থাকে। এমন সময় গভীর ষড়যন্ত্রের রূপরেখা নিয়ে ইয়াহূদি আব্দুল্লহা বিন সাবা খলিফা হযরত উসমানের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। এবং এ উদ্দেশ্যে মদিনা সিরিয়া বসরা এমনকি মিসর পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। রাসূলুল্লাহ সা. এর প্রতি জনগণের নিখাদ ভালবাসাকে পুজি করে অশিক্ষিত মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে শুরু করে।
আব্দুল্লাহ বিন সাবাড় কথা যুক্তিতে খুব সাজানো গোছানো ছিল। এবং এই যুক্তির ভেতর যেই বিষ মানুষের মগজে সে প্রবেশ করিয়ে দিত সাধারণ মানুষের তা ধরার ক্ষমতা ছিল না। মানুষকে সে বুঝাতো এইসব বলে যে, হযরত আলী রা. আহলে বাইত হিসেবে উসমান রা থেকে বেশী যোগ্য। সাহাবিদের জালিম বলে গালি দেয়। এবং হযরত আবু বকর রা ও ওমর রা কে জালেম বলে আখ্যা দেয়।  এবং এইভাবে চাতুরতার সহিত সে নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি করে। এবং উসমান রা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। এবং উসমান রা কে শহিদ করে। জামাল সিফফিনের মত যুদ্ধও এদের এদের চক্রান্তেরই ফসল। সুতরাং আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাই ইতিহাসের সর্বপ্রথম ভ্রান্ত মতবাদের জন্মদাতা।  

এত ঘটনার পর যখন আলী রা খলিফা হয় তখন তাঁর বিরুদ্ধে হযরত মুয়াবিয়া রা কে ক্ষেপিয়ে তোলে। এবং উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ বাধায়।

কিন্তু তারা যেহেতু নবীর সাহাবী ছিলেন, একটা সময় গিয়ে তারা এই সাবাঈ চক্রের চক্রান্তগুলো ধরে ফেলেন। এরপর তারা উভয়দল আপোষের প্রস্তাবে একমত হলে সাবাঈ চক্র উভয় পক্ষ ত্যাগ করে খারেজী হয়ে যায়। এই খারেজীদের ভ্রান্ত আকিদার জের ধরে সৃষ্টি হয় মুরজিয়া নামক একটি ভ্রান্ত দল। এবং উভয় দলের মতবাদ খন্ডনে ওয়াসিল ইবনে আতার মতাদর্শে সৃষ্টি হয় প্রতিক্রিয়াশীল মুতাযিলা নামক ফিরকা।

এ পরিস্থিতি মুকাবেলায় এগিয়ে আসেন আবুল হাসান আশআরী ও আবু মানসুর মাতুরিদি। তারা ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদাকে রাসূল সা এর সুন্নাত ও জামাতে সাহাবার দলিল দ্বারা প্রমাণ করতে থাকেন। এভাবেই ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হিসেবে অভিহিত হয়।
বিষয়টি আল্লামা তাফতাজানি এইভাবে বলেছেনঃ এদের বিশেষভাবে মুকাবেলা হয়েছিল বাতিল মতবাদে বিশ্বাসী মুসলমানদের সাথে, বিশেষত মুতাযিলাদের সাথে। কারণ মুতাযিলারাই বাতিল মতবাদে বিশ্বাসী প্রথমদল। যারা আকিদার ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ও্যাল জামাতের বিপরীতে নীতিমালা প্রণয়ন করে বিরোধিতা শুরু করেছে। (খারেজীরা এদের আগে আসলেও তারা নীতিমালা প্রণয়ন করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিরোধিতা শুরু করেনাই।)

আল্লামা তাফতাযানী ইমাম আবুল হাসান আশআরী সম্পর্কে লিখেনঃ এক বিতর্কে যখন জুব্বাই (মুতাযেলী)রা জবাব দিতে ব্যর্থ হল, তখন থেকে আশআরী রহ ও তাঁর অনুসারীরা জুব্বাই মতামত বর্জন করে তা খণ্ডন করা শুরু করলো। যেহেতু তারা রাসূল সা. ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত প্রমাণের জন্য এই আত্মনিয়োগ করেছিলেন তাই তাদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বলে অভিহিত করা হয়। (শরহে আকায়েদে নাসাফী পৃ৬ ) 


ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
লেখকঃ মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম

ইসরাইল একটি অবৈধ রাষ্ট্র। ১৯৪৮ সালের ১৫মে মুসলিম ফিলিস্তিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া রূপী ইহুদী ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে ইহুদীরা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিল এবং তাদের কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় বাসস্থান বা দেশ ছিল না।

