Sunday, June 26, 2016

গেণ্ডারিয়া মসজিদে পুলিশি হামলা

লোকটা যখন পুলিশকে বললো "আমরা নামাজ পড়বো আপনি গুলি চালালে চালান" তখন তার কথায় বাংলাদেশের মুসলমানদের অসহায়ত্বের চিত্রই ফুটে উঠছিলো। কোথায় যেনো যুদ্ধটা চলছে কেউ ধরতেই পারছেনা। সবাই কিন্তু হেরে যাচ্ছে। আবার সেখানেই আরেকজন তখন বুকভরা সাহস নিয়ে বলে ওঠে "আরেহ, পিস্তল দেখায়েন না"। এ প্রতিবাদী বাক্যটা শেষমেশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা নিজেদের মাটিতেই দাঁড়িয়ে আছি।

সে এলাকায় হিন্দুদের সাতটা ঘরের জন্য সাতটা মন্দির থাকলেও মুসলমানদের পঞ্চাশটা ঘরের জন্য একটা মসজিদ ছিল না। তাই মুসলমানরা মিলে  নিজেদের জায়গায় একটা মসজিদ নির্মাণ করে নামাজ আদায় শুরু করে দিয়েছিলো। এরপর হিন্দুরা এসে নামাজে বাধা দিলো। আচ্ছা এটাকে কি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলা যাবে না? ওসিকে নিয়ে এসে পিস্তল দেখিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মুসলমানদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার মত ন্যক্কারজনক ঘটনা দেখে খুব কষ্ট লাগা এবং এর প্রতিক্রিয়া হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তাই এ ঘটনা যদি কোন দাঙ্গায় রূপ নেয় তখন ভালভাবে মনে রাখতে হবে যে সাম্প্রদায়িকতাটা আসলে কারা উষ্কে দিয়েছে!

যদি মেনেও নেই যে মসজিদটা হিন্দুদের জায়গার উপর করা হচ্ছিলো বলে তারা বাধা দিয়েছে তাহলে সেটা প্রমাণ করাটা বিচার-তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার না? কোন ধরনে সোর্স ছাড়াই পুলিশ এইভাবে মুসল্লিদের উপর এভাবে চার্জ করে কি করে? তাও আবার মসজিদে গিয়ে!

ঘটনা গতকাল জোহরের নামাজের সময়ের। আজ একদিন হতে চললো তাও এখন পর্যন্ত  কোন টিভি চ্যানেল এই নিউজটাকে কাভার করার মত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি। স্থানীয় লোকজনের মোবাইলের ক্যামেরায় ধারন করা দুএকটা ভিডিও দেখে কিছু জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতি আসলে কোনদিকে যাচ্ছে? এ অপরাধের প্রতিবাদ বা নিন্দাবাদ কোনটা জানানোর ক্ষমতাই কি নেই আমাদের? নাকি অন্য কোন শক্তি আমাদের দেশে হস্তক্ষেপ করার পথ সুগম হয়ে যাওয়ার ভয়ে চুপ করে বসে আছি? হুম্ম ভয় তো আছেই। প্রতিবাদ, আন্দোলন এসব করলে এখন 'জঙ্গি' ফাতওয়া আসতে পারে। জমিটা হিন্দুদের এটা প্রমাণ করা তাদের জন্য তেমন কষ্টকর কিছুনা। যেহেতু প্রশাসন সাথে আছে।

তো আমরা চুপই থাকি। কারণ চুপ করে বসে থাকলেই তো ভারতের জন্য বাংলাদেশে আসার পথ খুব বেশী দুর্গম হয়ে যাবে। যেমনিভাবে 'জঙ্গি ফাতওয়া'র পর আমেরিকার পথ তো বেশ দুর্গম হয়ে গেছে। তাদের এসব পথ দুর্গম করার স্বার্থে আমাদের আর অনেক কিছু দেখে চুপ থাকতে হবে।

Wednesday, June 22, 2016

ইসলামোফোবিয়া ও একটি এক্সপেরিমেন্ট

ইউরোপের কোন দেশে যদি কোন সাদা চামড়াওয়ালা ইসলামবিদ্বেষী পথেঘাটে জনসম্মুখে কোন মুসলিমের উপর জঙ্গি বলে আক্রমণ করে বসে এটা দেখে অন্যান্য পথচারীদের কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এর উপর মুসলিম ইউট্যুবার করিম সাহেব একটা এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। ভিডিওতে দেখা গেছে মুসলিম দম্পতিটাকে উগ্রবাদীদের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে নিজ থেকে এগিয়ে আসছেন অনেক পথিচারী। এমন কি একজন ইহুদী তো বেশ চটে গিয়ে পাল্টা হুমকিও দিয়ে ফেলেছে উগ্রবাদী উত্যক্তকারীদের। এ ভিডিওর মাধ্যমে তারা বুঝাতে চেয়েছে মুসলমানদের নামে আন্তর্জাতিক মিডিয়া যা কিছুই ছড়াক ইউরোপের মানুষের মধ্যে অপরাধবোধটা কিছুটা হলেও বাকি আছে এখনো।
এটা একটা অমুসলিম দেশের রমজান মাসের চিত্র। আচ্ছা ধরেন, এই নিরীক্ষাটা রমজানের শুরুতে যদি আমাদের দেশে চালানো হতো। কোন এক চৌরাস্তায় গোপন ক্যামেরা ফিট করা হলো। কি চিত্র ধরা পড়তো ক্যামেরায়? মানে, আমি সেই জঙ্গিসন্দেহে ধরপাকড়ের চিত্রের কথা বলছি যাদের সংখ্যা দুইদিনে হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

হ্যা, ইউরোপের মত কোন সাদাচামড়ার উগ্রবাদী এসে আক্রমণ না করলেও আপনার বন্ধু পুলিশ কিন্তু আপনাকে ছাড়তোনা। রোজা রেখে রাস্তায় বের হয়েছেন। ইফতারটা জেলে বসেও করা লাগতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে যদি আবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় তাহলে রাস্তায় চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী শাহি ইফতারগুলো একনজর দেখার সৌভাগ্য আপনার অর্জন হয়েও যেতে পারে। আবার ধরেন, আপনি রাতে মাদরাসার বোর্ডিং থেকে খানা এনে রেখেছেন সেহরী খাবেন বলে, পুলিশ সেহরীর টাইমে তল্লাশীর নামে ঢুকে আপনার সেহরী খেয়ে চলে গেল। এই ছোটখাটো ঘটনার নিন্দাবাদ বা প্রতিবাদ কোনটা করারই প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হবেনা আপনার। কারণ আপনার মাদরাসার একজন উস্তাদকে বিনাঅপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে তাতেই তো প্রতিবাদ হয়না এখন আর। 

আচ্ছা, অপরাধবোধের কথা বলছিলাম। হয়তো জঙ্গি ইস্যুটা রাজনৈতিক বলে সবাই অরাজনৈতিক থাকতে চায়। তাই এই অপরাধটা তারা বোধ করেনা। তাই প্রতিবাদও হয়না। তবে এই অরাজনৈতিক মানুষগুলা যখন আবার কোন শাহবাগী মতাদর্শীর জঙ্গিবিরোধী ফতুয়ার পক্ষে বিশাল স্ট্যাটাস দেয় কেবল মাত্র দেওবন্দী বলে তখন কি সেটাকে গোড়ামী বলতে হয়না? যাদের কমনসেন্স আছে তাদের কাছে বিষয়টা খুবই হাস্যকর। কারণ এই এইসব লম্বা স্ট্যাটাসে সাফাই গানেওয়ালারা নিজেরাও বুঝে না যে এই সো কল্ড ফতুয়ার রাজনীতিকরনের মাধ্যমে তাকেই জঙ্গি বানানো হচ্ছে।
এটা তখনকার অবস্থা বলছি যখন ধরপাকড়ের ফতুয়া রিলিজ হয়নাই। আর এখন তো ধরপাকড়রের বৈধতায় এই বাংলার লাখো আলেমেদের সাক্ষরিত ফাতওয়ার ফ্রী কপি প্রশাসনের কাছে মওজুদ। সো এখন বৈধতার সহিত আপনাকে জঙ্গি সাব্যস্ত করা হবে। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি...