ইসরাইল একটি অবৈধ রাষ্ট্র। ১৯৪৮ সালের ১৫মে মুসলিম ফিলিস্তিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া রূপী ইহুদী ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে ইহুদীরা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিল এবং তাদের কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় বাসস্থান বা দেশ ছিল না। যে দেশে তারা বাস করত, তারা সে দেশেরই নাগরিক ছিল। ইসরাইলের আয়তন ২০,৭৭০ বর্গ কিলোমিটার (৮,০২৯ বর্গমাইল)। এ আয়তনের মধ্যে গাজা, পশ্চিমতীর, গোলান মালভূমি বা অন্য অধিকৃত আরব অঞ্চলগুলিকে ধরা হয়নি। সীমান্তরেখা ১,০০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। ইসরাইলকে ঘিরে আছে মিশর (২২৫ কি.মি), জর্ডন (২৩৮ কি.মি), লেবানন (৭৯ কি মি), সিরিয়া ৭৬ কি. মি), পশ্চিম তীর (৩০৭ কি. মি), গাজা উপত্যকা (৫১ কি. মি)। পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর তটরেখা ২৭৩ কি. মি। জনসংখ্যা ৬২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮শত ৮৩ জন। জনসংখ্যা ৮৩ শতাংশ ইহুদী, ১৭ শতাংশ আরব। ইসরাইলের দখলে থাকা বিভিন্ন আরব এলাকার লোকসংখ্যা ইসরাইলের লোকসংখ্যা হিসেবে ধরা হয়েছে। অধিবাসীদের ইসরাইলি বলা হয়। সরকারি ভাষা হিব্রু। শিক্ষার হার ৯৫.১ শতাংশ। পূর্ব রাজধানী তেলআবিব। ১৯৫০ সালে ইসরাইল অধিকৃত আরব অঞ্চলের জেরুসালেমকে রাজধানী বলে ঘোষণা করে। কিন্তু জাতিসংঘের কোন সদস্য তা মেনে নেয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল দেশের দূতাবাস তেলআবিব শহরেই আছে। তেলআবিব দেশের প্রধান বন্দর। হাইফা অন্য উল্লেখযোগ্য শহর। ভূমধ্যসাগরের পূর্বপ্রান্তে, পশ্চিম এশিয়ার শেষে, ১৯৪৮ সালে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রে গঠিত হয় অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল। ইসরাইলের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত জর্ডন নদীর পানিতে তার মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল খুব উর্বর। দক্ষিণের নেজেভ অঞ্চল যা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত ইসরাইলের ভূখন্ডের প্রায় অর্ধেক তা অনুর্বর মরু অঞ্চল। ইসরাইলের জাতীয় সেচ প্রকল্প নেজেভ অঞ্চলকে কর্ষণযোগ্য করে তুলছে।
ইসরাইলের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনী রয়েছে। সৈন্য সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার। এর মধ্যে স্থলবাহিনীর সদস্য হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার, নৌবাহিনীর সদস্য ৮ হাজার, বিমান বাহিনীর সদস্য ৩৫ হাজার। তার ওপর তাদের রয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার রিজার্ভ মিলিশিয়া। সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ট্যাংক ৪.৩০০টি, জঙ্গী বিমান ৬১৩টি, যুদ্ধ জাহাজ ১৫টি, সাবমেরিন ৩টি, ২০০টি পারমাণবিক বোমা ও অসংখ্য প্যাট্রিয়টিক মিসাইল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র সাম্রাজ্যবাদীরা কোন মুসলিম দেশকেই পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে দেবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অথচ ইসরাইলকে তারা করেছে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ। ইসরাইলে এমনভাবে সমরাস্ত্র কারখানাসমূহ গড়ে তোলা হয়েছে যে, তা এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের অন্যতম সমরাস্ত্র ও সামরিক হার্ডওয়ার রফতানীকারক দেশ। ইসরাইলের দৃষ্টিতে সে চারধারে বৈরী প্রতিবেশী যেমন- ইরান, ইরাক , সৌদি আরব, সিরিয়া, জর্ডন, মিশর, আলজেরিয়া, লিবিয়া দ্বারা বেষ্টিত যাদের সম্মিলিত আয়তন ১৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫ শত ৯৫ বর্গমাইল। জনসংখ্যা ২৫ কোটি ৬ লক্ষ ৯৪ হাজার। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭ শত। ট্যাংক ১৬ হাজার ৫ শত ৪৭টি। সাবমেরিন ২৫টি। ডেস্ট্রয়ার/ফ্রিগেট ৩১টি। ইসরাইলের মতে তার পাশে যেহেতু বৈরী প্রতিবেশী রয়েছে সে জন্যই সে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছে। আর এ জন্য করতে হচ্ছে বিপুল অংকের বরাদ্দ। ২০০১ সালে ১০০টি দেশের বিবেচনায় ইসরাইল বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রাশিয়াতে ইহুদী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা হয় এবং ১৮৯৫ সালে এর গোড়াপত্তন ঘটে। উক্ত আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, ‘ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃতির ভিত্তিতে একটি স্থায়ী আবাসস্থান প্রতিষ্ঠা করা।’ ১৮৯৭ সালে ইহুদীদের প্রথম জাতীয়তাবাদী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম বিশ্ব ইহুদী কংগ্রেস সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেলে অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে ইহুদীদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫০ জন ইহুদী পন্ডিত, দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ অংশ নেন। অতঃপর ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ভিয়েনাবাসী ইহুদী নেতা, দার্শনিক ও সাংবাদিক থিউডর হারজেল (Theodor Herzel) একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজন সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন এবং তা হতেই আধুনিক কালের ইহুদী জাতীয়তাবাদের উৎপত্তি হয়।
ইহুদী বিশ্বসংস্থা গঠন
ফিলিস্তিনে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কল্পনাকে বাস্তব রূপ দান করার জন্য ১৮৯৭ সালে থিউডর হারজেল বুদাপেষ্টে আন্তর্জাতিক ইহুদী আন্দোলনের (International zionism movement) জন্য একটি বিশ্বসংস্থা গঠন করেন। ফিলিস্তিনের মালিক উসমানীয় তুর্কী সালতানাতকে হারজেল স্বপক্ষে আনার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। ১৯০৪ সালে হারজেল মারা যান। ১৯০৫ সালে বৃটেন ইহুদীদেরকে তার আফ্রিকান উপনিবেশ উগান্ডা দিতে সম্মত হয়; কিন্তু ঐতিহাসিক ও ভাবাবেগগত কারণে ইহুদী কংগ্রেসের ফিলিস্তিনের প্রতি আকর্ষণ থাকায় তারা এ দান প্রত্যাখ্যান করে। এদিকে আন্তর্জাতিক ইহুদী আন্দোলন শক্তিশালী হতে থাকে। ইহুদীগণ ক্ষুদ্র আকারে ফিলিস্তিনে গিয়ে বসবাস করতে আরম্ভ করার অল্প পরেই শুরু হয় প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদী নেতা ও বিজ্ঞানী ডঃ চেইম ওয়েইজম্যান (Chaim Weizmann) ফিলিস্তিনে ইহুদীদের বসবাস করার অনুমতি লাভের বিনিময়ে ইহুদীদের কাছ থেকে মিত্র শক্তির গৃহীত ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দিতে তথা মওকুফ করে দিতে স্বীকৃত হন।
বেলফোর ঘোষণা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃটিশ ও মার্কিন সরকার ফিলিস্তিনে স্বতন্ত্র আবাসভূমির প্রশ্নে ইহুদীদের দাবীর প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে। ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ভ আর্থার বেলফোর (A.J. Balfour) ঘোষণা করেন যে, ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জাতীয় আবাসস্থল স্থাপনে ইংরেজ সরকারের সম্পূর্ণ সহানুভূতি আছে এবং এ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ইংরেজ সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এটিই বেলফোর ঘোষণা (Balfour Declaration) নামে খ্যাত। এ ঘোষণা বা অঙ্গীকারটি ইংরেজ ইহুদীদের নেতা ও জায়নিষ্ট সংস্থার পৃষ্ঠপোষক লর্ড জেমস রথচাইন্ডের প্রতি লিখিত হয়েছিল। এই ঘোষণার ভাষ্য ছিল সংক্ষিপ্ত, সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। এ ঘোষণার ভাষ্য ছিল নিম্নরূপ :
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
২ নভেম্বর ১৯১৭
প্রিয় লর্ড জেমস রথচাইল্ড,
‘মহামান্য সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদী জাতির একটি জাতীয় স্বদেশভূমি (National Homeland) সৃষ্টির বিষয়টি সহানুভূতির সাথে দেখছে। এই লক্ষ্য অর্জনের ব্যবস্থা গ্রহণে সে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। স্পষ্টত এ ঘোষণা ফিলিস্তিনে বিদ্যমান ইহুদী সম্প্রদায়গুলোর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারের বিরুদ্ধে কোন পক্ষপাতিত্ব করছে না। অনুরূপভাবে এটি অন্যান্য দেশে ইহুদীরা যে আইনগত ও রাজনৈতিক অবস্থায় আছে তার ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না। আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব যদি দয়া করে এ ঘোষণাটি জায়নিস্ট ফেডারেশনকে জানিয়ে দেন।
আপনার বিশ্বস্ত
আর্থার জেমস বেলফোর।
বৃটেন ছিল তদানীন্তন বিশ্ব পরাশক্তি। বৃটিশ সাম্রাজ্যে তখন নাকি সূর্য অস্ত যেতনা। ইহুদীরা তাই বিশাল বৃটিশ সাম্রাজ্যের দ্বারস্থ হয়। বৃটেন ফিলিস্তিনে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বেলফোর ঘোষণা দ্বারা ফিলিস্তিনে ইহুদীদের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে বলে ইহুদী মহলে বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। বৃটেন ইহুদী সংঘের সভাপতি লর্ড রথচাইল্ড বেলফোর ঘোষণাকে অভিনন্দিত করেন। প্রকৃতপক্ষে অক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে ইহুদীদের সমর্থন লাভ ও মুসলিম ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলার লক্ষ্যে বেলফোর ঘোষণা রচিত হয়েছিল। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ (১৯১৬-১৯২১) এ ঘোষণাকে ইহুদীদের জন্য বৃটিশের একটি পুরস্কার বলে অভিহিত করেন। ফিলিস্তিন সমস্যা তথা মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার ইতিহাসে বেলফোর ঘোষণা একটি উল্লেখযোগ্য দলিল। লঘুচিত্তে এ ঘোষণা করা হয়নি। এ ঘোষণার পেছনে বহুবিধ কারণ ছিল। যেমন-
১. রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের পর বৈপ্লবিক সরকার ‘বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদী প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হতে সরে দাঁড়াবার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এ ইচ্ছা কার্যে পরিণত হলে পূর্ব ফ্রন্টে নিয়োজিত বিপুলসংখ্যক জার্মান সৈন্য পশ্চিম ফ্রন্টে নিয়োজিত হতে পারত। এর ফলে ফরাসি সীমান্তে মিত্রবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এ সম্ভাবনা দূর করার জন্য যে কোন উপায়ে আরও কিছু দিন রাশিয়াকে যুদ্ধে ব্যাপৃত রাখার নীতি গৃহীত হয়। বলশেভিক বিপ্লবে রাশিয়ার ইহুদীগণ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও বেশ কিছুসংখ্যক ইহুদী ছিল। মিত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ মনে করেছিলেন যে, ফিলিস্তিনে ইহুদী আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেতৃস্থানীয় বলশেভিক ইহুদীদের সন্তুষ্ট করতে পারলে তাদের সহায়তায় রাশিয়াকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর নেতৃত্বাধীন শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপৃত রাখা যাবে।
২. ১৯১৭ সালের এপ্রিলের ৬ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানীর বেপরোয়া ডুবো জাহাজ ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করলেও সীমিতভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরীর বিরুদ্ধে যুদ্ধই ঘোষণা করেনি। এই অবস্থায় মিত্রশক্তিবর্গ যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকতর অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন (১৯১৩-১৯২১ কার্যকাল) সহ মার্ক