Monday, June 13, 2016

বেড়ালটা আমার ছিল

তারাবীহ শেষে রুমে ঢুকতে দেরী মাগার আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উনার দেরী হয়না। এরপর শুরু হয় নখগুলো হালকা বের করে আদুরে খামচি আর হাতে দাত বসিয়ে রাখা। আমার অপরাধ হল দীর্ঘ সময় উনার সাথে দেখা না করে থাকা। অবশ্য আমাকে দেখা মাত্রই উনি সর্বদা এই কাজই করে থাকেন। তাই গত একমাস ধরে মাদরাসায় একটা গুজব রটেছে। এই বিড়ালটা নাকি আমার। আমি অস্বীকার করিনি। কারণ বেশ ভাল একখানা নাম পেয়েছি উনার কল্যাণে। তবে এটা আমার মালিকানাধীন না হলেও পরিক্ষার সময় থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত উনার পেছনে খরচ কম হয়নি। প্রতিদিন হাফ কেজি দুধ। যদিও বেশিটুকু আমারই খেতে হয়েছে। তখন একটা উদ্দেশ্য অবশ্য ছিল। মোবাইলে এটার ছবি দেখে ছোট বোন বারবার করে বলছিলো এটাকে বাসায় নিয়ে যেতে। কিন্তু পারমিশন নিতে গেলে আম্মু পাঠায় আব্বুর কাছে, আর আব্বু পাঠায় আম্মুর কাছে। শেষমেশ বেচারী হাল ছেড়ে দিয়েছে।
গতকাল একজন এসে খুব ভয় দেখিয়ে বললো, বিড়ালের কামড় খাওয়ার পর ভেক্সিন না নিলে যেই রোগ হয় সেই রোগ আর সেরে ওঠার সম্ভাবনা নাই। তার মানে হচ্ছে আমি কিছুদিনের মধ্যে মারা গেলেও যেতে পারি। এটা নিয়ে আমার তেমন মাথাব্যথা নেই। মরলে মরলাম।
কিন্তু কিউট বিড়ালটার এই কুকীর্তির কথা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়াতেই যত সমস্যা বেধেছে। কত করে বলেছিলাম, "ব্যাটা যা করবি কর। কিন্তু প্রমাণ রাখিস না।" শুনলোই না আমার কথা। নানুবাসায় সেদিন দুই হাতে কামড় আর খামচির দাগ দেখে আম্মু নানীর কাছে বিচার দিলো। কেন আমি এখনো ডাক্তার দেখাচ্ছিনা।
নানী অভিযোগ শুনে যা বললেন,
"ছোট বেলায় শুনছিলাম, বিলাইয়ের কামড় খাইলে চকির নিচে পলায়া নুন খাইতে হয়। তাইলে ভাল হয়া যায়, কিন্তু তুই চকি পাবি কই? এখন তো সবখানেই বক্স খাট"। এ কথা শুনে সবাই হাসতে হাসতে আমার কেসটা হালকা করে দিয়েছিল।
ব্যাপার হলো, সে তো আমাকে আদর করেই কামড়ায়। যদিও মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়ার কারণে দাগ বসে যায়। সেটা তো একান্তই তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। মানুষের মত নিষ্ঠুর প্রাণীর ভালবাসায় মরার নিয়ম থাকলে বিড়ালের মত কিউট প্রাণীর ভালবাসার মরার নিয়ম কেন থাকবেনা!

এই বিড়ালের সাথে বিচ্ছেদের ঘটনাটা খুব মজার ছিল। ঘটনা হচ্ছে, রাসেল সেদিন তারাবী পড়ে এসে বিছানায় বসে দেখে কে যেন খেজুর রেখে দিয়েছে। রমজান মাস খেজুর এদিক সেদিক থেকে আসতেই পারে। কিন্তু খেজুরটা হাতে নেয়া মাত্রই যে তাঁর সন্দেহ হয়েছিল সেই স্পন্দেহ দূর করতে কি সে অই খেজুরটা নাকের কাছে নিয়েছিল কিনা আমি জানি না। তবে সে মুখে দেয়ার আগেই নিশ্চিত হয়েছিল যে এটা সেই বেড়ালের পেট থেকে বের হওয়া মলমূত্র সেটা আমি জানি। এরপর দরজাটা আটকে পুরা রুমে বেশ ভালমত ধাওয়া দিল কতক্ষণ। শুনতে নির্মম শুনালেও রাসেলের অবস্থা ভেবে শুধু হাসিই আসছিল তখন। এরপর থেকে বেড়ালটা আর রুমে ঢুকতোনা। দরজার পাশে উকি দিলেই আমানুল্লাহ "রাসেল!" বলে চিৎকার দিত। সাথে সাথে আর তাকে কে পায়। কঠিন দৌড়।