ইসরাইলে রেযা আসলান

সিএনএনের বানানো ডকুমেন্টারি। ইসরাইল সম্পর্কে একটা ধারণা ছিল যে তারা সবসময় নিজেদের জীবনব্যবস্থাকে আড়ালে রাখতে চায়। এই ধারণাটা সত্যিই ছিল হয়তো অনেকটা। কেননা ইসরাইল নিয়ে সচরাচর ডকুমেন্টরী চোখে পড়েনা।

তাদের অর্থোডক্স ইহুদি মধ্যে প্রচুর এক্সট্রিমিজম আছে। তারা চেঞ্জকে বিলিভ করেনা। তাদের পুরুষরা কোনকাজ করেনা। সেনাবাহিনীতে যোগদান করাটাও দোষনীয়। তাদের ইন্টারনেট হচ্ছে ওয়ালে লাগানো সব পত্রিকার মত কাগজ। কাজ করবে ঘরের মেয়েরা। ঘরের কাজ বাইরের কাজ দুটোই। কারণ পুরুষদের দৈনিক বারো ঘন্টা করে তাওরাত পড়তে হয়।

বাইতুল মুকাদ্দাসে এবাদতের জায়গা নিয়েও নারীবাদীদের সাথে তাদের একটা দ্বন্দ্ব আছে। সেখানে প্রার্থনার জন্য যে বড় যে দেয়ালটি আছে তার একপাশে নারীদের জন্য ছোট্ট একটু জায়গা বরাদ্দ থাকলেও এইখানে আসা এবং প্রার্থনা করা নিয়ে নারীদের উপর কঠোর কিছু শর্ত আরোপ করা আছে। যেমন, তারা পুরুষদের মত ছোট বাইবেল কপালে বেধে প্রার্থনা করতে পারবেনা। সেই ছোট জায়গার বাইরে আসতে পারবেনা। আওয়াজ নিচু হতে হবে যাতে তাদের আওয়াজে পুরুষদের প্রার্থনা বিঘ্ন না হয়। এমন আরো কিছু শর্ত যা একটা সময় নারীদের কাছে অসম মনে হতে লাগলো। আজ থেকে প্রায় সাতাশ বছর আগে এ নিয়ে একটা আন্দোলন শুরু হয়েছিল নারী পুরুষদের মধ্যে। সেটা এখনো বহাল আছে। নারীরা মনে করে তাদেরও ধর্মীয়ভাবে সেসব অধিকার প্রাপ্য।
নারীদের সাথে অসম বিধানের আরো অনেক উদাহরণ আছে এই খারেদী অর্থোডক্সদের মাঝে। ইসরাইলে এমন জায়গাও আছে যেখানে নারীদের হেটে যাওয়াকে পুরুষ নিজের জন্য অপরাধ ভাবে। ধর্মশিক্ষা শুধু পুরুষরাই করে। নারীদের ঘর সামলানো এবং টাকা কামাই করে সংসার চালানোর মত বিশাল দুই দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় তারা।

কিন্তু এইসবের প্রতিক্রিয়া হিসেবে হোক আর যে কারণেই হোক ইসরাইলে এখন সেক্যুলাররা একজিস্ট করছে বেশ ভাল ভাবে। তবে তাদের জীবনব্যবস্থার মধ্যেও তারা ইহুদীবাদের একটা ধাচ থেকেই যায়। যেমন ডিনার পার্টি হচ্ছে, কিন্তু সেখানে ড্রিংক নিয়ে দাঁড়িয়ে টুইস্ট করার আগে হিব্রু ভাষায় ধর্মীয় কোন কিছু পড়ে নিচ্ছে, কারণ তার বাবা এমন করতো। আবার ড্রিংক চিয়ার করার সময় বলছে সেকুলারিজমের জয় হোক। একটা দ্বৈততা কাজ করে এদের ভেতরন কিন্তু সারভাইভ করে যাচ্ছে এর সবচেয়ে বড় কারণ হয়তো এরা চেইঞ্জটাকে অস্বীকার করছেনা। এইখানেই একটা বড় রেখা টেনে দিচ্ছে সমাজ। অর্থোডক্সরা পিছিয়ে পড়ছে। যদিও তারা ভাবছে যে তারা সঠিক জায়গায় আছে।
কিন্তু রাষ্ট্রের সাথে এই অর্থোডক্সদের ভাল যোগাযোগ। তাদের আইন সম্পূর্ণভাবে না মানা হলেও তাদের সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিয়ে রাখা হয়েছে।

মানবদেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ব্যাপারে শরিয়তের বিধান

মানবদেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ  সংযোজনের ব্যাপারে শরিয়তের বিধান

মানবদেহে অঙ্গ সংযোজনের জন্য আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রে যে পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে মানব দেহের কোন অসম্মানের সম্ভাবনা নেই। অতএব তাহরীমের যেই উসুলের কারণে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা এখন আর বিদ্যমান নেই।
এক্ষেত্রে শর্ত হল এর উদ্দেশ্য অবশ্যই কোন রোগীর জীবন রক্ষা করা অথবা কোন মানবিক কোন অপরিহার্য দিককে রক্ষা করা যেমনঃ দৃষ্টিশক্তি।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক তার সুপারিশ থাকতে হবে যে এর মাধ্যমে সুস্থতার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে।
কোন মৃতদেহ থেকে অঙ্গ সংযোজন করতে হলে তার জীবদ্দশায় সেই মৃতব্যক্তি কর্তৃক অনুমতি থাকতে হবে। এবং উত্তরাধিকারগণও এতে সম্মত থাকতে হবে কেননা মৃত্যুর পর তারাও অভিভাবক। যেমনিভাবে হত্যার কিসাসের দাবী করার অধিকার তাদের থাকে।

জীবিত কোন ব্যক্তির অঙ্গ সংযোজনের ব্যাপারে হুকুম হল খোদ সেই ব্যক্তির অনুমতি দিতে হবে। এবং শর্ত হল তার এতে বড় ধরনের কোন ক্ষতি না হতে হবে।

শাফেয়ী ও হাম্বলীদের মতে অঙ্গের বেচাকেনা উভয়টিরই সুযোগ আছে। তবে হানাফিদের মতে জরুরী ভিত্তিতে কেবল ক্রয় করতে পারবে, বিক্রয় করতে পারবেনা।

সূত্রঃ জাদিদ ফিকহী মাসায়েল
          খালেদ সাইফুল্লাহ রহমানী 
           ভলিউম ২     পৃষ্ঠাঃ ৬৫৮



মানবদেহে অঙ্গ সংযোজনের ব্যাপারে দেওবন্দসহ ভারতের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মুফতিয়ানে কেরামের সাক্ষরিত ফাতওয়াঃ


মানবদেহের যে কোন অঙ্গ বিক্রয় করা হারাম। (সংকটাপন্ন অবস্থায় ক্রয়ের অনুমতি আছে)
যদি রোগীর অবস্থা এমন হয় যে তার কোন অঙ্গ এমন ভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং সে স্থানে বিকল্প কোন অঙ্গ সংযোজন না করা হলে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, অঙ্গ ছাড়া বিকল্প কোন কিছু সংযোজন করে বাচানো সম্ভব না, এ ব্যাপারে ডাক্তারও নিশ্চিত তাহলে এমন সংকটময় মুহূর্তে জীবন বাচানোর জন্য অঙ্গ সংযোজনের অনুমতি আছে।

সুস্থ ব্যক্তি যদি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে জানতে পারে তার অঙ্গ খুলে ফেললে কোন সমস্যা হবেনা তাহলে সে এমন সংকটাপন্ন রোগীকে চাইলে অঙ্গ দান করে তার জীবন বাচাতে পারবে।

যদি কেউ মৃত্যুর পর নিজের অঙ্গ ডোনেট করার ওসিয়ত করে যায় তাহলে শরিয়তের পরিভাষায় এটাকে ওসিয়ত বলা হবেনা। কারণ এমন ওসিয়ত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য না।

Wednesday, August 2, 2017

ইসলামের মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে সঠিকপন্থা অবলম্বনের উপায় (১)


  মতবিরোধমুক্ত সোনালী যুগ



বর্তমান যুগের ফিকহের আলোচনা যেভাবে সুবিন্যস্তভাবে আমাদের নিকট এসে পৌঁছেছে নবীর যুগে ফিকহী মাসায়েলের আলোচনা এভাবে করা হত না। সে সময়ে ফিকহ কিংবা উসুলে ফিকহ বলতে এরূপ সুবিন্যস্ত কোন বিষয়ের অস্তিত্ব ছিল না।

ইসলামের প্রথম যুগে হুজুর সা. এর থেকে সাহাবায়ে কেরামের মাসআলা মাসায়েলের শেখার পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। যেমন, রাসুলুল্লাহ সা. যখন অযু করতেন সাহাবায়ে কেরাম তখন দেখে দেখেই শিখে নিতেন। পরবর্তীতে সেই তরিকায়ই তারা অযু করতেন। এমনিভাবে নামাজ, হজ সহ আরো বহু আমল তারা এভাবে শিখেছেন। কখনো আলাদাভাবে বলেননি যে অযুতে চার ফরজ। অপর দিকে সাহাবায়ে কেরামও এইসব বিষয় হুজুর সা. এর আমল থেকেই স্পষ্টভাবে বুঝে নিতেন। আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হত না।
তখনকার সাহাবীদের ব্যাপারে হযরত আব্বাস রা. বলেন, সাহাবীরা শুধু সেসব প্রশ্নই জিজ্ঞেস করতেন যেগুলো তাদের প্রয়োজন ছিল। আমি রাসুলুল্লাহ সা. এর সাহাবাদের থেকে উত্তম কোন জামাত আর দেখিনি। পুরো জীবনে তারা রাসুলকে সবমিলিয়ে মোট তেরোটি প্রশ্ন করেছিলেন। এবং এর উত্তরও কুরআনে আল্লাহ তায়ালা দিয়ে দিয়েছেন।
যেমন ইয়াস আলুনাকা আনিস শাহরিল হারামি কিতালিন ফিহ... ইয়াস আলুনাকা আনিল মাহিদ...

মোটকথা হুজুর সা. এর যুগে বাস্তব সংগঠিত কোন কিছু জানার থাকলে সরাসরি হুজুরের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করা হত হুজুর সা. এর বিধান বলে দিতেন।



মতপার্থক্যের ইতিহাসের সূচনা

সাহাবাদের যুগে মানুষ সাহাবায়ে কেরামকে মাসায়েল জিজ্ঞেস করতেন। যাকে জিজ্ঞেস করা হত তিনি না জেনে থাকলে অন্য সাহাবিদের থেকে জেনে বলে দিতেন। যেমন, হযরত আবু বকর রা. এর কাছে একবার একজন জানতে চাইলো, মৃতব্যক্তির উত্তরাধিকারের সম্পত্তির বন্টনের ক্ষেত্রে দাদির অংশ কতটুকু হবে? আবু বকর রা. নির্দ্বিধায় বললেন, আমি এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা. এর থেকে কিছু শুনিনি। এরপর হযরত আবু বকর রা. যোহরের নামাজের পর তিনি সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্য করে এই মাসয়ালাটি জিজ্ঞেস করলেন। তখন হযরত মুগিরা ইবনে শুবা রা. বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. থেকে শুনেছি, তিনি দাদীকে মৃতব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করতে বলেছেন। আবু বকর রা. আবার জিজ্ঞেস করলেন, বিষয়টি আর কারো জানা আছে। তখন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিমা বললেন, মুগিরা সঠিক বলেছে।

আরেকটি উদাহরণ হল, হযরত উমর রা. এর কাছে গর্ভস্থ সন্তানের দিয়্যতের বিষয়ে মাসয়ালা জিজ্ঞেস করতে আসলেন জনৈক ব্যক্তি। হযরত উমর রা. সেই মাসআলাটি সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তখনও মুগিরা ইবনে শুবা বলেছিলেন রাসুলুল্লাহ এর রক্তমূল্য নির্ধারণ করেছেন "গুররাহ"। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে একজন দাসী মুক্ত করা অথবা মৃতের ওলিকে পঞ্চাশ দীনার বা পাচশ দিরহাম প্রদান করা।

অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছ থেকে মাসায়েল এবং আমল শিখে পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করা শুরু করেন। এবং তাদের সামনে নিত্য নতুন এমন অনেক বিষয় আসতে থাকে যেগুলোর সমাধান তারা সরাসরি কুরআন হাদিস থেকে করতেন। যদি কুরআন হাদিসে সরাসরি পাওয়া না যেত তাহলে কুরআন হাদিসের আলোকে কিয়াস এবং ইজতেহাদের মাধ্যমে তাঁর শরয়ী সমাধান দিতেন।



শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. এই মতপার্থক্যের সাতটি কারণ নির্ণয় করেছেন।


মতপার্থক্যের প্রথম কারণঃ

ইজতেহাদের ভিন্নতা। রাসুলুল্লাহ সা. এর সমস্ত হাদিসের ব্যাপারে সকল সাহাবায়ে কেরাম সমানভাবে অবগত ছিলেন না। যার ফলে একই মাসআলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেক সাহাবী সরাসরি হাদিসের উপর আমল করেছেন আবার অনেকে হাদিসের ব্যাপারে অবগত না থাকার কারণে সেই জায়গায় ইজতেহাদ করেছেন।