মিসর আসার কিছুদিন আগে ঠিক এক বছর পর বেড়ালটার সাথে আবার দেখা হয়েছিল। রুমের সামনের টেবিলটার নিচে এসেছিল কোত্থেকে যেন। আমি আগের মত ডাকলাম। কিন্তু সে কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল। টেবিলের নিচ থেকে বের হতে দেখলাম না। নিচে তাকিয়েও দেখলাম। সেখানেও নেই। বেড়ালটা আমার ছিল আসলে, এখন আর নেই।

Monday, June 6, 2016

তারাবীহ ২০১৬

বড় মসজিদে তারাবীহ পড়ানোর সুযোগ পাওয়াটা একদিকে যেমন সম্মানের,অন্যদিকে ঠেলাও কম না। এসব মসজিদ কমিটির চৌদ্দজনের চৌদ্দরকম বক্তব্য থাকে। যদি তারতীলের উপর আমল কখনো একটু বেশী হয়ে যায় তখন বলবে "আরে হাফেজ সাব! আজকে এত টাইম লাগলো যে? অসুস্থ নাকি আপনে?"

তবে আমাদের শাহী মসজিদের একটা ভাল দিক হল এখানে মুসল্লীরা তারাবীহ বলতে কেবলই তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়াটাই বুঝে না। তাই এখানকার বেশিরভাগ মুসল্লিই তারতীলের সাথে পড়ার পক্ষে। এবং মসজিদ কমিটির মেজরিটির বক্তব্য হল "কারো জলদি পড়বার মুন চাইলে এখানে কিল্লেগা, আরো মোজ্জিদ আছে, অইখানে জাউজ্ঞা" (ঢাকাইয়া টোন হবে  )। 
তাই কোনদিন স্পীড একটু বেড়ে গেলেই এসে জিজ্ঞেস করা শুরু করবে "কি অইলো হাফেসসাব? কেউ কি আপনেরে কিছু কইছে? কারো কথায় কান দিবেন না। আপনে আপনের "অই পড়াটাই" পড়বেন"। 

আমার এই "অই পড়াটা" নাকি তাদের খুব পছন্দের। যেটা একটু তারতীলের সাথে পড়ার চেষ্টা করি। সমস্যা হল, প্রথম সাত বছর যেসব মসজিদে পড়িয়েছিলাম সেগুলোর প্রায় সবখানেই মুসল্লিদের কাছে তারাবীহর নামাজের অর্থ হচ্ছে "যে নামাজ তাড়াতাড়ি পড়া হয়"। তাই দুবছর আগে যখন এখানে পড়ানো শুরু করেছিলাম তখন তারতীলের উপর আমল করতে বেশ কষ্টই হয়ে গিয়েছিল। তার উপর আবার এখানে পিছনে মুসল্লিদের বড় একটা অংশ হাফেজ। আবার এমন এক জায়গায় দাড়ানোর সৌভাগ্য হয়েছে যেখানে হাফেজ্জী হুজুর আর ঢাকবী হুজুরদের মত ব্যক্তিত্বরা দাড়িয়েছিলেন। এটা আবার অনেকেই মনে করিয়ে দিত। যাতে শুকরিয়া আদায় করি। সেটা আদায় তো করতামই তবে সাথে নার্ভাসও হতে থাকতাম। তো সব মিলিয়ে প্রথম বছরটা পা কাপতে কাপতেই কেটে গিয়েছিল।

এরপর গত বছর থেকে আলহামদুলিল্লাহ কিছুটা অভ্যস্ত হতে শুরু করেছি। নার্ভাসনেসও কেটে গেছে অনেকটা। 
এখন দোস্ত ও বুজুর্গদের কাছে দুআর আবেদন। দুআ করবেন, আল্লাহ যাতে এবছরও সুন্দরভাবে পড়ানোর তৌফিক দেয়।

Monday, May 30, 2016

আই এম জিপিএফাইভঃ একটি স্যাটায়ার

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সকলেরই জেনে রাখা প্রয়োজন। 

GPA5এর নতুন ফুলফর্ম ইনভেন্ট করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে "গেটিং পয়েন্ট"। এটা আমাদের দেশের সদ্যজিপিএফাইভপ্রাপ্ত
কৃতিসন্তানদের উদ্ভাবিত ফুলফর্ম। পুরাতন ব্যাখ্যা তারা কেন গ্রহণ করবে? তারা নতুন প্রজন্ম না? তাছাড়া শিক্ষাদীক্ষার দিক থেকেও তারা পূর্ববর্তীদের তুলনায় অগ্রগামী। বিশ্বাস না হলে তাদের রেজাল্ট দেখেন!!! 
এরপরও যদি এতটুকু ক্রিয়েটিভিটি মেনে নিতে না পারেন তাইলে তো মিয়া আপনে ব্যাকডেটেড। এই প্রজন্ম তখন আপনাকে সংকীর্ণমনা বলতে বাধ্য হবে।

আচ্ছা, মাছরাঙ্গার সেই ক্লিপ থেকে আরো কিছু ক্রিয়েটিভ তথ্য পাওয়া গেছে। একটু সদিচ্ছা থাকলেই কিন্তু এসব তথ্যের যুগোপযোগী ব্যাখ্যা দেয়া যায়। দরকার কিন্তু.. 

SSCএর ফুলফর্ম হচ্ছে "জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট"। কাহিনীটা হল, এখনকার 
SSCএর সার্টিফিকেট দিয়ে যে এর চেয়ে উপরের লেভেলের কিছু আশা করাটা বোকামী এই বিষয়টা বাংলার কৃতিসন্তান-সন্ততিরা হয়তো বুঝতে পেরেছেন। 
তাই এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে নিজ দায়িত্বে একটা নতুন সংজ্ঞা দাড় করিয়ে নিয়ছেন। আবার কারো কারো মতে ফুলফর্মটা আসলে হবে 
"স্কুল সেকেন্ডারী সার্টিফিকেট।" অবশ্য এই গভীর সংকটাপন্ন অবস্থায় এতটুকু আগপিছ তো মেনে নেয়াই যায়।

"আমি জিপিএ৫ পেয়েছি" এটার ইংরেজি অনুবাদ নিয়েও জিপিএ ফাইভপ্রাপ্ত "মুজতাহিদদের" মাঝে কিঞ্চিত ইখতেলাফ রয়েছে।
কারো মতে "I am GPA5"। এই বাক্যটা যে কতটা বিশুদ্ধ ও সাহিত্যপূর্ণ সেটা বূঝতে হলে অবশ্যই বালাগতের "যায়েদুন আদলুন" এর কায়েদাটা জানা থাকতে হবে।
করণ অর্থটা তখন এমন হবে যে, সে এতটাই যোগ্য যে তার সত্ত্বাটাই আস্ত একখানা 'জিপিএফাইভ" এ রূপ নিয়েছে।
আর কারো মতে ইংরেজি অনুবাদটা হবে 'I give GPA5" এটাও কিন্তু ভুল বলা যায় না। তখন ব্যাখ্যাটা হবে,
এত্তো এত্তো জিপিএফাইভ তিনি পেয়েছেন যে এখন লোকজনকে দিয়ে বেড়াচ্ছেন। 

একজন ম্যাডামের মতে অপারেশন সারচলাইটের অর্থ হচ্ছে "অপারেশনের সময় যেই লাইট দিয়ে সার্চ করা হয়"। যেহেতু তিনি এই প্রজন্মের তাই
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তিনি অবশ্যই ধারণ করেন। অতএব এটারও ব্যাখ্যা আছে। 
ম্যাডাম এখানে শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য নিয়েছেন। শব্দের সাথে পারিভাষার একটা যোগসূত্র থাকেই। পাকিস্তানী বাহিনীরা তো আর রাতের আঁধারে লাইট না জ্বালিয়ে হামলা করতে আসে নাই তাই না? গ্রো আপ ম্য্যান...