এই ধরণের ইজতেহাদের সাধারণত চারটি অবস্থা হতঃ
১) কখনো ইজতেহাদের ফলাফল হুবহু হাদিসে বর্ণিত হুকুমের সাথে মিলে যেত।
এর উদাহরণ ইমাম নাসাঈর বর্ণিত এক হাদিস থেকে পাওয়া যায়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর নিকট এক মহিলার মহরের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল। সেই মহিলার স্বামী তাঁর মহরানা নির্ধারণ করেনি এবং মহিলার সান্নিধ্যে যাওয়ার আগেই স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা এই মহরানার হুকুম না জানার ফলে জবাব দিলেন, এই ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা. এর ফয়সালা আমার জানা নেই। কিন্তু লোকেরা ইজতেহাদ করে  একটি ফয়সালা দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে।
তখন তিনি ইজতেহাদ করে ফয়সালা দেন, এই মহিলাকে সেই পরিমাণ মহর দিতে হবে যেই পরিমাণ তাঁর সমমর্যাদার অন্যান্য মহিলা পেয়ে থাকে। এর থেকে কমও না বেশিও না। এবং এই মহিলার ইদ্দত পূরণ করতে হবে এবং স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে।
এই ফায়সালা শুনার সাথে সাথে মাকাল ইবনে ইয়াসার দাঁড়িয়ে বললেন রাসুলুল্লাহ সা আমাদের কাবীলার এক মহিলার ব্যাপারে ঠিক এমন সিদ্ধান্তই দিয়েছিলেন।

২)  ইজতেহাদগুলো কখনো এমন হত, একটি মাসয়েলের ইজতেহাদ বিষয়ে দুইজন সাহাবীর মধ্যে আলোচনা হত। তখন আলোচনার মাধ্যমে কোন একটা হাদিস তাদের সামনে এসে যেত। এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে  যখন তাদের প্রবল আস্থা ও বিশ্বাস জন্ম নিত তখন তাঁরা ইজতেহাদ ত্যাগ করে হাদিস গ্রহণ করতেন।
যেমন, আবু হুরাইরা রা এর ধারণা ছিল, যার উপর গোসল ফরজ হলো সে যদি সূর্যোদয়ের পূর্বে গোসল না করে তাবে তাঁর রোজা হবে না। কিন্তু যখন নবী করীম সা এর স্ত্রীগণের মধ্যে কয়েকজন রাসুলুল্লাহর আমল বর্ণনা করলেন তখন দেখা গেল রাসুলুল্লাহ সা. এর আমল আবু হুরাইরা রা এর ধারণার বিপরীত ছিল । তখন আবু হুরাইরা রা. তাঁর ধারণা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন।

৩) কখনো এমন হত, ইজতেহাদকারী সাহাবীর নিকট সাহাবীর হাদিস এসেছে বটে তবে তা বিশ্বাসযোগ্য পন্থায় আসেনি। এমতবস্থায় মুজতাহিদ সাহাবী সেই অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা পরিত্যাগ করে নিজেদের ইজতেহাদের উপর ভিত্তি করে রায় দিতেন। যেমন, ফাতিমা বিনতে কায়েস রা. হযরত উমর রা. এর সামনে বললেন, রাসুলুল্লাহ জীবত থাকতে আমাকে তিন তালাক দেয়া হয়েছিল। এবং রাসুলুল্লাহ সা. আমাকে ইদ্দতকালীন খোরপোষ দেয়ার নির্দেশ দেননি এবং তালাক দেয়া স্বামীর বাড়িতেও থাকতে বলেননি।
হযরত উমর রা. ফাতিমা বিনতে কায়েসের এই বক্তব্যকে অস্বীকার করেন। এবং বলেন আমরা একজন নারীর কথায় আল্লাহর কথার বিপরীত করতে পারিনা। তাছাড়া ফাতিমার কথা শুনে হযরত আয়েশা রা. ও বলেছিলেন “ফাতিমার কি হল! সে কি আল্লাহকে ভয় করেনা!

৪) কখনো এমন হত যে মুজতাহিদ সাহাবীর নিকট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন হাদিসই পৌঁছেনি। তিনি মাসয়ালার সিদ্ধান্ত ইজতেহাদের ভিত্তিতে দিতেন। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মহিলাদেরকে গোসল করার সময় মাথার চুল খোলার হুকুম বর্ণনা করতেন।
 হযরত আয়েশা রা. ব্যাপারটি জানতে পেরে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইবনে উমরের কি হল! কেন তিনি মহিলাদের চুল খোলার নির্দেশ দিচ্ছেন! এমন হলে তো তাদের মাথার চুল কমিয়ে ফেলতে বললেই হয়। অথচ আমি এবং রাসুলুল্লাহ এক পাত্রে গোসল করতাম এবং আমি কখনো চুল খুলতাম না শুধু মাত্র মাথায় তিনবার পানি ঢেলে নিতাম।


মতপার্থক্যের দ্বিতীয় কারণঃ

অনেক সময় এমন হত, সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সা. কে একটি কাজ করতে দেখেছেন। কিন্তু নিজস্ব চিন্তা ও গুরুত্বের তারতম্যের কারণে একেকজন আমলটিকে একেকভাবে নিতেন। ফলে দেখা যেত রাসুলুল্লাহ সা. এর একটি কাজ কোন সাহাবী আমল হিসেবে নিয়েছেন আর কোন সাহাবী মুবাহ হিসেবে নিয়েছেন। যেমন হজ্জের সময় রমল করার বিষয়টি। অনেক সাহাবী এটাকে সুন্নত বলেছেন যে হিসেবে আমরা এখন আমল করে থাকি। অন্যদিকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের নিকট এই রমল ছিল একটি আকস্মিক ঘটনা। তাঁর মতে মক্কার মুশরিকদের তিরস্কারের জবাবেই রাসুলুল্লাহ এই কাজটি করেছিলেন।

এছাড়া  হজ্জের সফরে রাসুলুল্লাহ সা এর আবওয়া উপত্যকায় অবতরণের ঘটনাও অনুরূপ। আবু হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. এর মতে এটি ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই তারা এটাকে হজ্জের সুন্নত বলে গণ্য করেছেন। কিন্তু হযরত আয়েশা রা ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা এর মতে রাসুলুল্লাহ সা. এর এই উপত্যকায় অবতরণ একটি সাধারণ ঘটনা ছিল। কোন আমলের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে অবতরণ করেননি।