স্বাধীনতা দিবস এক বর্ণনামতে ১৭ই আগস্ট (ক্লোজ এনাফ  ) আরেক বর্ণনামতে ৬ই ডিসেম্বর। আর বিজয় দিবস- ২৬এ ডিসেম্বর। ভাই থামেন! ভুল ধরার আগে লজিকটা শুনেন।
আগে স্বাধীনতা দিবস হয়, এরপরই বিজয় দিবস হয়। ইটজ সো লজিক্যাল। মানতে না পারলে কিচ্ছু করার নাই।

"জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন কাজী নজরুল।" হয়তোবা লিখছিলেন। পরে রবীন্দ্রনাথ সেইখানেও পদকের মতই কোন ঘটনা ঘটাইছে। সম্ভব কিন্তু!

"নেপালের রাজধানী নেপচুন।" এটা অবাক হওয়ার মত কোন ঘটনা না।
হতে পারে নতুন নামকরন হয়েছে। অথবা রাজধানী পরিবর্তনের নতুন আপডেট এখনো
জনসাধারণের কাছে এসে পৌঁছেনি।
অথবা এটাও সম্ভব যে, সে শিক্ষার্থী পৃথিবীর বাইরের কোন নেপালের কথা বলছিলো।
যেটা জগতের সাধারণ বিজ্ঞানীদের পক্ষে অবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। থিঙ্ক পজিটিভ। একটু পজিটিজ চিন্তা করতে পারলেই কিন্তু আমরা 
তাদের ক্রিয়েটিভিটা ধরতে পারবো।

সাংবাদিক সাহেব এইসব অমুল্য ক্রিয়েটিভ তথ্যগুলো উদ্ধার করে জাফ্রিকবাল স্যারকে অবহিত করার পর স্যার অনেকগুলো
"তারমানে" থেকে যেই ফাইনাল "তারমানে"টা বের করে আনলেন সেটা হল 
"এই জিপিএ ফাইভটা সত্যইকারের জিপিএ ফাইভ না 
যেটা তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।" 

স্যারের এহেন উক্তি শুনে আমি শুধু নির্বাক তাকিয়েই রইলাম। একি করলেন স্য্যার! এমন ব্যাপক পঁচানি খাওয়ার পরও প্রজন্মকে বাচানোর মত কোন ব্যাখ্যাই তিনি দিলেন না!!!
এই প্রজন্ম এখন "আই হেইট পলিটিক্স" এর কি ব্যাখ্যা করবে? অবশ্য মুজতাহিদ যেহেতু.. করে নেবে একটা ইজতেহাদ।
কিন্তু স্যারই এখন আর মাদরাসার ব্যাকডেটেড পোলাপানগুলারে কিভাবে প্রগতী শিখাবে... শুধুই করুণা... 

Sunday, May 22, 2016

যেবার আমি দুইমাস পর বাসায় গেলাম

আব্বু এটা বার্থডে গিফট হিসেবে না দিলেও আমি কিন্তু গিফট হিসেবেই নিলাম। বেশী পছন্দ হয়ে গেছে জিনিষটা। ডার্ক ব্রাউন কালারটা এত্তো সুন্দরী কেন!!! একদম মাক্ষন পুরা। খায়া ফালাইতে ইচ্ছা করতাসে।

দীর্ঘ দুই মাস পর বাসায় আসলে একটু অধিক আদর যত্ন তো আমি ডিজার্ভ করতেই পারি। তো গতরাতে যখন সেটা চলছিলো, তখনই মাথায় আসলো যে এটা একটা সুবর্ণ সুযোগ বড়সড় কিছু আবদার করে বসার। জিনিষটা এমনিতেও দরকার ছিল। আম্মুকে মনে করিয়ে দিলাম যে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই উনার ছেলের তেইশ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। আব্বু যদি বারণ করে বসেন তাহলে উনার ছেলের আগামীকালকের বয়সটা স্মরণ করিয়ে দিবেন। ছেলে এখন কিন্তু আর ছোট নাই।

তবে আব্বু তো আব্বুই। রীতিমত তারাবীহর অজুহাত দেখিয়ে বললেন "সারাবছর তো তেলাওয়াত করোনা, এই কয়টাদিন ভালমত ইয়াদ করো। যা লাগবে রমজানের পর"।
কথাটা আব্বু খারাপ বলেন নাই। কিন্তু ল্যাপটপটাও যে লাগবে আমার। এইসব ক্ষেত্রে আম্মুই শেষ ভরসা। তাই শেষমেশ আম্মুর মাধ্যমে বিলটা পাশ করানো হলো।
সো হাফ ক্রেডিট গোজ টু আম্মু আর বাকি হাফ... আচ্ছা সেটা আব্বুকেই দেই..

Friday, May 20, 2016

ফারাগাত ও বিদায়ী স্মৃতি

১০ই এপ্রিল ২০১৬।
সবক শেষে মিষ্টি খাওয়ানোর দিন ...



আচ্ছা, যাদের পর্যন্ত বক্স পৌঁছাইতে পারিনাই তারা আপাতত দেইখাই চোখের ক্ষুধাটা মিটায় রাখেন। 
তবে আজকে বিশেষ আফসোস করার মত কোন ঘটনা ঘটে নাই। টাঙ্গাইলের সামান্য চমচম, এই আর কি।
আগামী ২৯ তারিখ স্পেশাল দাওয়াত আছে। সেদিন আমাদের বিদায় দেয়া হবে। সেইদিন আসবেন। কিছু আনন্দ আর বিরহ ভাগাভাগি করবোনে। 

তবে টেনশনের বিষয় হইলো আরও একটা দিন এইভাবে যাবে।
একটা দিন যে এখন কত মূল্যবান সেটা বুঝি যখন সারাদিনে একটাবারও নিউজফিড চেক করার কথা মনে পড়ে না। আসলে এইসব বিদায়ের ফরমালিটির জন্য আলাদা একটা বছর দরকার। আর সেইটা অবশ্যই আফটার অর বিফোর বেফাক। মিষ্টি খাওয়াইতে গিয়া আজকে আধাদিন ওয়েস্ট, একমাসও নাই পরিক্ষার। 
দোয়ার দরখাস্ত


এরপর ২২শে এপ্রিল। খতমে বুখারীর দাওয়াতের কার্ড হাতে আসলো...


এইগুলা খতমে বুখারীর দাওয়াতের কার্ড। মাত্র দশটা আছে এখানে। সবাইকে দিতে গেলে আরো অনেকগুলা লাগবে। কার্ডগুলা সুন্দর হইছে। নিজের কাছেই রাইখা দেওয়ার মত। ছোটবেলায় এমন সুন্দর কার্ড পাইলে জমাইতাম।
আচ্ছা গল্প বাদ। এখন পড়ালেখায় ব্যস্ত আছি, দাওয়াতের কার্ড পৌছানোর সময়টাও নাই। 

যদি আমি ফোন দিয়ে দাওয়াত দেয়ার সময় না পাই তাহলে কার্ড দেখে নিজ দায়িত্বে দাওয়াতটা গ্রহণ কইরা নিবেন কিন্তু...