মতপার্থক্যের তৃতীয় কারণঃ

রাসুলুল্লাহ সা. এর আমল পর্যবেক্ষণ তো সকলেই করতো এবং শিখতো। কিন্তু সব আমল সবার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে হত না। এবং সবার পর্যবেক্ষণও সমান থাকতো না। একই আমল কেউ ইল্লতের কারণে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করেতেন কেউ আবার মুবাহ হিসেবে ধরতেন। তাই পরবর্তীতে বিশ্লেষণের সময় বা অন্যত্র বর্ণনার সময় ভিন্নতা দেখা দিত। যেমন, রাসুলুল্লাহ সা. জীবনে একবারই হজ্জ করেছেন। পরবর্তীতে সেই হজ্জের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেউ বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সা. হজ্জে তামাত্তু করেছিলেন, কেউ বলেছেন হজ্জে ইফরাদ করেছিলেন, কেউ বলেছেন হজ্জে কেরান করেছিলেন।
এক্ষেত্রে দ্বিতীয় আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সা. হজ্জের তালবিয়া কখন পাঠ করেছিলেন এ নিয়ে মতপার্থক্য। এ ব্যাপারে ইবনে জুবায়ের রা. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কে জিজ্ঞেস করলেন,হজ্জের ইহরাম বাধার পর যে রাসুলুল্লাহ সা. তালবিয়া পাঠ করেছিলেন এ নিয়ে সাহাবায় কেরামের মতপার্থক্য দেখে আমার অবাক লাগছে। ইবনে আব্বাস এই কথা শুনে বললেন, এই বিষয়ে আমি বেশ ভাল জানি কি ঘটেছিল। আসলে রাসুলুল্লাহ একটি মাত্র হজ্জ করেছিলেন। ঘটনা হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ হজ্জের উদ্দেশ্যে মদিনা ত্যাগ করেন। এরপর তিনি মসজিদে যুল হুলাইফাতে দু রাকাত নামাজ পড়েন এবং সেখানেই হজ্জের ইহরাম বাধেন অতঃপর তালবিয়া পড়েন। এখন সেই সময় আশে পাশে যারা ছিল তারা তালবিয়া পাঠ শুনেন ও মনে রাখেন। এরপর যখন তিনি উটের পিঠে উঠেন তখন উট যাত্রা করার সময়ও তালবিয়া পড়েন, তখন সাথে যেই সাহাবীরা ছিল তারা সেসময়েরটা মনে রাখেন।  এরপর রাসুলুল্লাহ বাইদা উপত্যকা অতিক্রম করার সময়ও তালবিয়া পড়েছেন। এ সময় আরেকদল সাহাবী শুনতে পান। এভাবে পুরো সফরে খেদমতে একেক সময় সাহাবাদের একেক গ্রুপ থাকতো। তারা যে যেভাবে শুনেছেন তাই বর্ণনা করেছে। কারো বর্ণনাই ভুল নয়। তারা যে যেভাবে শুনেছেন সেভাবেই বলেছেন।



মতপার্থক্যের চতুর্থ কারণঃ

অনেক সময় ভুলে যাওয়ার কারণে মতপার্থক্য হত। মানুষ হিসেবে ভুলে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। যেমন, ইবনে উমর রা. বলেছিলেন রাসুলুল্লাহ সা. ওমরা করেছেন রজব মাসে। শুনে হযরত আয়েশা রা. বলেছিলেন, ইবনে উমর ব্যাপারটি ভুলে গেছেন।



মতপার্থক্যের পঞ্চম কারণঃ 

রাসুলুল্লাহ সা. এর বক্তব্যের সঠিক উদ্দেশ্য আয়ত্ত করতে বা ধরতে পারা না পারার পার্থক্য। যেমন ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন মৃত ব্যক্তির পরিবার পরিজন কান্না কাটি করলে মৃত ব্যক্তিকে আজাব দেওয়া হয়। এই বর্ণনা শুনে হযরত আয়েশা রা. বলেছিলেন এটা ইবনে উমরের ধারণা প্রসূত কথা। রাসুলের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য এবং পরিস্থিতি তিনি আয়ত্ত করতে বা ধরতে পারেন নি। আসল ঘটনা হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সা. এক ইহুদী মহিলার কবরের পাশ দিয়ে যাবার সময় দেখলেন তাঁর আপন জনেরা তাকে নিয়ে মাতম করছে। তিনি তখন বলেছিলেন, এরা এখানে তাঁর জন্যে কান্নাকাটি করছে অথচ তাঁর কবরে তো আযাব হচ্ছে। রাসুলের এই বক্তব্য ছিল সেই পরিস্থিতির জন্য। অতএব পরিস্থিতি জানলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এখানে রাসুলুল্লাহ সা. কান্নাকাটিকে আযাবের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নি।



মতপার্থক্যের ষষ্ঠ কারণঃ

কোন হুকুম বা বিধান দেয়ার পিছনে কি ইল্লত বা কারণ ছিল সেই ইল্লত বা কারণ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে মতভিন্নতা। যেমন পাশ দিয়ে লাশ অতিক্রম করার সময় দাড়ানোর হুকুম। এই হুকুমের কারণ হিসেবে কোন সাহাবী বলেছেন, এই দাড়ানোর হুকুম করার কারণ হচ্ছে ফেরেশতাদের সম্মান করা। কেননা প্রত্যেক লাশের সাথেই ফেরেশতা থাকে। আর কোন কোন সাহাবী এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, লাশ দেখে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে মৃত্যুর ভয়ের কারণে দাঁড়ানো। কারণ এই দুইটার যেটাই হোক, একই হুকুম। অর্থাৎ মুমিন হোক আর কাফের সব অবস্থাতেই দাড়ানোর হুকুম।
অন্যদিকে কোন কোন সাহাবী বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর সামনে দিয়ে লাশ অতিক্রম করার সময় দাড়িয়েছিলেন কারণ তিনি ইহুদীদের লাশ তাঁর মাথার উপর দিয়ে যাওয়াকে পছন্দ করেননি।
এটা যদি কারণ হিসেবে ধরা হয় তাহলে দাঁড়ানোর হুকুম শুধু কাফেরের লাশ অতিক্রম করার সময়ের সাথে নির্দিষ্ট।



মতপার্থক্যের সপ্তম কারণঃ 

কখনো সামঞ্জস্যবিধান করতে গিয়ে মতপার্থক্য হত। যেমন, রাসুলুল্লাহ সা. খাইবার যুদ্ধের মধ্যে মুতয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। এরপর তা আবার নিষেধ করে দেন। এরপর আওতাস যুদ্ধের মধ্যে পুনরায় আবার অনুমতি দেন এবং এবং যুদ্ধের পর অনুমতি প্রত্যাহার করে নেন।

এখন এই বর্ণনার প্রেক্ষিতে মুতয়া বিবাহের ব্যাপারে হযরত আব্বাস রা. এর মত হল, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে মুতয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সুতরাং এ অনুমতি প্রয়োজনের সাথে সম্পর্কিত। প্রয়োজন দেখা দিলে করা যাবে প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে তা নিষিদ্ধ। আর যেহেতু এখন আর সে প্রয়োজন নেই অতএব এখন নিষিদ্ধ।



কিন্তু জমহুর সাহাবীগণের মত এর বিপরীত। তাদের মতে অনুমতি ছিল মুবাহের পর্যায়ে। রাসুলুল্লাহ সা এর স্পষ্ট হাদিসের নিষেধাজ্ঞা এ অনুমতিকে স্থায়ীভাবে মানসুখ অর্থাৎ রহিত করে দিয়েছে। অতএব কোনভাবেই এখন আর এর অনুমতি নেই।

Monday, July 24, 2017

কায়রোর দিনলিপি (৮)

ভয়ংকর সেই মুহূর্তটা কিছুতেই মাথা থেকে সরাতে পারছিনা। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠছে। কয়েক সেকেন্ড আগে আমি তো ঠিক সেই জায়গা দিয়েই হেটে এসেছি।

সালাহ সালেম রোড। কায়রোর যে রাস্তাগুলো দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে গাড়ি চলাচল করে সেগুলোর একটি। বিষয়টা আমি দুর্ঘটনার পরে জেনেছি। তবে আমি এখনো জানিনা কেন যুবায়ের ভাইয়ের কথায় বিকল্প রাস্তায় না গিয়ে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আসলে ধারণাই করতে পারিনি যে এইভাবে রাস্তা পার হওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত এতটা মারাত্মক ফলাফল বয়ে আনতে পারে। বড় কথা হচ্ছে তাকদিরে ছিল।

রাস্তা পার হওয়ার সময় বারবার দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে। আর দুই পাশ দিয়ে সাঁইসাঁই করে পার হওয়া গাড়ির গতি দেখে ভেতরে ভয় ঢুকে যাচ্ছে। একটা গাড়ি একটু এদিক সেদিক হলে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আল্লাহর রহমতে আমি কোনভাবে পার হয়ে গেলাম।

পেছন ফিরে দেখি যুবায়ের ভাইও চলে এসেছেন প্রায়। এমন সময় দুই পাশ থেকে দুইটা গাড়ি প্রচন্ড গতিতে আসছিল। যুবায়ের ভাই তখন মাঝখানে যেভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন এতে ডান ও বাম পাশ দিয়ে অনায়াসেই গাড়ি দুইটা পার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে একটার চালক বেপরোয়া ছিল। জলজ্যান্ত একটা মানুষ যে সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেটা সে দেখতেই পেল না। এমনকি বাপাশের খালি জায়গাটাও তার চোখে পড়লোনা না। এবং সে গাড়ির গতিও কমালোনা। আর যুবায়ের ভাইও সেখানে স্থির দাঁড়িয়ে থাকলেন।

ফলাফল যা হল তার কয়েক সেকেন্ড আগেই আমার মনে হচ্ছিল খুব ভয়াবহ ধরণের একটা দুঃস্বপ্ন দেখছি। কারণ এখন ঠিক কি ঘটতে যাচ্ছে আমি বুঝে ফেলেছিলাম। এত মারাত্মক এক্সিডেন্ট দুঃস্বপ্নেও কখনো দেখেছি বলে মনে পড়েনা। চোখের একেবারে সামনে মুহূর্তের মধ্যে একটা ঝড়ের ঝাপটা বয়ে গেল। আমি হয়তো চিৎকার করে সরতে বলতে চেয়েছিলাম অথবা বাকরূদ্ধ হয়ে সেন্স হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি জানিনা কিছু করার ছিল কিনা।

শুধু তাকিয়ে দেখলাম যুবায়ের ভাই প্রথম ধাক্কায় উড়ে গিয়ে গাড়ির সামনের কাচের উপরে, এরপর আরো এলোপাথাড়ি সব ধাক্কা আর ওলটপালট, সবশেষে ছিটকে গিয়ে পড়লেন রাস্তায়। এ দৃশ্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। শুধু খেয়াল করলাম আমার শরীর প্রচন্ডভাবে কাঁপছে।

গাড়ি থামার সাথে সাথেই যুবায়ের ভাই উঠে গেলেন। আমি গিয়ে ধরার আগেই নিজে উঠে স্বাভাবিকভাবে রাস্তার পাশে এসে পড়লেন। যে দৃশ্য দেখেছি তার সাথে এই স্বাভাবিকতা মিলছে না। আমি সত্যিই ভাবিনি উনি এত কিছুর পর সোজা হয়ে দাড়াতে পারবেন। নিঃসন্দেহে হেফাজতের ফেরেশতাদের দিয়ে আল্লাহ একেবারে নিজ হুকুমে হেফাজত করে নিয়ে এসেছেন তাকে।

লোকটা গাড়ি থামালো। সামনের কাচটা যেদিক থেকে ভেঙেছে ঠিক সেইদিকের সিটটায় তার স্ত্রী বসেছিল। লোকটা নেমে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো সে কিছু শুনে নিজের অনুতাপ কমাতে চাইছে। কিন্তু ঘৃণায় আমাদের কিছু বলতেই ইচ্ছে করছিল না।
আরো মেজাজ খারাপ হচ্ছিল কারণ তাকে দেখে মনে হচ্ছিল না যে সে কোন সাহায্য করতে আগ্রহী। কিন্তু এরপরও সে কেন দাঁড়িয়ে ছিল সেটা পরে জানতে পারলাম। মামলা খাওয়ার একটা বড়সর ভয় ছিল। কায়রোতে এসব নিয়ম খুব কঠিন। এসময় সে যদি চলে যেত এবং পরে পুলিশ এসে আমাদের দেখতো তাহলে ক্যামেরায় খুজে বের করে হলেও অবশ্যই তার খবর করা হত। আর যেহেতু আযহারের ছাত্র এর উপর বিদেশী, তার জামিন পেতে বারোটা বাজতো।

আমরা তখন রাস্তার পাড়েই বসে আছি। হাত পায়ের কোথাও কোন সমস্যা হয়েছে কিনা আমি দেখতে বলছি বারবার। তখনও আমি প্রচন্ডভাবে কাপছি। হাতের ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছিল যুবায়ের ভাইয়ের। ড্রেসিংয়ের জন্য হসপিটালে যাওয়া দরকার। কিন্তু আশেপাশে কোন হসপিটাল চিনিনা আমরা। এমন সময় মিসরী এক যুবক গাড়ি থামিয়ে দেখতে এল। অবস্থা দেখে সাথে সাথে নিজের গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেল। সেখান থেকে ড্রেসিং করিয়ে একেবারে বাসায় নামিয়ে দিয়ে গেল আমাদের। হাসপাতালেই ডাক্তাররা বারবার জিজ্ঞেস করছিল একসিডেন্ট হয়েছে কিনা। যদি বলে দিতাম তাহলে ডাক্তার সাথে সাথে পুলিশ ডাকতো। কিন্তু আমরা এটা শেষ করতে চাচ্ছিলাম। শরীর তখনো কাপছে আমাদের।

প্রথম ধাক্কাতেই গিয়ে গাড়ির উপরে পড়ায় হয়তো এক্সিডেন্টটা মারাত্মক হয়নি। কোন হাড়ে আঘাত লাগেনি মনেহচ্ছে। সরাসরি কাচের উপর পড়ায় গাড়ির কাচ ভেঙে হাতে কাচ ঢুকে গেছে কিছু জায়গায়। এছাড়া ইনজুরী এখন পর্যন্ত তেমন সিরিয়াস মনে হচ্ছে না। তবে শরীরের কিছু জায়গায় ব্যথা অনুভব হচ্ছে আজকে। চেকআপ করানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দুয়া চাচ্ছি।

Saturday, July 22, 2017

মুফতি আমিনী রহ. এর রাজনীতি নিয়ে চুলকানিওয়ালাদের চুলকানী

মুফতি আমিনী রহ. এর রাজনীতি নিয়ে চুলকানিওয়ালাদের চুলকানী আবার চরমে পৌছেছে। কি লাভ হয় তাদের এইসব করে! দলের কর্মী কি দুয়েকজন বাড়ে!
মাঝখানে যাও একটু চুপ ছিল। আমাদের নেতাদের আওয়ামী প্রীতি আবার সেই দরজা ভালমতই খুলে দিল।

আসলে শাসনতন্ত্রের ভাইদের দোষ দিয়েই বা কি লাভ! মুফতি আমিনী রহ. এর আদর্শের রাজনীতি থেকে সরে আসার কারণেই তারা এভাবে পুনরায় গলাবাজি করার সুযোগ করে দিয়েছে। 