এরপর খতমে বুখারী, পরিক্ষা।
এরপর...
বিদায়...
২০শে মে



শাহী মসজিদের বড় গেটের সামনে দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় পথচারীরা হয়তো আজকে বেশ অবাকই হয়েছে। হয়তো ভাবছিলো, হুজুররা এভাবে কাঁদছে কেন? কেউ মারা গেছে নাকি?
এখন আর মাত্র কয়েকজন আছে, বাকিরা সবাই একে একে বিদায় নিয়ে গেছে সকাল থেকে। একটু আগে যখন দুজনকে এগিয়ে দিতে গিয়ে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে রিকশা ঠিক করছিলাম, তখন মনে হচ্ছিলো আকাশ বুঝি আমাদের দেখেই কাঁদছে। তখন যারা বিদায় দিচ্ছিলো কিছুক্ষণ পর তারা নিজেরাই বিদায় নিয়ে ফেলেছে। একজন  বলছিলো, "যাওয়ার সময় এত খারাপ লাগবে জানলে  জীবনে কারো সাথে হয়তো এতটা বন্ধুত্বই করতাম না।" তাহলে কি শুধু ঝগড়াই করতাম? কিন্তু আজকের এই সময়টায় এসে তো সেই ঝগড়াঝাঁটি আর খুনসুটিগুলোই বেশি মনে পড়ছে।
গতরাতে কেউ ঘুমায়নি। সারারাত বসে শেষবারের মত একটু গল্প করেছিলাম। কত স্মৃতি, কত হাসিকান্না, দৃশ্যপটে পুরো সময়টা ভেসে বেড়াচ্ছিল। এই স্মৃতিচারণের ব্যাপারটা বোধহয় কিছুটা আত্মঘাতী ছিল। যার ফলে সবার এভাবে চলে যাওয়াটা কিছুতেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না। সম্পর্কের গভিরতাগুলো আগে কখনো এতটা উপলব্ধি করার সুযোগ পাইনি। আপন কোন ভাই নেই আমার। তাই জানিনা যে নিজের আপন ভাইয়ের বিচ্ছেদেও মানুষ এভাবে কাঁদে কিনা।
এতগুলো বছর একসাথে পড়ালেখা, ক্লাসের ফাঁকে মাসআলার ইখতেলাফ নিয়ে হুজুরের তাকরীরের উপর ঝগড়া বাধিয়ে দেয়া, আবার কখনো আড্ডাবাজি, ক্লাস না থাকলে সেই সুদূর সোহরাওয়ার্দীর  "আবুধাবী"তে গিয়ে ক্রিকেট খেলা, কুরবানীর বন্ধে দলবেধে দূরের সফরে যাওয়া, আর অল্পতেই খুনসুটি, মারামারি, এসব কিছুর সেই সোনালী মুহুর্তগুলো নিয়ে এখন চাইলেও আর কারো সাথে গল্প করা যাবে না। চাইলেও এই দীর্ঘ সময়ের বন্ধুত্বগুলোকে এখন আর প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবোনা। স্বার্থপর দুনিয়াটা কিছুদিনের মধ্যে সবাইকে ব্যস্ত করে ফেলবে। দীর্ঘ সময়ের এ স্মৃতিগুলোকে মলিন করে ফেলবে। এটাই সত্য কথা। এটাই বাস্তবতা। যাওয়ার সময় সান্তনা দিতে গিয়ে অনেকেই বলছিলো "আরেহ! কিসের বিদায়! আবার তো দেখা হবেই"। কিন্তু এই মিথ্যা কথাটা তো মানুষ শেষ দেখার সময়ও বলে।


এরপর সিলেট... শেষ সফর... বিদায়ী সফর

কয়েকটা দিন বৃষ্টির ছোয়া পাওয়ার পর বিছানাকান্দি আর রাতারগুল যে ভয়ংকর সুন্দর রূপটা ধারণ করে সেটা দেখার সুযোগ আসার পরও মিস করার মত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আমার জীবনে ঘটতে দিতে চাইনা বলেই কেবল মাত্র ৩০০ দিনেরও কম ব্যবধানে একই জায়গায় তিন তিনটা সফর.... কান্ট হেইট ইউ সিলট.....

ট্যুরের সিদ্ধান্তটা হুট করেই হয়েছে। কথা হচ্ছে, পরিক্ষার পর এই হালকা রিফ্রেশমেন্টটা দরকার ছিল খুব। এসে মনে হচ্ছে না খুব বেশী লস করে ফেলেছি। সিলেটের আকাশটা সত্যিই অসম্ভবরকম সুন্দর লাগছ আজকে। ঢাকার ঝড় বৃষ্টির তেমন প্রভাব নেই এখানে। তবে হালকা মেঘ জমবে মনে হচ্ছে। যেটা খুব করে চাচ্ছি। 

ক্লাসমেট ফ্রেন্ডগুলোর সাথে এটাই হয়তো শেষ সফর। থাক.. দুঃখটা ফেরার সময় করবোনে। আই বেটার ট্রাই টু লিভ ইন দা মোমেন্ট। দিনটা ভাল যাবে মনে হচ্ছে...


The word of Shaykhul Azhar about Corona victim

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব তাদের কিছু ব্যয়ভার বহন করা যারা এই রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ লকডাউনে ঘরে আটকা পড়ার কারণে হ...