কিন্তু ভাইয়েরা! আপনাদের শাসনতন্ত্রের সাথে ঐক্যজোটের সাবেক কর্মীদের একটা মৌলিক পার্থক্য ধরিয়ে দেই। সাবেক এই জন্য বললাম, ঐক্যজোটে এখন কোন কর্মী নেই। নেতারা জোট থেকে বের হয়ে আসার পর এর সঠিক কোন ব্যাখ্যা না দিতে পারায় অনেকেই ছাত্র খেলাফতের রাজনীতি থেকে সরে এসেছে। কেউ নিষ্ক্রিয়তাকে বেছে নিয়েছে কেউবা ছাত্র জমিয়তে যোগ দিয়েছে নয়তো অন্যকোন ইসলামী রাজনৈতিক দলে। এখন কেন তারা শাসনতন্ত্রে গেল না এটা বুঝতে হলে আপনাদের সাথে তাদের মৌলিক পার্থক্যটা বুঝতে হবে।

আপনাদের অবগতির জন্য বলছি, যেদিন থেকে ঐক্যজোট নেতারা আওয়ামী সুরে দলীয় কার্যক্রম শুরু করেছে ঠিক সেদিন থেকেই দলের কর্মীরা সবাই তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করা শুরু করেছে। এই দ্বিমত পোষণের তালিকায় অধিকাংশ নেতারাই আছেন। কেউ কেউ পদত্যাগও করেছেন। তবে ফিতনার আশংকায় কেউ তেমনভাবে মুখ খোলেননি। কিন্তু এটা সত্য যে লালবাগের অনেক ছাত্র সাহস করে নেতাদের গিয়ে বলে এসেছে, "এটা আমিনীর আদর্শের রাজনীতি না, এটা শুধুই দালালী।"

অথচ নিজেদের দিকে দেখেন আমিনীকে নিয়ে অতীতেও আপনাদের বহুনেতা নেতারা ঘরোয়া মিটিংয়ে যা তা বলে বেড়িয়েছে তাদের কথার কোন প্রতিবাদ একটা কর্মীও করেনি। এটাই আপনাদের সাথে আমাদের মৌলিক পার্থক্য।

শুধুমাত্র এই কারণেই অনেকে আপনাদের কিছু দিক পছন্দ করার পরও আপনাদের সাথে যোগ দেয়ার কথা চিন্তা করেনা। আর এইসব ইখতেলাফি বিষয় নিয়ে যখন আপনারা দুনিয়া কাপানো পোষ্ট দেন তখন আবার একই মুখে ঐক্যের কথা বলাটাও স্ববিরোধী হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া হেফাজতের বৃহত্তর ঐক্যের প্লাটফর্মে আপনারা যা করেছেন সে ইতিহাস জাতি এত জলদি ভুলে যাবেনা।

একটু ঠান্ডা মাথায় একটা বিষয় বুঝার চেষ্টা করেন। সবসময় এইভাবে যুক্তি দিয়ে বারবার নিজেদের সঠিক দাবী করার মাধ্যমে যে আপনারা দুনিয়ার সবার কাছে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়ে যাবেন বিষয়টা কিন্তু মোটেও এমন না। এবং রাজনীতির নামে আপনারা যা করেন সেটাও তো অনেকের কাছেই দোষনীয়। তখন কতটা মজা পান আপনারা সেটা তো অন্যের সমালোচনা করার সময় মনে রাখা উচিত।

মুফতি আমিনী রহ. আমাদেরকে এসব নেতিবাচক এবং আক্রমণাত্মক সমালোচনা থেকে বিরত থাকতে শিখিয়ে গেছেন। সে কারণে আমরা পীর সাহেব চরমোনাইয়ের সিয়াসী মানহাজের হক্কানীয়্যত নিয়ে নেতিবাচক কোন প্রশ্ন তুলেছি এর নজির দেখাতে পারবেন না।

আসলে শাসনতন্ত্রের কর্মী পর্যায়ে ইদানীং ওলামায়ে কেরামের পদচারনা বাড়লেও দীর্ঘ একটা সময় এটা শূন্যতায় ভুগেছে। যার কারণে তাদের মানহাজী সিয়াসতের ইলমী জায়গাগুলোতে ব্যাপক কিছু সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাদের প্রবল বিশ্বাস যে দুনিয়ার সব মানুষকে শুধু শাসনতন্ত্রের সিয়াসী মানহাজ মেনেই রাজনীতি করতে হবে। অথচ একথা যে কুরআন হাদিসের কোথাও লেখা নেই এই ব্যাপারটা তাদের জ্ঞানের গন্ডিতে ধরতো না। তাই তারা এ কথাও বুঝতে সক্ষম হতোনা যে আজকে ওলামায় কেরামের ভেতর তাদের ব্যাপারে এতটা বিরূপ মনোভাব কেন।

রাজনীতির ন্যূনতম মোরাল এথিক্সগুলোও যদি জানা থাকে তাহলে এটাও জানা উচিত ছিল যে হকের পথে থাকা যেকোন ভিন্নমতকেও সম্মান প্রদর্শন করতে হয়। আর যদি আলেমদের বিশাল একটা অংশ এই মানহাজের অনুসরণ করে থাকে তাহলে তো তার হক্কানীয়্যত নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন যৌক্তিকতাই নেই। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল, বিগত দেড় যুগ ধরে তারা এর বিপরীত নীতির চর্চাই করে আসছেন। এভাবে নিজেরটা পুরা দুনিয়ার মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে গিয়ে শুধু বিভেদ সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই হয়নি।

মুফতি আমিনীর রাজনীতির মানহাজটা যে শাসনতন্ত্র থেকে ভিন্ন ছিল আর কত যুগ গেলে তারা এটা বুঝবে আল্লাহ ভাল জানেন। জোটের রাজনীতি করেই কেন আমিনী তার ইসলামী রাজনীতির ইতিহাসে অমর ব্যক্তিত্ব হয়ে রয়েছেন এবং থাকবেন এর কোন ব্যাখ্যাই কোনদিন তাদের মনে ধরবে বলে মনে হয়না। ফলাফলে যা দাঁড়াবে, সংঘাত বাড়বে। কারণ মুফতি আমিনী একমাত্র ব্যক্তি না যিনি জোটের রাজনীতি করেছেন। এখন বাংলাদেশে জমিয়তে ইসলামের মত একটি উল্লেখযোগ্য ইসলামীক দলও জোটের রাজনীতি করছে। এবং তারা নিজেদের জায়গায় সফলভাবে এগিয়েও যাচ্ছে।

হাস্যকর ব্যাপার হল, মুফতি আমিনীর ইন্তেকালের পর জায়গায় জায়গায় শাসনতন্ত্রী অনেক নেতাই মুফতি আমিনীর নাম নিয়ে তার জন্য মায়াকান্না করেছেন। হয়তো সেটা ছিল নিজের ওয়াজের কাটতি বাড়ানোর জন্য। তা নাহলে তার ছোট্ট কোন একটা অবদানের কথাও ইন্তেকালের আগে স্বীকার করতে এত কষ্ট কেন হত তাদের! এমনকি ২০১১ সালের ৪ই এপ্রিল কুরআনী আইন রক্ষার জন্য আমিনী সাহেব যখন হরতাল ডেকেছিলেন সেসময় "হরতাল হারাম" টাইপের আরো কত ফাতওয়া পোস্টারিং করে পর্যন্ত প্রচার করেছিল তারা। এসব কি মানুষ এত জলদি ভুলে গেছে!!!

এই মরা মানুষটাকে নিয়ে আর কতদিন বললে তাদের ক্ষোভ কমবে জানিনা। বলুক, যতখুশি বলতে থাকুক। সাথে এটাও লিখে রাখতে পারেন। তাদের এহেন গলাবাজিতে আমিনীর গায়ে কলংকের কোন দাগ লাগেনি, লাগবেনা কোনদিন।

The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...